Image description

আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে নির্ধারিত হবে দেশের পরবর্তী সরকার। নির্বাচিত নতুন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব গ্রহণের পর কোথায় উঠবেন-এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি। সরকার এবং মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা এ বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছেন না।

সূত্র জানিয়েছে, আপাতত পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি পরবর্তী সরকারের হাতেই ছেড়ে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এ কারণে এ বিষয়ে কমিটি গঠন এবং কিছু সুপারিশ পেলেও এখন তা কার্যকর হচ্ছে না। 

’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন জনতার দখলে চলে যায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবন। শেখ হাসিনা জনরোষে পালিয়ে যাওয়ার পরপরই সাধারণ মানুষ গণভবনে ঢুকে পড়ে বিজয় উদ্যাপন করে। পরে সরকার গণভবনকে জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করেছে। এখন এটি আর কারও বসবাসের অবস্থায় নেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেয়ার পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বসবাস করছেন। নির্বাচিত সরকারের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন নিয়ে গঠিত কমিটি যেসব বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে সেগুলোও সুবিধাজনক হচ্ছে না বলে সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, যেহেতু সরকার প্রধান এখন যমুনায় থাকছেন পরবর্তী সরকার প্রধানও এখান থেকেই শুরু করবেন। পরবর্তী সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। 

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন  কোথায় হবে- এ নিয়ে একাধিক প্রস্তাব পেয়েছিল সরকার। এর মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার ভেতরে অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবনকে একীভূত করে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বানানোর বিষয়ও আলোচনায় ছিল। কিন্তু নানা দিক বিবেচনায় নিয়ে এই পরিকল্পনা থেকেও সরে আসা হয়েছে। গুলশানে জাপান দূতাবাসের বিক্রি করা একটি পরিত্যক্ত বাড়িকে সরকারি বাংলোয় রূপান্তর করে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করা যায় কিনা এটিও বিবেচনায় আছে। 

গত ৭ই জুলাই নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্ধারণের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়। যার নেতৃত্বে রয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, স্থাপত্য অধিদপ্তর, সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তারা। নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, তা নিয়ে ওই কমিটির সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। প্রথমে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেপ্টেম্বরে কমিটির সদস্যরা ভবন দু’টি পরিদর্শনও করেন।

সূত্র জানায়, বাসভবন দু’টি একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করতে সংস্কার কাজে কেমন খরচ হতে পারে, তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। আলাদা দু’টি ভবনের মধ্যে সহজ যাতায়াতের জন্য একটি দুই স্তরবিশিষ্ট করিডোর নির্মাণ, একই সঙ্গে এ-১ ও এ-২ বাসা দু’টিও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করারও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তাসহ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে তারা জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্মাণের উদ্যোগ থেকে শেষ পর্যন্ত সরে আসেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাড়ি দু’টিকে একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য নির্ধারণ করা হলে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার কোথায় থাকবেন, তা নিয়েও ভাবতে হবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য নতুন বাসভবন খুঁজতে হবে। 

এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত বাড়িতে তিনি থাকলেই শুধু হবে না, তার দপ্তরসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নিরাপত্তায় নিয়োজিতরা কোথায় থাকবেন, সে প্রশ্নও ওঠে। তাদের জন্যও নতুন করে বাড়ি বানাতে হবে। 

নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রীরা কোথায় থাকবেন, সে বিষয়ে সুপারিশ করতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৭ই জুলাই উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি করেছিল। এই কমিটি রাজধানীর বেশ কিছু এলাকা সরজমিন পরিদর্শন শেষে ২০শে জুলাই মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা এবং হেয়ার রোডের ২৪ ও ২৫ নম্বর বাংলো বাড়িকে সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে। যমুনা এখন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩০ হেয়ার রোডে অবস্থিত যমুনার আয়তন প্রায় সোয়া তিন একর। যমুনার পাশের ২৪ ও ২৫ নম্বর এই দু’টি বাংলো বাড়ি এখন প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তায় নিয়োজিত একটি বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা থাকছেন।

নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের জন্য আরেকটি জায়গা নিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা ছিল। গণভবনের পেছনে যেখানে আগে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা হতো, শেরেবাংলা নগরের সেই জায়গাকেও বিবেচনা করা হচ্ছিল। বাণিজ্যমেলা পূর্বাচলে চলে যাওয়ার পর থেকে জায়গাটি এখন খালি পড়ে আছে। এই খালি জায়গা সরজমিন পরিদর্শন করেছে মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি। তবে কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এই জায়গায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করার বিষয়ে কোনো সুপারিশ করেনি।

সূত্র বলছে, শেরেবাংলা নগর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন করতে গেলে দু’টি জটিলতা তৈরি হবে। প্রথমত সংসদ ভবনসংলগ্ন ওই এলাকা মার্কিন স্থপতি লুই আই কানের নকশার আলোকে গড়ে উঠেছে। তাই সেখানে নতুন করে বড় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা ঠিক হবে না। আবার সেখানে নতুন নকশা করে স্থাপনা করার বিষয়টি বেশ সময়সাপেক্ষ। সব দিক বিবেচনা করে হেয়ার রোডে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও এর আশপাশ মিলে নতুন সরকারপ্রধানের বাসভবন ঠিক করাই উপযুক্ত হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ মানবজমিনকে বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী আপাতত যমুনায় থাকবেন এটি ধরে রাখা হয়েছে।