১২ বছরেও অনার্স শেষ করতে না পারা মানসুরা আলম হলেন 'বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ' ক্যাটাগরিতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট মেম্বার। ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এমন একটি ফটোকার্ড প্রকাশ করে Bengalwave নামক ফেসবুক পেজ থেকে। দেখুন এখানে,
রাত ৯টায় ‘দীর্ঘ এক যুগেও অনার্স শেষ করতে না পারা মানসুরা আলম হলেন ‘বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ' ক্যাটাগরিতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট মেম্বার’ শিরোনামে ফটোকার্ড প্রকাশ করে the narrative. দেখুন এখানে। এমন আরও পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের পোস্ট দেখুন এখানে।
তবে বেঙ্গল লেন্স ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হয়েছে, সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৬-এর সংসদ সদস্য ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আক্তার (মানসুরা আলম নামে পরিচিত হলেও অফিশিয়াল নাম মানসুরা আক্তার) অনার্স শেষ করেছেন। এবং বর্তমানে তিনি আইন বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের সাথে মাস্টার্স তথা এলএলএম এ অধ্যয়নরত আছেন।
এছাড়া মানসুরার মাস্টার্স পরীক্ষার এডমিট কার্ডের একটি কপিও হাতে এসেছে বেঙ্গল লেন্সের।

এ বিষয়ে মানসুরা আক্তার বেঙ্গল লেন্সকে জানিয়েছেন, তিনি মাস্টার্স তথা এলএলএম করেছেন ‘স্পেশালাইজড ইন ইন্টারন্যাশনাল এনভায়রনমেন্টাল ল’ এর ওপর। তবে গত ৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া মাস্টার্স পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। আরও ২টি কোর্সের পরীক্ষা বাকি আছে।
আলোচনার সূচনা যেখান থেকে
২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৬-এর সংসদ সদস্য মানসুরা আক্তার রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ক্যাটাগরিতে আগামী দুই বছরের জন্য তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মানসুরা আক্তার ছাড়া আরও ২ জন এ ক্যাটাগরিতে দায়িত্ব পেয়েছেন। তারা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জি এম শফিউর রহমান।
এরপর থেকেই মানসুরা আক্তার নিজেই এখনো অনার্স শেষ করতে পারেননি- এমন আলোচনা শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
যার সূত্র হিসেবে ব্যবহার হয়েছে ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট রুপালি বাংলাদেশে “১৩ বছরেও অনার্স শেষ করতে পারেননি ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা” শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন। যেখানে উল্লেখ করা হয়, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের ২০১২-১৩ সেশনের শিক্ষার্থী এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতি মানসুরা আক্তার ১৩ বছরেও তার অনার্স শেষ করতে পারেননি। ডাকসুর চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তার নাম দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের।” এ সংক্রান্ত আরও প্রতিবেদন দেখুন এখানে।
সংবাদটিতে মানসুরা আক্তারের ভোটার তালিকা নাম থাকার প্রমান যুক্ত করা হয়। তালিকা অনুযায়ী মানসুরা আক্তারের ভোটার নং: শন-০০২৬৯, সেশন: ২০১২-১৩, আইন বিভাগ, আন্ডারগ্রাজুয়েট ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

হাসিবুল ইসলাম হৃদয় নামে এক শিক্ষার্থী এ সংক্রান্ত সংবাদট ফেসবুকে শেয়ার দিয়ে লিখেছেন, “এমন দৈন্যতা এ জাতির সর্বশেষ কবে হয়েছিলো? বছরের পর বছর বিশ্ববিদ্যালয় পাশ না করা ব্যাক্তিরা হয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্য!”