Image description

শেষ পর্যন্ত সিলেট-৩ আসনও ছাড় দিতে হয়েছে জামায়াতে ইসলামীকে। এ খবরে ক্ষোভ বেড়েছে সিলেট জামায়াতে। দলের অভ্যন্তরে দেশ-বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। নেট দুনিয়ায় সিলেট জামায়াতের কর্মকাণ্ড নিয়ে খোদ কর্মীরাই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুধু এই ক্ষোভেই শেষ নয়। দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দিতে বাড়ি জামায়াত প্রার্থী লোকমান আহমদের। সেখানে দুপুরের পর থেকে নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। লোকমান তখন বাড়িতেই ছিলেন। মনোনয়ন তুলতে দেয়া হবে না- এমন পণ করেন তারা।

এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েন সিলেট জামায়াতের নেতারা। বিকাল পৌনে ৩টার দিকে সিলেট নগর জামায়াতের আমীর মো. ফখরুল ইসলাম মানবজমিনকে জানিয়েছেন- সিলেট-৩ আসন ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এরপরও আমরা চেষ্টায় আছি আসনটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে রাখতে। এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। দেখি কি করা যায়। এদিকে বিকালে সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার পর্ব শেষ করার পর মো. ফখরুল ইসলাম জানিয়েছেন- সিলেটের ৬টি নির্বাচনী আসনে ১০ দলীয় জোটের একক প্রার্থী ক্লিয়ার হলেন। এখন থেকে আমরা একযোগে ১০ দলের নেতারা প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে কাজ করবো।

সিলেটের ৬টি নির্বাচনী আসনের মধ্যে তিনটি আসন ছেড়ে দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সর্বশেষ বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হককে সিলেট-৩ আসনটি ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ আসনে তাদের দলের প্রার্থী মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু। আল্লামা গহরপুরী (রহ.) সন্তান হলেও তিনি এবার নবাগত প্রার্থী। প্রায় দুই মাস আগে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসে যোগদান করেন। আর তাকেই ট্রাম্পকার্ড হিসেবে জোটের কাছে উপস্থাপন করেন মাওলানা মামুনুল হক। শেষ পর্যন্ত দর কষাকষিতে মামুনুল হকের প্রার্থীই পান এ আসনের মনোনয়ন। এর আগে সিলেটে জামায়াতে ইসলামী শরিক দল খেলাফত মজলিসকে দুটি আসনে ছাড় দিয়েছে। 

সিলেট-২ আসনে তারা খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মুনতাসির আলী ও সিলেট-৫ আসনে মুফতি আবুল হোসেনকে ছাড় দেয়া হয়। ফলে আসন ভাগাভাগিতে সিলেটে জামায়াতে ইসলামীকে তিনটি আসন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হলো। জামায়াতের রেখে দেয়া আসনের মধ্যে যারা প্রার্থী রয়েছেন তারা হচ্ছেন সিলেট-১ আসনে জেলার আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, সিলেট-৪ আসনে জেলার সেক্রেটারি জেনারেল জয়নাল আবেদীন, সিলেট-৬ আসনে ঢাকা উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন। সিলেটে জামায়াতের আসন ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নাটকীয়তার অন্ত ছিল না। বিশেষ করে শরিকরা একেক আসনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে রাখেন। এতে করে জামায়াত নেতারা চূড়ান্ত দরকষাকষিতে বিব্রত হন বলে জানিয়েছেন নেতারা। যে কারণে এবারের নির্বাচনে তাদের শক্তিশালী প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ, অধ্যাপক আব্দুল হান্নান ও হাফিজ আনোয়ার হোসেন খানকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট-৩ আসনটি তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ আসনে তাদের প্রার্থী মাওলানা লোকমান আহমদ দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন। আসনটি ছেড়ে দেয়ার পর জামায়াত নেতাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। প্রকাশ্যেই সিলেট জামায়াতের সমালোচনা করছেন কর্মী, সমর্থকরা। বিষয়টিকে তারা ইতিবাচক হিসেবে নিতে পারছেন না বলে জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিলেট নগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম জানিয়েছেন- সিলেটের ৬টি আসনের মধ্যে একটি আসন চেয়েছিল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। সেটি শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এতে আমরা খুশি। আশা করি গহরপুরী (রহ.) সন্তান মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজুকে নিয়ে এবারের নির্বাচনীতে জয়ী হতে পারবো। খেলাফত মজলিসের সিলেট জেলার সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদ জানিয়েছেন- জেলার ৬টি আসনের মধ্যে দুটিতে ১০ দলের পক্ষে আমাদের প্রার্থী রয়েছেন। এ কারণে আমরা বাকি চারটি আসনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছি।