Image description

সিরিয়াল কিলার। সম্রাট নামের এ কিলার থাকতো সাভার মডেল থানা থেকে দুই-তিনশ’ গজের মধ্যেই সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে। এ ভবন থেকেই কয়েক মাসের ব্যবধানে ৫ লাশ উদ্ধারসহ গত সাত মাসে ৬ হত্যাকাণ্ডের হোতা এই সম্রাট। এ সিরিয়াল কিলারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সিরিয়াল কিলার মশিউর রহমান খান সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠিয়েছেন সাভার মডেল থানা পুলিশ।

গতকাল দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃত মশিউর রহমান খান সম্রাট (৩৫) সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লার মৃত সালামের ছেলে। সে সাভার থানার আশপাশে ও সাভারের  বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতো। রোববার দুপুরে সাভার পৌর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক) আরাফাতুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তারকৃত সম্রাট ভবঘুরে ছিলেন। কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় একটি মরদেহ কাঁধে নিয়ে ভবঘুরে সম্রাট হেঁটে যাচ্ছেন। এরপরই তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সম্রাট স্বীকার করেন কমিউনিটি সেন্টারের ৫টি হত্যাকাণ্ড ছাড়াও সে সাভার মডেল মসজিদের পাশে এক বৃদ্ধাকেও হত্যা করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে তাকে পাগল বলে মনে হয়নি। ভবঘুরে হিসেবে আমরা তাকে জানলেও তার মধ্যে মানসিক ভারসাম্যহীনতার কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে। সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের শিকার ৬ জনের মধ্যে ১ জনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকি ৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী, ওসি অপারেশন হেলাল উদ্দিনসহ সাভার মডেল থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সাভার মডেল থানা পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে ৯৯৯-এর মাধ্যমে সাভার পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে দুটি মরদেহ পড়ে আছে বলে জানতে পারেন পুলিশ। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ওই ভবনের দ্বিতীয়তলায় যায় এবং তল্লাশি করে একটি কক্ষ থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধার করেন। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর পাশাপাশি এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এর আগে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। সেই সিসি ক্যামেরা দেখে রোববার জোড়া হত্যার ঘটনায় আসামিকে শনাক্তের পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ঠা জুলাই দুপুরে সাভার মডেল মসজিদের পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে আসমা বেগমের (৭৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ২৯শে আগস্ট বিকালে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয়তলার একটি কক্ষ থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো এবং দুই হাত গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা পুরুষের (৩০) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ১১ই অক্টোবর বিকালে ওই ভবনের একই তলা থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর (৩০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৯শে ডিসেম্বর একই তলা থেকে আগুনে পোড়া অর্ধগলিত অজ্ঞাতনামা পুরুষের (৩৫) এবং রোববার একই তলা থেকে অজ্ঞাতনামা পুরুষ (২৫) এবং অজ্ঞাতনামা এক মেয়ে শিশুর (১৩) আগুনে পোড়া লাশ উদ্ধার করেন থানা পুলিশ।