Image description
চট্টগ্রামে জামায়াত আমীর

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে বলেছেন, মাঘ মাসে মাথা যদি এত গরম হয় চৈত্র মাসে যাবে কই? মাথা ঠাণ্ডা রাখো ভাই। যখন মাথা গরম হয় তখন তারা অনেক সময় বউকে মা বলে সম্বোধন করে বসে। আগামীর বাংলাদেশ গড়বে যুবকরা। যুবকরা ঘুমিয়ে পড়েনি। সোমবার দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া এসিএম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, চব্বিশ না হলে ছাব্বিশ হতো না। যারা চব্বিশকে স্বীকার করে তাদের জন্যই ছাব্বিশ এসেছে। আর যারা চব্বিশকে স্বীকার করে না, তাদের জন্য ইনশাআল্লাহ লাল কার্ড। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি পথ খুঁজে পাবে। বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করবে না। চব্বিশের বিপ্লব সফল করতে মা-বোনদের অবদান অপরিসীম বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বোনদের গায়ের ওপর হাত তোলা হলো, সেদিন সারা বাংলাদেশে যেন আগুন জ্বলে উঠলো। পরদিন সারা দেশে ছয়জন বীর শহীদ হলো। রংপুরে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বললো, বুকের ভেতর দারুণ ঝড়- বুক পেতেছি গুলি করো। বীরেরা কখনো পালায় না। বীরেরা হয় বিজয়ী হয়, নয়তো গুলি খেয়ে শাহাদত বরণ করে।

জামায়াত আমীর বলেন, আওয়ামী লীগের পাচার করা টাকা যেখানেই থাকুক না কেন, তা উদ্ধার করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হবে। প্রয়োজনে পেটের ভেতর হাত ঢুকিয়েও সেই টাকা বের করে আনা হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই দালালমুক্ত বাংলাদেশ, চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই দুর্নীতিবাজমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই মামলাবাজমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই ব্যাংক ডাকাতমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা চাই ঋণখেলাপিমুক্ত বাংলাদেশ। আমরা একটা মানবিক বাংলাদেশ চাই। তারা রায় অলরেডি দিয়ে দিয়েছে, ১২ তারিখ ইনশাআল্লাহ তা-ই হবে।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, আমি বিএনপিতে ছিলাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আমি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে গিয়েছিলাম। সেখান থেকেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যে টাকা পাচার করেছে, তা দেশে থাকলে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হতো। আওয়ামী লীগের জায়গায় এখন বিএনপি কাজ করছে। তারা ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করতে চায়। বর্তমান বিএনপি আর জিয়া ও খালেদা জিয়ার বিএনপি নয়। এটি এখন ভাড়াটিয়া ও চাঁদাবাজদের দলে পরিণত হয়েছে। এই চাঁদাবাজির কারণেই আমি দল ছেড়েছি। তাদের সঙ্গে থাকলে দুদকে যেতে হতে পারে। জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন- জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম, জামায়াত নেতা হামিদ হোসেন আজাদ, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান, চট্টগ্রাম-১২ আসনের প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম এবং বান্দরবান আসনের এনসিপি প্রার্থী এস এম সুজাউদ্দিন। একইদিন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান কক্সবাজারের মহেশখালী, কক্সবাজার সদর, সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকায় পৃথক ৪টি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।

যেখানেই নির্বাচন, সেখানেই হারু পার্টি 
এর আগে দুপুর দেড়টায় কক্সবাজার পৌর শহরের বাহারছড়ায় মুক্তিযোদ্ধা (গোলচক্কর) মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, এটা ৮, ১৪, ১৮ বা ২৪ সালের নির্বাচন নয়। এটা নির্বাচন হচ্ছে জাতীর দিক পরিবর্তনের নির্বাচন। জুলাই বীরদের প্রত্যাশা পূরণের নির্বাচন। মা-বোনদের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন। শিশুর স্বপ্ন মেলে ধরার নির্বাচন। পচা ঘুনেধরা ৫৪ বছরের যে রাজনীতি দফায় দফায় ফ্যাসিবাদের জন্ম দিয়েছে, সেই রাজনীতিকে বিদায় জানানোর, লাল কার্ড দেখানোর নির্বাচন। ইনশাআল্লাহ, ১২ তারিখ এদেশের আপামর জনগণ লাল কার্ড দেখাবে, ইনশাআল্লাহ। আজকের যে উত্থান, জনস্রোত যেটা আপনারা লক্ষ্য করছেন, এটা শুধু কক্সবাজার নয়, এটা এখন ৫৬ হাজার বর্গমাইলের একই দৃশ্য। এর আগে জুলাই তরুণরা জাতিকে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে যে, আমরা আছি ইনসাফের পক্ষে, আমরা পুরনো রাজনীতির পক্ষে নাই, ফ্যাসিবাদের পক্ষে নাই। যারা জুলাই রাজনীতির চেতনা ধারণ করে না, আমরা তাদের পক্ষে নাই। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে। ডাকসু থেকে শুরু আপাতত জকসুতে এসে ঠেকেছে। ঠেকে দেয়া হয়েছে। ঠেকে নাই, ঠেকে দেয়া হয়েছে, ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। যেখানেই এখন নির্বাচন সেখানেই এখন হারু পার্টি। হারার ভয়ে এখন সব নির্বাচন ঠেকায়ে দেয়।

জামায়াত আমীর প্রশ্ন রেখে বলেন, জোর করে মানুষের মন দখল করবেন? হবে না। এনসিপি নেত্রী মাহমুদা মিতুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, মাহমুদা মিতু বলেছেন, তাকেও বুলিং করা হচ্ছে। অপমান করা হচ্ছে। সে কে? ওই তাদের কারণেই তো, আজকে অনেকেই জেল থেকে বের হয়েছে। অনেকেই বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছে। অনেকে দেশে আসার সুযোগ পেয়েছে। আজকে সে উপকারীকে আপনি উপহাস করেন? এটা তাদের জন্য বুমেরাং হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলায় গোপনে আমার পেছনে লাগা হয়েছে। পেছনের লোকেরা পেছনে পড়ে থাকবে, আমরা ক্ষমতায় গেলে নারীদের মাথার উপর তুলে মর্যাদা দিয়ে রাখা হবে। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সবখানেই ইনসাফ কায়েম করা হবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠাই হবে আমাদের মূল কাজ। সবকিছু ক্ষমা করা হলেও জুলাই হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‌১৩ই ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন বাংলাদেশ পাবে দেশবাসী। আমরা সরকার গঠনের সুযোগ পেলে নারীদের মাস্টার্স পর্যন্ত ফ্রি পড়ালেখার সুব্যবস্থা করা হবে। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদকে ইঙ্গিত করে বলেন, কক্সবাজারের অনেক আসনে নাকি হেভিওয়েট প্রার্থী আছে। তারা আমাদের প্রার্থীকে ভয় দেখাচ্ছে। আমাদের দাঁড়িপাল্লায় রায় দিয়ে তাদের ওয়েট মাপবে জনগণ। তিনি বলেন, জুলাইযোদ্ধাদের দাবি ছিল কাজ, বেকার ভাতা নয়। শিক্ষিত যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে বলবো, এবার এগিয়ে যাও। 

নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে কক্সবাজার পৌর শহরের বাহারছড়ায় মুক্তিযোদ্ধা (গোলচত্বর) মাঠে সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। সকালে মহেশখালীর জনসভা শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটে কক্সবাজারের জনসভায় আসেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। এর আগে, সকাল ১০টায় শুরু হয় কার্যক্রম। সকাল থেকেই বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মীরা দলে দলে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে শুরু করেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান। জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও মিডিয়া সেলের সমন্বয়ক আল আমিন মো. সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন- কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, কক্সবাজার-১ আসনের প্রার্থী ও শহর জামায়াতের আমীর জেলা মজলিসের শূরা সদস্য আবদুল্লাহ আল ফারুক ও কক্সবাজার-৪ আসনের প্রার্থী জেলা আমীর অধ্যক্ষ নুর আহমদ আনোয়ারি প্রমুখ।