Image description
শেষ মুহূর্তে যত কাণ্ড

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি মাত্র আট দিন। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দেড় বছর পার হওয়ার পর শেষ সময়ে এসে তড়িঘড়ি করে শিক্ষা আইন ২০২৬ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গত রবিবার রাত ১১টায় মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খসড়া প্রকাশ করা হয়।

এতে মতামত দেওয়ার সময় রাখা হয়েছে মাত্র পাঁচ দিন। সময়ের স্বল্পতা নিয়ে ইতোমধ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। খসড়ায় নোটবই বা গাইডবই ব্যবসার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তির বিধান না থাকায় অভিভাবকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এর আগে ২০১১ সালে শিক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। দীর্ঘ ১৪ বছরেও নানা কাটাছেঁড়া আর খসড়া তৈরির বাইরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, নোট-গাইড ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের তদবিরে আইনটি আলোর মুখ দেখেনি। আওয়ামী আমলের প্রস্তাবিত খসড়ায় নোট বা গাইডবই মুদ্রণ ও বাজারজাত নিষিদ্ধ করে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। এমনকি শিক্ষক বা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নোট-গাইড কিনতে বাধ্য করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা ছিল। তবে বর্তমান খসড়ায় সে ধরনের কোনো শাস্তির বিধান নেই।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শেষ সময়ে এসে এমন উদ্যোগ হাস্যকর। শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাত্র পাঁচ দিনের মতামত সময় রাখা বেমানান। নোট-গাইড প্রণয়নকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান না থাকলে আইনটি লোক দেখানোতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। সর্বশেষ খসড়ায় বলা হয়েছে, সরকার কোচিং সেন্টার, সহায়ক বই ও প্রাইভেট টিউশন নিয়ন্ত্রণে বিধিমালা করবে এবং ধাপে ধাপে নিরুৎসাহিত করে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এসব কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া নতুন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যাবে না। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান একীভূত করার ক্ষমতাও থাকবে সরকারের হাতে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাল সনদ ব্যবহার, শারীরিক শাস্তি, মানসিক নিপীড়ন ও বুলিংকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণা বাধ্যতামূলক করা এবং অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতির বিষয়ও যুক্ত করা হয়েছে খসড়ায়।

খসড়া নিয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।