Image description
 

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত র‌্যাব-৭ এর ডিএডি মোতালেব হোসেনের স্ত্রী শামসুন্নাহারের বুকফাটা আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। 

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-৭ এর সদর দপ্তর পতেঙ্গায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। 

তিনি বলেন, আমার স্বামী দেশপ্রেমিক ছিলেন। দেশকেই বেশি ভালোবাসতেন। পরিবারের চাইতে দেশকেই বেশি সময় দিতেন। দেশপ্রেমিক হওয়ার কারণেই কি তাকে এভাবে হত্যা করা হলো। তার ওপর অবিচার করা হলো। দেশপ্রেমিক মানুষকে এভাবে হত্যা করা হলে আর কেউ কি সৈনিকের চাকরি করবে? 

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীর হাড়গোড় সবকিছু ভেঙে ফেলা হয়েছে। পুরো শরীরটাই বাঁকা হয়ে গেছে। পিঠে কোপ এবং গুলির চিহ্ন ছিল। রক্ত ঝরছিল। 

তিনি স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। হামলাকারী সন্ত্রাসীদের ফাঁসি দাবি করেন।

সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকার পিলখানার কাছে অবস্থিত বাসায় টেলিভিশনের স্ক্রলেই তিনি প্রথম স্বামী হত্যার দুঃসংবাদটি দেখতে পান। খবর পেয়ে ছেলেমেয়েদের নিয়ে রাতেই ছুটে আসেন চট্টগ্রামে। তার সঙ্গে ছিলেন বড় ছেলে মেহেদি হাসান ভুঁইয়া এবং দুই মেয়ে শামিমা জান্নাত ও ইশরাত জাহান মুনতাহা। মেহেদি তেজগাঁও কলেজে পরিসংখ্যান বিভাগে অনার্স প্রথমবর্ষে পড়ছেন। শামিমা দশম শ্রেণি এবং মুনতাহা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। 

মায়ের আর্তনাদের সময় মুনতাহাকে দেখা গেছে তার মাকে সান্ত্বনা দিতে।  

মোতাহেরের ছেলে মেহেদি হাসানও তার বাবার হত্যাকারীদের শাস্তি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আমরা  স্বাধীন দেশে বাস করছি- এমনটাই ভাবতাম; কিন্তু স্বাধীন দেশে এভাবে একজন মানুষকে হত্যা করা হবে সেটা কল্পনা করিনি।  তিনি পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে র‌্যাব-বিজিবিতে একটি চাকরি প্রদানের জন্য সরকারের কাছে  আবেদন জানান।