Image description
♦ ভোট গ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি ইসির ♦ নির্বাচনি মালামাল জেলায় জেলায় যাবে ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি ♦ ফেরত ৫ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট ♦ কেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ ♦ বৈধ প্রার্থী ২২৫৪ জন ♦ ৫৯ শতাংশ কেন্দ্রই ঝুঁকিতে হ কমিশন কোনো চাপে নেই : ইসি আনোয়ারুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের আগে ও পরের যাবতীয় কার্যক্রমের নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি।

সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। আজ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। কাল প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ। এরপর নির্বাচনি প্রচারে নামবেন প্রার্থীরা। আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিন রবিবার পর্যন্ত ৪১৭ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আর গতকাল একজন প্রার্থীর মনোনয়ন বহাল রেখেছে কমিশন। মোট প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ৪১৮ জন। আপিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে আগে বৈধ ঘোষিত ছয় প্রার্থীর। এখন পর্যন্ত মোট বৈধ প্রার্থী ২ হাজার ২৫৪ জন।

তফসিল অনুযায়ী, আপিল শুনানি শেষে আজ ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত হবে কতজন প্রার্থী ভোটে থাকবেন। ২১ জানুয়ারি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রতীক পাবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে। একই দিন গণভোটও হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর।

নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে আড়াই হাজার মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ে ৭২৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৪২ জন। রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়ারি থেকে আপিল আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৪৫ জন আপিল করেন। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা রবিবার পর্যন্ত চলে। অবশ্য পাবনা-১ ও ২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী (আগের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৩ জনের) এ তালিকা থেকে বাদ যাবে। ভোটের দিন একই রেখে এ দুই আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী রবিবার ছিল এ দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। শেষ দিনে পাবনা-১ আসনে ৭টি ও পাবনা-২ আসনে ৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে।

চূড়ান্ত ভোট কেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ : সব আসনের ভোট কেন্দ্রের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদনের পর ১৫ জানুয়ারি থেকে ভোট কেন্দ্রের গেজেট প্রকাশ শুরু হয় বলে জানান ইসির উপসচিব মনির হোসেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, ভোটের তারিখের অন্তত ২৫ দিন আগে ভোট কেন্দ্রগুলোর চূড়ান্ত তালিকা সরকারি গেজেটে প্রকাশের বিধান রয়েছে।

এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ও দেশের ভিতরে তিন ধরনের ব্যক্তির জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারেরও বেশি নাগরিক নিবন্ধন করেছেন।

ভোট কেন্দ্রের গেজেটে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার নাম, উপজেলা, ইউনিয়ন, ভোট কেন্দ্রের নাম ও অবস্থান, ভোটার এলাকার নাম, ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা (নারী, পুরুষ, হিজড়া) তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যাও তুলে ধরা হয়েছে গেজেটে। পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা কেন্দ্রের নাম ও অবস্থান, পোস্টাল ভোটারের সংখ্যার উল্লেখ রয়েছে। পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এ নির্বাচনে থাকছে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোট কেন্দ্র, যাতে থাকবে ২ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটকক্ষ। ৩০০ আসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে ভোট কেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে হবে বলে প্রতি ভোটকক্ষে সিল দেওয়ার গোপন কক্ষ (মার্কিং প্লেস) বাড়ানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, নিরাপত্তার নিরিখে ৫৯ শতাংশ ভোট কেন্দ্রই ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি ও সাধারণ ভোট কেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। ‘গুরুত্বপূর্ণ’ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ’ মানে হলো ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তার দিক থেকে।

ভোটে সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর থাকবে ১ লাখ সদস্য, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, পুলিশের ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র‌্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন থাকবে।

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন।

কায়কোবাদের প্রার্থিতা বহাল : কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল ইসি এ সিদ্ধান্ত জানায়। রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে কায়কোবাদের মনোনয়ন বৈধ হয়েছিল। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে ইসিতে আপিল হয়েছিল। রবিবার ছিল ইসির আপিল শুনানির শেষ দিন। সব আপিল নিষ্পত্তি হলেও কায়কোবাদের বিরুদ্ধে করা আপিলের সিদ্ধান্ত অপেক্ষমাণ রেখেছিল ইসি। সোমবার কায়কোবাদের মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে করা আপিল নামঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত দেয় ইসি। এতে তার প্রার্থিতা বহাল থাকল।

ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু ২২ জানুয়ারি : ২২ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের প্রশিক্ষণ। নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) মহাপরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জানান, এ কার্যক্রমে ৮ লাখের বেশি লোকবলকে নির্বাচনি আইন-বিধিসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ চলবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা সংসদ ও গণভোট হবে। একই কর্মকর্তাদের দুটি ভোট কীভাবে সামাল দিতে হবে, তা এ প্রশিক্ষণেই পুঙ্খাপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হবে।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি কেন্দ্রে একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, প্রতি ভোটকক্ষে একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং ভোটকক্ষ প্রতি দুজন পোলিং অফিসার মিলিয়ে কেন্দ্রপ্রতি ৮-১০ জনের মতো পোলিং অফিসার প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত লোকবলও প্রস্তুত রাখতে হয়। সব মিলিয়ে ৮ লাখেরও বেশি ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে যতজন প্রয়োজন, তার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি লোকবল বাছাই করে প্যানেল প্রস্তুত করা হয়। সংসদ ও গণভোটে ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা, ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহস্রাধিক নির্বাহী হাকিম, তিন শতাধিক বিচারিক হাকিম ভোটের মাঠে নিয়োজিত রয়েছেন।

এর আগে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, রিটার্নিং কর্মকর্তা, হাকিমসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা, নির্বাহী ও বিচারিক হাকিমসহ সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের ঢাকায় নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নিয়ে ধাপে ধাপে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। তবে ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে।

ইসির নতুন কর্মপরিকল্পনা : তফসিল ঘোষণার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করেছিল ইসি। ওই রোডম্যাপ অনুযায়ী কিছু কাজে পিছিয়ে থাকায় তফসিল ঘোষণার পর ভোটের আগে ও পরের যাবতীয় কার্যক্রমের নতুন আরেকটি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কমিশন। জানা যায়, আগামী ২১ জানুয়ারি দেশিবিদেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষককে আমন্ত্রণ জানাতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। ব্যালট পেপার প্রিন্টের কাজে তদারকির জন্য অফিস আদেশ জারি করা হবে একই তারিখে। ২২ জানুয়ারি ভোট কেন্দ্রের গেজেট প্রকাশের জন্য বিজি প্রেসে প্রেরণ এবং তা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। এতে আরও বলা হয়, ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা ও সমন্বয় সেল গঠন আদেশ জারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিশেষ সভা এবং আন্তমন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সভার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং ২৫ জানুয়ারি এ সভার আদেশ জারি করা হবে। প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারদের নিয়োগ চূড়ান্ত হবে আজ। এতে আরও বলা হয়, ২৮ জানুয়ারি পর্যবেক্ষকদের অনুমতি ও পরিচয়পত্র প্রদান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিশেষ সভা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রস্তাবিত অর্থের চাহিদা প্রাপ্তি ও যাচাইবাছাই করবে ইসি।

এ ছাড়া একই তারিখে ভোট কেন্দ্র থেকে সরাসরি বিশেষ খামে ভোটের ফলাফল পাঠাতে ডাকবিভাগকে চিঠি দেবে সংস্থাটি। এ কর্মপরিকল্পনাতে আরও বলা হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি প্রেরণ, নির্বাচনি ব্যয় নির্বাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অর্থ বরাদ্দ ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে কমিশনে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী জেলা সদরে পাঠানো হবে।

ফেরত সাড়ে ৫ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট : ঠিকানা না পাওয়ায় মালয়েশিয়া ও ইতালি থেকে ৫ হাজার ৬০০ প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট ফেরত এসেছে। গতকাল নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রবাসীদের সঠিক ঠিকানা না পাওয়ায় এসব ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট দেশে সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কাছে পেঁৗঁছায়নি। ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তির কারণে পোস্টাল ব্যালটে একজনের ভোট অন্য কেউ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

কমিশন কোনো চাপে নেই : সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশন কোনো চাপে নেই বলে মনে করেন অন্যতম নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। গতকাল নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানান তিনি। ইসি আনোয়ারুল বলেন, সবাই ইসিতে এসে নিজেদের অভিযোগ, পরামর্শ জানাচ্ছেন। এতে কমিশন সমৃদ্ধ হচ্ছে। ছোট সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছে কমিশন। আমরা একদমই কোনো চাপে নেই। তিনি বলেন, এখনো ইসি বড় কোনো সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। আমরা রাজনৈতিক দলের বক্তব্য খতিয়ে দেখছি ও ব্যবস্থা নিচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আপিল শুনানিতে মনে হয়েছে, একটি ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, প্রার্থীরা যেভাবে শুনানিতে নিজেদের বক্তব্য রেখেছেন, ভোটের মাঠেও তারা তাদের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে মনে করে কমিশন। তিনি বলেন, একটি কমিশনের একটি জাতীয় নির্বাচন করারই সুযোগ থাকে। দুবার কোনো কমিশনই সুযোগ পায় না। কোনো কমিশন আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে না। সবাই চায় ভালো নির্বাচন, কমিশনও তাই চায়।

সিইসির সঙ্গে আইজিপির বৈঠক : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম। গতকাল বিকালে নির্বাচন ভবনে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে নির্বাচনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।