Image description
প্রতীক বরাদ্দ আজ

শেষ হচ্ছে অপেক্ষা। আনুষ্ঠানিক ভোটের প্রচারে নামছেন প্রার্থীরা। আজ থেকে শুরু হচ্ছে মাঠের যুদ্ধ। গতকাল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন অনেক প্রার্থী। বিশেষ করে দুই প্রধান নির্বাচনী জোটের অনেক প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এসব প্রার্থী সরে দাঁড়ানোয় অনেক আসনে এখন এই দুই জোটের একক প্রার্থী মাঠ তাতাবেন। কোনো কোনো আসনে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীও আছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আজ প্রার্থীদের নামে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামীকাল থেকে শুরু হবে প্রতীক নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচার।

রাত ১২টা থেকেই অনলাইনে প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা। মাঠের প্রচার শুরু হবে সকাল থেকে। বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হচ্ছে সিলেট থেকে। বৃহস্পতিবার সিলেটের হযরত শাহজালাল ও শাহ পরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে দলীয় প্রচারণা শুরু করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় প্রচার শুরু করবেন বলে জানা গেছে।  

এদিকে গতকাল সারা দেশের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে ভোটে অংশ নিতে অনিচ্ছুক প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। এর মধ্যে ঢাকা জেলার ২০টি আসনে ১৬২ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছিল, তাদের মধ্যে ২৭ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। ফলে ঢাকার ২০ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থী থাকলেন ১৩৫ জন। সোম ও মঙ্গলবার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকা জেলা প্রশাসক ও ঢাকা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা হয়।

সেগুনবাগিচার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২১ জন, ঢাকা আঞ্চলিক রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ২ জন এবং ঢাকা জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে ৪ জন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের দেয়া তথ্যে দেখা যায়,  ঢাকা-৫ আসনে ৪ জন, ঢাকা- ৬-এ ১ জন, ঢাকা-৭ এ ২ জন, ঢাকা ৯-এ ২ জন,  ঢাকা ১০-এ ২ জন, ঢাকা-১২ আসনে ১ জন, ঢাকা ১৬ আসনে ২ জন, ঢাকা ১৭ আসনে ২ জন এবং ঢাকা ১৮ আসনে ৫ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন অথাৎ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। 

বিভাগীয় কমিশনারের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ২ জন, খেলাফত মজলিসের ৫ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২ জন, জামায়াতে ইসলামীর ২ জন, গণসংহতি আন্দোলনের ১ জন, স্বতন্ত্র ১ জনসহ বিভিন্ন দলের ২১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ঢাকা-৯, ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী কবির আহমদ ও মোহাম্মদ আশরাফুল হক মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাছাড়া এনসিপি মনোনীত ঢাকা-৫ ও ঢাকা-৭ আসনের দু’জন প্রার্থী এস এম শাহরিয়া ও তারেক আহমেদ আদেল মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। 

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১৬ অনুচ্ছেদে দলীয় মনোনয়ন ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিধানে বলা হয়েছে, বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী তার সইযুক্ত কোনো লিখিত নোটিশের মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত দিন বা তার আগে নিজে অথবা লিখিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের নিকট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করতে পারবেন।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে দশটি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ১২ প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এসব প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর চট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১ জনে। প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্বাচন কমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। ১৬টি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১, ৩, ৪, ১০, ১৪ ও ১৫ আসনে কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। কুমিল্লায় ১১টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে ১০ জন তাদের শেষ দিনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে তারা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মু. রেজা হাসান।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে কুমিল্লার ১১টি আসনে মোট ১০৭টি জমা পড়ে। এর মধ্যে ৭৬টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গণ্য হয়। বাতিল হয় ৩১টি। পরে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল হয় ২৮টি। কমিশন থেকে বাতিলের বিরুদ্ধে ১৪টি আবেদন মঞ্জুর হলে মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়ায় ৯০। সর্বশেষ ২০শে জানুয়ারি মোট ১০ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিলে বর্তমানে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০ জনে। 

উল্লেখ্য, কুমিল্লা ৪ এবং কুমিল্লা ১০ আসনে বিএনপি মনোনীত দু’জন প্রার্থীর মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট রয়েছে। তবে আদালতের ফল জানার আগ পর্যন্ত সেগুলো বাতিল বলেই তালিকাভুক্ত হয়েছে।

নোয়াখালীর ছয়টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৪৭ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নোয়াখালীর ছয়টি নির্বাচনী আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীসহ পাঁচজন প্রার্থী নিজেদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নোয়াখালী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নোয়াখালীর ছয়টি আসনে মোট ৪৭ জন বৈধ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। 

ইসি’র তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ঠা জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে এক হাজার ৮৪২টিকে বৈধ এবং ৭২৩টিকে বাতিল ঘোষণা করেছিলেন। তফসিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে গত রোববার আপিল নিষ্পত্তি শেষ হয়। ইসি’র কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫টি আপিল আবেদন দায়ের করা হয়। এর মধ্যে আপিল মঞ্জুর হয়েছে ৪২৫টি। এ ছাড়া ২০৯টি আপিল নামঞ্জুর করা হয়েছে। আর ১১টি আপিল প্রত্যাহার করা হয়েছে।