১৯৫ আসনে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় পার্টি। এ ছাড়া আরও ২টি আসনের সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ রেখেছে দলটি। দীর্ঘদিনের নীরবতা শেষে সামনে আসেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি গণভোটে ‘না’ দেয়ার আহ্বান জানান এবং অভিযোগ করেন তার নেতাকর্মীরা নির্বাচনী কাজে ভয়ে অংশ নিতে পারছেন না।
মঙ্গলবার বিকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি ও জাতীয় পার্টির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জিএম কাদের একথা বলেন। তিনি বলেন, এই গণভোট পুরোপুরি সংবিধানবিরোধী এবং অবাস্তব। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশ গভীর রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে ক্ষমতায় এসেও এমন এক প্রক্রিয়ায় হাত দিয়েছে যার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। তিনি দাবি করেন, সংবিধান অনুযায়ী কেবল একটি নির্বাচিত সংসদই নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধন করার ক্ষমতা রাখে। সাধারণ মানুষের কাছে জটিল সব বিষয় নিয়ে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ জানতে চাওয়া অযৌক্তিক এবং এটি বাস্তবায়ন করা কার্যত অসম্ভব।
প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জিএম কাদের বলেন, প্রধান নির্বাহীকে পুরোপুরি ক্ষমতাহীন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা সম্ভব নয়। স্বৈরাচার ঠেকানোর নামে যদি সরকারের ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হয় তবে দেশ অচল হয়ে পড়বে। ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি কিন্তু ক্ষমতা পুরোপুরি হরণ করলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে দেশ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জাতীয় পার্টির মতো অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দলের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। তাদের দীর্ঘদিনের সংসদীয় অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও কোনো আলোচনা করা হয়নি। এই কারণেই জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে এই গণভোট প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দেশের স্বার্থে জনগণকে ‘না’ ভোট দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করার ঘোষণা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রার্থীরা ভয়ে মাঠে কাজ করতে পারছেন না। আমাদেরকে ভোট দেবেন অনেকে বলছেন। এই ভোটারদেরও হুমকি দেয়া হচ্ছে। ভোট দিলে মিথ্যা মামলা দিয়ে অ্যারেস্ট করা হবে, এমন হুমকিও দেয়া হয়েছে। অনেক পুলিশও বলছেন, আপনারা মাঠে কাজ করতে আসলে আপনাদের অ্যারেস্ট করতে হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ৩০০ আসনের বিপরীতে আমাদের ১৯৫ জনের মনোনয়ন বৈধ হয়েছে। আরও ২ জনের আবেদন অপেক্ষমাণ আছে। আমরা নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে নানানভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। আমাদেরকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার প্রয়াস লক্ষ্য করছি।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আমরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলে চেষ্টা করলে আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাবো। আমাদের তিনজন কারাবন্দি অবস্থায় নির্বাচন করছেন। তাদের মামলা থেকে জামিন দেয়ার পর আবার মামলা দেয়া হয়েছে। আরও অনেকের নামে মিথ্যা মামলা আছে। তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট পর্যন্ত হয় নাই।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টি মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। তালিকা অনুযায়ী লুৎফর রহমান পঞ্চগড়-২, নুরুন নাহার বেগম ঠাকুরগাঁও-২, হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ ঠাকুরগাঁও-৩, মো. শাহিনুর ইসলাম দিনাজপুর-১, মো. জুলফিকার হোসেন দিনাজপুর-২, আহমেদ শফি রুবেল দিনাজপুর-৩, মো. নুরুল আমিন শাহ দিনাজপুর-৪, মো. কাজী আব্দুল গফুর দিনাজপুর-৫, মো. রেজাউল হক দিনাজপুর-৬, মো. তসলিম উদ্দিন নীলফামারী-১, রোহান চৌধুরী নীলফামারী-৩, মো. সিদ্দিকুল আলম নীলফামারী-৪, মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা লালমনিরহাট-১, মো. এলাহান উদ্দিন লালমনিরহাট-২, মো. জাহিদ হাসান লালমনিরহাট-৩, মঞ্জুম আলী রংপুর-১, আনিসুল ইসলাম মণ্ডল রংপুর-২, গোলাম মোহাম্মদ কাদের রংপুর-৩, আবু নাসের শাহ মো. মাহাবুবুর রহমান রংপুর-৪, এস এম ফখর উজ জামান রংপুর-৫, মো. নুর আলম মিয়া রংপুর-৬, এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম-১, পনির উদ্দিন আহম্মেদ কুড়িগ্রাম-২, আব্দুস সোবহান কুড়িগ্রাম-৩, কে এম ফজলুল মণ্ডল কুড়িগ্রাম-৪, শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১, মো. আব্দুর রশীদ সরকার গাইবান্ধা-২, মাইনুর রাব্বী চৌধুরী গাইবান্ধা-৩, কাজী মো. মশিউর রহমান গাইবান্ধা-৪, শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-৫, শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ্ বগুড়া-২, মো. শাহিনুল ইসলাম বগুড়া-৩, শাহীন মোস্তফা কামাল বগুড়া-৪, আফজাল হোসেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, মো. খুরশিদ আলম চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, মো. আকবর আলী নওগাঁ-১, মো. মাসুদ রানা নওগাঁ-৩, মো. আলতাফ হোসেন নওগাঁ-৪, মো. আনোয়ার হোসেন নওগাঁ-৫, মো. আফজাল হোসেন রাজশাহী-৩, মো. ফজলুল হক রাজশাহী-৪, মো. ইকবাল হোসেন রাজশাহী-৬, মো. কবির উদ্দিন (কমল) নাটোর-২, মো. আশিক ইকবাল নাটোর-৩, এম ইউসুফ আহমেদ নাটোর-৪, মো. জহুরুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ-১, মো. ফজলুল হক সিরাজগঞ্জ-৩, মো. হিল্টন প্রামাণিক সিরাজগঞ্জ-৪, মো. আকবর হোসেন সিরাজগঞ্জ-৫, মো. মোক্তার হোসেন সিরাজগঞ্জ-৬, মো. মেহেদী হাসান রুবেল পাবনা-২, মীর নাদিম মোহাম্মদ ডাবলু পাবনা-৩, মো. সাইফুল আজাদ মল্লিক পাবনা-৪, মো. আব্দুল বাকী মেহেরপুর-২, মো. শাহরিয়ার জামিল কুষ্টিয়া-১, মনিকা আলম ঝিনাইদহ-১, সওগাতুল ইসলাম ঝিনাইদহ-২, এমদাদুল ইসলাম বাচ্চু ঝিনাইদহ-৪, মো. মোস্তফা জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল যশোর-১, মো. খবির গাজী যশোর-৩, মো. জহুরুল হক যশোর-৪, এমএ হালিম যশোর-৫, জিএম হাসান যশোর-৬, মো. জাকির হোসেন মোল্লা মাগুরা-১, মশিয়ার রহমান মাগুরা-২, মো. মিল্টন মোল্লা নড়াইল-১, খন্দকার ফায়েকুজ্জামান নড়াইল-২, স ম গোলাম সরোয়ার বাগেরহাট-১, সাজন কুমার মিস্ত্রি বাগেরহাট-৪, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন খুলনা-১, মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন খুলনা-৩, শামীম আরা পারভীন ইয়াসমিন খুলনা-৫, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর খুলনা-৬, জিয়াউর রহমান সাতক্ষীরা-১, মো. আশরাফুজ্জামান সাতক্ষীরা-২, মো. আলিপ হোসেন সাতক্ষীরা-৩, মো. আব্দুর রশীদ সাতক্ষীরা-৪, আব্দুল লতিফ ফরাজি বরগুনা-২, আঃ মান্নান হাওলাদার পটুয়াখালী-১, মো. আকবর হোসেন ভোলা-১, এড. মো. জাহাঙ্গীর আলম রিটু ভোলা-২, মো. কামাল উদ্দিন ভোলা-৩, মো. মিজানুর রহমান ভোলা-৪, এমএ জলিল বরিশাল-২, গোলাম কিবরিয়া টিপু বরিশাল-৩, আখতার রহমান বরিশাল-৫, মো. কামরুজ্জামান খান ঝালকাঠি-১, মাশরেকুল আজম রবি পিরোজপুর-৩, এ কে এম ফজলুল হক জামালপুর-১, মীর সামসুল আলম জামালপুর-৩, মো. মাহমুদুল হক মনি শেরপুর-১, মো. এমদাদুল হক খান ময়মনসিংহ-২, আবু মো. মুসা সরকার ময়মনসিংহ-৪, মো. জহিরুল ইসলাম ময়মনসিংহ-৭, ফকরুল ইমাম ময়মনসিংহ-৮, হাসমত মাহমুদ ময়মনসিংহ-৯, মো. আল আমিন (সোহান) ময়মনসিংহ-১০, মো. আনোয়ার হোসেন খান নেত্রকোণা-১, এবিএম রফিকুল হক তালুকদার নেত্রকোনা-২, আবুল হোসেন তালুকদার নেত্রকোনা-৩, মো. আফজাল হোসেন ভূঁইয়া কিশোরগঞ্জ-২, মো. আবু বকর সিদ্দিক কিশোরগঞ্জ-৩, মো. মাহবুবুল আলম কিশোরগঞ্জ-৫, মো. আউয়ূব হোসেন কিশোরগঞ্জ-৬, মো. ইলিয়াছ হোসেন টাঙ্গাইল-১, মো. হুমায়ূন কবীর তালুকদার টাঙ্গাইল-২, মো. লিয়াকত আলী টাঙ্গাইল-৪, মো. মোজাম্মেল হক টাঙ্গাইল-৫, মোহাম্মদ মামুনুর রহীম টাঙ্গাইল-৬, মো. নাজমুল হাসান টাঙ্গাইল-৮, এসএম আব্দুল মান্নান মানিকগঞ্জ-২, আবুল বাশার বাদশা মানিকগঞ্জ-৩, মো. নোমান মিয়া মুন্সীগঞ্জ-২, মো. আরিফুজ্জামান দিদার মুন্সীগঞ্জ-৩, মো. নাসির উদ্দিন মোল্লা ঢাকা-১, মো. ফারুক ঢাকা-৩, মীর আব্দুস সবুর ঢাকা-৫, আমীর উদ্দিন আহমেদ (ডালু) ঢাকা-৬, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন ঢাকা-৭, মো. জুবের আলম খান ঢাকা-৮, কাজী আবুল খায়ের ঢাকা-৯, বহ্নি বেপারী ঢাকা-১০, শামীম আহমেদ ঢাকা-১১, সরকার মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ঢাকা-১২, মো. হেলাল উদ্দিন ঢাকা-১৪, মো. সামসুল হক ঢাকা-১৫, মো. সুলতান আহমেদ সেলিম ঢাকা-১৬, আতিক আহমেদ ঢাকা-১৭, মো. জাকির হোসেন ঢাকা-১৮, মো. বাহাদুর ইসলাম ঢাকা-১৯, আহসান খান ঢাকা-২০, এসএম শফিকুল ইসলাম গাজীপুর-১, মো. মাহবুব আলম গাজীপুর-২, মো. নাজিম উদ্দিন গাজীপুর-৩, এনামুল কবির গাজীপুর-৪, ডা. মো. সফিউদ্দিন সরকার গাজীপুর-৫, মোহাম্মদ মোস্তফা জামান নরসিংদি-১, এএনএম রফিকুল আলম সেলিম নরসিংদি-২, একেএম রেজাউল করিম নরসিংদি-৩, মো. কামাল উদ্দিন নরসিংদি-৪, মেহেরুন নেসা খান হেনা নরসিংদি-৫, মো. ছালাউদ্দিন খোকা নারায়ণগঞ্জ-৪, খন্দকার হাবিবুর রহমান রাজিবাড়ী-১, মো. শফিউল আজম খান রাজবাড়ী-২, সুলতান আহম্মেদ খান ফরিদপুর-১, রায়হান জামিল ফরিদপুর-৩, সুলতান জামান খান গোপালগঞ্জ-১, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মিন্টু মাদারীপুর-১, মো. মহিদুল ইসলাম মাদারীপুর-২, জসিম উদ্দিন শরীয়তপুর-২, মো. আব্দুল হান্নান শরীয়তপুর-৩, মো. নাজমুল হুদা সুনামগঞ্জ-৪, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম সুনামগঞ্জ-৫, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান সিলেট-৩, মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান সিলেট-৪, মোহাম্মদ আব্দুন নূর সিলেট-৬, আহম্মেদ রিয়াজ উদ্দিন মৌলভীবাজার-১, মো. আব্দুল মালিক মৌলভীবাজার-২, মোহাম্মদ জরিফ হোসেন মৌলভীবাজার-৪, আব্দুল মুক্তাদির চৌধুরী হবিগঞ্জ-২, আব্দুল মুনিম চৌধুরী হবিগঞ্জ-৩, মো. শাহ আলম ব্রহ্মণবাড়িয়া-১, এড. মো. জিয়াউল হক মৃধা ব্রহ্মণবাড়িয়া-২, মো. রেজাউল ইসলাম ভূঞা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩, মো. জহিরুল হক খান ব্রহ্মণবাড়িয়া-৪, সৈয়দ মো. ইফতেখার আহসান কুমিল্লা-১, মো. আমির হোসেন কুমিল্লা-২, মো. এমরানুল হক কুমিল্লা-৫, এইচএমএম ইরফান কুমিল্লা-৮, মো. গোলাম মোস্তফা কামাল কুমিল্লা-৯, মো. মইন উদ্দিন কুমিল্লা-১১, হাবিব খান চাঁদপুর-১, মো. এমরান হোসেন মিয়া চাঁদপুর-২, মাহমুদ আলম চাঁদপুর-৪, মির্জা গিয়াস উদ্দিন চাঁদপুর-৫, মোতাহের হোসেন চৌধুরী ফেনি-১, মো. আবু সুফিয়ান ফেনী-৩, মো. নুরুল আমিন নোয়াখালী-১, মো. শাহাদাৎ হোসেন নোয়াখালী-২, মো. শরিফুল ইসলাম নোয়াখালী-৪, খাজা তানভীর আহাম্মদ নোয়াখালী-৫, এটিএম নবী উল্লাহ নোয়াখালী-৬, মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান মাহমুদ লক্ষ্মীপুর-১, একেএম মহিউদ্দিন লক্ষ্মীপুর-৩, সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন চট্টগ্রাম-১, মো. মেহেদী রাসেদ চট্টগ্রাম-৭, মোহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চট্টগ্রাম-১০, আবু তাহের চট্টগ্রাম-১১, ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১২, আবদুর রব চৌধুরী চট্টগ্রাম-১৩, মোহাম্মদ বাদশা মিয়া চট্টগ্রাম-১৪, মো. মাহমুদুল করিম কক্সবাজার-২, মিথিলা রোয়াজা খাগড়াছড়ি, অশোক তালুকদার রাঙ্গামাটি এবং আবু জাফর মোহাম্মদ ওয়ালী উল্লাহ বান্দরবান।