পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে ভূমিধস জয় পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমান বহুগুণ ছাড়িয়ে এই বিজয়ের ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। এই বিপুল ভোটে জয়ের পর রাজ্যের পরবর্তী প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন—এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনটি নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্র পাল এবং রূপা গাঙ্গুলী। তবে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে অগ্রগামীদের মধ্যে রয়েছেন বিজেপির বর্ষীয়ান নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। আসানসোল দক্ষিণ আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তাপস ব্যানার্জীকে ৪০ হাজার ৮৩৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
জানা গেছে, গত ৫ মে অগ্নিমিত্রা দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে দেখা করেন। কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তা স্পষ্ট নয়, তবে বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি এখন কলকাতায় ফিরে আসছেন বলে জানা গেছে।
কে এই অগ্নিমিত্রা পাল
বিপুল জনসমর্থনসহ একজন বিশিষ্ট নারী নেত্রী হিসেবে এই ফ্যাশন ডিজাইনার ও রাজনীতিবিদ এখন রাজ্যে বিজেপির সরকার গঠনের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। তিনি বর্তমানে আসানসোল দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৯ সালে রাজনীতিতে যোগদানের পর থেকে দলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছেন তিনি। ফলে চলতি বছরের শুরুতে দলের রাজ্য ইউনিটের সহসভাপতির পদ পান তিনি।
রাজনীতিতে যোগদানের আগে অগ্নিমিত্রা পাল একজন ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে সফল কর্মজীবন অতিবাহিত করেছেন। তিনি ‘ইঙ্গা’ নামে নিজের প্রতিষ্ঠান চালাতেন। শ্রীদেবী ও মিঠুন চক্রবর্তীসহ বলিউডের তারকাদের জন্য পোশাক ডিজাইন করেছেন। ইন্ডাস্ট্রিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আগে তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার পাশাপাশি ফ্যাশন নিয়েও অধ্যয়ন করেন।
১৯৭৪ সালের ২৫ নভেম্বর আসানসোলে জন্মগ্রহণকারী অগ্নিমিত্রা শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসকদের পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তিনি বানওয়ারিলাল ভালোটিয়া কলেজ থেকে ১৯৯৪ সালে স্নাতক ডিগ্রি এবং ১৯৯৭ সালে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। তিনি উদ্যোক্তা পার্থ পালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সায়োনি ঘোষকে পরাজিত করে নির্বাচনি অঙ্গনে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর থেকে তিনি বিজেপির একজন সোচ্চার নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। প্রতিবাদ ও তৃণমূল স্তরের প্রচারাভিযানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। অগ্নিমিত্রা পাল রাজ্যে বিজেপি মহিলা মোর্চার নেতৃত্ব দেওয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ভূমিকাও পালন করেছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অগ্নিমিত্রা আসানসোল উপনির্বাচন ও মেদিনীপুর লোকসভা নির্বাচনসহ উচ্চ-স্তরের নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তার নির্বাচনি প্রচারণায় পশ্চিম বর্ধমান অঞ্চলের শিল্প স্থবিরতা ও নারী সুরক্ষার মতো স্থানীয় বিষয়গুলো ব্যাপকভাবে প্রাধান্য পেয়েছিল। প্রচার অভিযান চলাকালে তিনি আসানসোলে তার গাড়িবহরে হামলার খবর জানান এবং এটিকে শাসক দলের ‘নির্বাচনী হতাশার’ লক্ষণ বলে অভিহিত করেন।
সূত্র: এনডিটিভি, নিউজ ১৮