সারা দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও সভা-সমাবেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা প্রস্তুতি প্রায় শেষদিকে। অপরাধীদের শনাক্তে রাখা হয়েছে বাড়তি নজরদারি।
১২ই ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া অধিকতর স্বচ্ছ, নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত করতে সারা দেশে সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসছে। ভোটগ্রহণের পুরো সময় কেন্দ্রগুলোর ভেতর ও আশপাশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এই সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নির্বাচনে দলীয় কোন্দল ও সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা করছে। তবে পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে প্রস্তুত রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাড়ানো হয়েছে টহল কার্যক্রম ও চেকপোস্ট। সেই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক সংঘাত-সহিংসতা, ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ঘটেছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তি টার্গেট কিলিংয়ের শিকারও হয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে। নির্বাচনে কোন দলের প্রার্থী, নেতাকর্মী এই ব্যাপারগুলোকে কোনোভাবে বিচার-বিবেচনায় না এনে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলেই এই দ্বন্দ্ব-সংঘাতের যে শঙ্কাগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
জানা গেছে, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ১ লাখ সেনাসদস্য, ৫ হাজার নৌসদস্য, ৩ হাজার ৭৩০ জন বিমান বাহিনীর সদস্য, ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন পুলিশ সদস্য, ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য, ৩ হাজার ৫৮৫ জন কোস্ট গার্ড সদস্য, ৭ হাজার ৭০০ জন র্যাব সদস্য এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ১৩ হাজার ৩৯০ জন ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মোতায়েন করা হবে। এ ছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবার ভোটের মাঠে বিপুল সংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষ করে দুর্গম এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ড্রোন ব্যবহারের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য শনাক্তে এবার ভোটের মাঠে বড় পরিসরে ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হবে। বিজিবি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সীমান্ত এলাকায় ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে। এ ছাড়া র্যাব ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে এবং ডিএমপি ও সিএমপি পৃথকভাবে ডগ স্কোয়াড নিয়োজিত রাখবে। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের পৌঁছাতে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদানের জন্য জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ বিশেষ টিম গঠন করে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ওই টিম নির্বাচন সংক্রান্ত পাওয়া অভিযোগ বা তথ্যের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও এলাকাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলে পাঠাবে।