Image description

বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একটি রিপোর্ট বেশ চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার ‘ইউ.এস. সিকস টু বি ‘ফ্রেন্ডস’ উইথ বাংলাদেশ’স ওয়ান্স-ব্যান্ড ইসলামিস্ট পার্টি’ শিরোনামে এক দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী এই গণমাধ্যম। এতে বলা হয়, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল অর্জনের পথে রয়েছে দেশের বৃহত্তম ইসলামপন্থি দল। এই পরিস্থিতিতে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড হাতে পেয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ইতিহাসে একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। এর আগে জামায়াত শরিয়া আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা এবং নারীদের সন্তান লালন পালনে সহায়তার জন্য তাদের কর্মঘণ্টা কমানোর পক্ষে কথা বলেছে। তবে দলটি সম্প্রতি জনসমক্ষে নিজেদের ভাবমূর্তি নরম করার এবং জনসমর্থনের ভিত্তি বৃদ্ধির চেষ্টা হিসেবে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দুর্নীতি নির্মূলের বিষয়টি উপস্থাপন করছে। 

পরিবর্তিত এই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ইসলামপন্থি এই দলটির সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন কূটনীতিকরা। ওয়াশিংটন পোস্টের হাতে আসা অডিও রেকর্ড অনুযায়ী, গত ১লা ডিসেম্বর ঢাকায় নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে একজন মার্কিন কূটনীতিক বলেন, দেশটিতে এখন ইসলামী ভাবধারা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো ফলাফল করবে বলেও মনে করেন ওই কূটনীতিক।

অডিও রেকর্ডে ওই কূটনীতিককে বলতে শোনা যায়, আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে পেতে চাই। এ সময় তিনি কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে জানতে চান, তারা তাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোতে দলটির প্রভাবশালী ছাত্রসংগঠনের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানাতে আগ্রহী কিনা। তিনি প্রশ্ন করেন, আপনারা কি তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন? তারা কি আপনাদের টকশো-তে যাবে?

নিরাপত্তার কথা জানিয়ে ওই কূটনীতিকের নাম প্রকাশ থেকে বিরত থেকেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে তাদের নিজস্ব ব্যাখ্যা অনুযায়ী শরিয়া আইন চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারে- এমন আশঙ্কাকে মার্কিন কূটনীতিক খুব একটা গুরুত্ব দেননি। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের হাতে এমন কিছু প্রভাব খাটানোর হাতিয়ার রয়েছে যা তারা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে প্রস্তুত। ওই কূটনীতিক বলেন, আমি বিশ্বাস করি না যে, জামায়াত শরিয়া আইন চাপিয়ে দিতে পারবে। তিনি উল্লেখ করেন, দলটির নেতারা যদি উদ্বেগজনক কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর শতভাগ ট্যারিফ বা বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করবে।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র মনিকা শাই ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত ওই আলোচনাটি ছিল মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে একটি রুটিনমাফিক অফ-দ্য-রেকর্ড বৈঠক। তিনি আরও যোগ করেন, বৈঠকে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেয় না। বাংলাদেশের জনগণ যে সরকারকেই নির্বাচিত করবে, যুক্তরাষ্ট্রের তাদের সঙ্গেই কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ওই বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি জামায়েতের যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান। তিনি জানান, ব্যক্তিগত কোনো কূটনৈতিক বৈঠকে করা মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে আমাদের তরফে কোনো মন্তব্য করার সিদ্ধান্ত নেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন কূটনীতিকরা বাংলাদেশের সংকটকালীন ও রূপান্তরকালীন এই সময়ে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কীভাবে দেখছেন- সে বিষয়টি এতদিন অপ্রকাশিত থাকা এসব মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট। হাসিনার পতনের পর দেশে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে এসেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া অভ্যুত্থানের পর দেশে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তা কয়েক দশকের অস্থিরতার পর বাংলাদেশের জন্য একটি চূড়ান্ত গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সংঘাত নিয়ে মতবিরোধ এবং রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল আমদানি, ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ ও বাণিজ্য চুক্তি ঝুলে থাকার ফলে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক এমনিতেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই আবহে জামায়াতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই সখ্য ভারতের সঙ্গে ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে দূরত্ব তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান। তিনি বলেন, জামায়েত বহু বছর ধরেই বাংলাদেশে ভারতের উদ্বেগের বিষয়। দলটিকে দিল্লি পাকিস্তানের মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে। এ ছাড়া ভারতের আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগও রয়েছে। যদিও মনিকা শাই জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

মূলধারার রাজনীতিতে জামায়াতের প্রবেশ: রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্যদিয়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করা বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল এক চরম অস্থিরতার মধ্যদিয়ে। স্বাধীনতা পরবর্তী কয়েক দশকে ঢাকাকে বহু সামরিক অভ্যুত্থান, একনায়কতন্ত্র এবং সুপ্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর উত্তাল বেসামরিক শাসন প্রত্যক্ষ করতে হয়েছে। দেশটিকে তার বৃহৎ প্রতিবেশী- ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়েছে। এরমধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে প্রায় ২৫০০ মাইল। বর্তমানে ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক একেবারে তলানিতে অবস্থান করছে। ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল হাসিনা। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে বর্তমানে তিনি দিল্লির অজ্ঞাত স্থানে আশ্রয়ে আছেন। গত নভেম্বরে তাকে অভ্যুত্থানে ১৪০০ মানুষ হত্যায় আদেশ দেয়ার অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। অন্তর্বর্তী সরকারে তরফে বারবার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হলেও তাতে এখনো সাড়া দেয়নি ভারত সরকার। 
ডিসেম্বরের সেই বৈঠকে জনৈক মার্কিন কূটনীতিক মন্তব্য করেন, হাসিনার দণ্ডাদেশ ছিল একটি রাজনৈতিক বুদ্ধিমত্তার বহিঃপ্রকাশ। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না, কিন্তু তিনি দোষী এবং তারা সেটি প্রমাণ করেছে। নিজেদের এখতিয়ারের মধ্য থেকেই তারা এটি করেছে, যা বেশ চিত্তাকর্ষক।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দেশকে একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের (ট্রানজিশন) জন্য প্রস্তুত করতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে সরকার গঠনের পর ড. ইউনূস বলেছিলেন, বাংলাদেশ একটি পরিবার। আমাদের এটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন নির্বাচন অবাধ হবে এবং তা সঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কে কী বললো তাতে কিছু যায় আসে না, নির্বাচন ১২ই ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবেÑ একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে। হাসিনা সরকারের আমলে রাজনীতিতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর, নির্বাচনী প্রচারণায় দলটি নতুন করে শক্তি সঞ্চয় করেছে। অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি ইউনিভার্সিটির গবেষক এবং বাংলাদেশের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ মুবাশার হাসানের মতে, জামায়াত এখন একটি মূলধারার রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র বিষয়ক জামায়াতের মুখপাত্র মোহাম্মদ রহমান জানান, তার দল দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন- এই চার মূলনীতিকে সামনে রেখে প্রচারণা চালাচ্ছে। নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, জামায়েতের শরিয়া আইন কার্যকর করার কোনো পরিকল্পনা নেই।

আসন্ন এই নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলো বিএনপি। লন্ডনে দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫শে ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। যদি তার দল নির্বাচনে জয়লাভ করে তবে তিনিই হতে পারেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। বিএনপি’র কৌশল সম্পর্কে অবগত এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তির মতে, তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করেন, জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফলাফল করবে। তবে দলটির সঙ্গে বিএনপি’র জোট করার কোনো পরিকল্পনা তার নেই।

জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি বিএনপি’র সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। গত জানুয়ারি মাসে রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দলগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তবে আমরা একসঙ্গেই সরকার পরিচালনা করবো। উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের শরিক ছিল জামায়াত।

ওয়াশিংটন পোস্টকে জামায়াতের ওই মুখপাত্র জানান, ২০২৪ সালে হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে চারটি এবং ঢাকায় বেশ কয়েকটি বৈঠক করেছে জামায়াত। এ ছাড়া, গত শুক্রবার দলটির শীর্ষ নেতা মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গেও একটি ভার্চ্যুয়াল বৈঠকেও অংশ নেন।

ওয়াশিংটনের বৈঠকগুলো নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ঢাকায় জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হওয়া বৈঠকগুলোকে তারা নিয়মিত কূটনৈতিক কাজের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইউএসটিআর (মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর) এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।
মোহাম্মদ রহমান ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, গত আগস্টে জামায়াত আমীরের ওপেন হার্ট সার্জারি পরবর্তী সময় ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক ঢাকার বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে আয়োজিত এক সভায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি ভবিষ্যতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো অন্যান্য ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও দূতাবাসের কর্মকর্তারা যোগাযোগ শুরু করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট কূটনীতিক আরও বলেন, আমরা তাদের বন্ধু হিসেবে পেতে চাই, যাতে আমরা যেকোনো প্রয়োজনে ফোনে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলতে পারিÑ আপনারা এইমাত্র যা বললেন, তার সম্ভাব্য পরিণতি কিন্তু এমন হতে যাচ্ছে।

ওই কূটনীতিক জোর দিয়ে বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী যদি ক্ষমতায় আসে এবং এমন কোনো নীতি বাস্তবায়ন করে যা ওয়াশিংটনের কাছে চরমভাবে অগ্রহণযোগ্য বা সাংঘর্ষিক, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিশাল পোশাক শিল্পের ওপর পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে হওয়া মোট রপ্তানির ২০ শতাংশই মূলত সামাজিক ও উদারপন্থি বিভিন্ন পোশাক বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ওপর নির্ভরশীল। যদি বাংলাদেশ নারীদের মাত্র পাঁচ ঘণ্টা কাজ করার নিয়ম বেঁধে দেয়, অথবা তাদের কর্মক্ষেত্র থেকে বের করে দেয় অথবা শরিয়া আইন জারি করে, তাহলে দেশটিতে আর কোনো নতুন ক্রয়াদেশ (অর্ডার) আসবে না। আর যদি নতুন কোনো ক্রয়াদেশ না আসে, তাহলে বাংলাদেশের অর্থনীতির অস্তিত্বই সংকটে পড়বে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, তবে জামায়াত এমন কিছু করবে না। কারণ দলটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করা শিক্ষিত ও বিচক্ষণ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। যদি তারা কোনো ভুল পথে যায় তাহলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা আমরা তাদের কাছে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরবো।

বিশ্লেষকদের মতে, এতে নয়াদিল্লির উদ্বেগ প্রশমিত করার তেমন কোনো সম্ভাবনা নেই। ভারত ২০১৯ সালে নিজেদের অধীনে থাকা জম্মু-কাশ্মীরে জামায়াতে ইসলামীর শাখাকে ‘বেআইনি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল এবং ২০২৪ সালে আবারো সেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বৃদ্ধি করেছে।

কুগেলম্যানের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক যদি আরও ভালো অবস্থায় থাকতো, তবে হয়তো নির্বাচনের আগে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে ভারতের উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকানরা আরও বেশি আগ্রহী হতো। কিন্তু বর্তমানে এই অংশীদারিত্বে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করায় কুগেলম্যান মনে করেন না যে, মার্কিন কর্মকর্তারা ভারতীয় উদ্বেগের প্রতি খুব একটা মনোযোগী বা সংবেদনশীল হওয়ার প্রয়োজন বোধ করবেন।