Image description
মাদারীপুর ট্র্যাজেডি

মাদারীপুরে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন। রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার মিলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ইজিবাইকের চালক ও বাসের সুপারভাইজার নিহত হন। এ ছাড়া, বাকি পাঁচ মহিলার বাড়ি কোটালীপাড়া উপজেলায়। তারা ফসলি জমিতে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন। তারা হলেন- উপজেলা সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের পাইকেরবাড়ী গ্রামের পলাশ বাড়ৈর স্ত্রী দুলালী বাড়ৈ (৪৫), জয়ন্ত বাড়ৈর স্ত্রী অমিতা বাড়ৈ (৪২), প্রকাশ বাড়ৈর স্ত্রী আভা বাড়ৈ (৬৫), রঞ্জিত বাড়ৈর স্ত্রী শেফালী বাড়ৈ (৪০) ও পংকজ বিশ্বাসের স্ত্রী কামনা বিশ্বাস (৪৫)।

সূত্রমতে, কাজের সন্ধানে তারা প্রায়ই দল বেঁধে পাশের জেলা মাদারীপুরে যেতেন। ফসলি জমিতে দৈনিক মজুরিতে কাজ করতেন। আবার দল েবেঁধে বাড়ি ফিরতেন। তবে রোববার তারা আর জীবিত বাড়িতে ফিরতে পারলেন না। সন্ধ্যায় মাদারীপুরে বাসের চাপায় তারা একসঙ্গে নিহত হন। রাত ২টার দিকে মাদারীপুর জেলা হাসপাতাল থেকে তদের লাশ তাদের গ্রামের বাড়ি পাইকেরবাড়ীতে পাঠানো হয়। লাশ পৌঁছালে এলাকায় শুরু হয় শোকের মাতম। কান্নায় ভেঙে পড়ে আপনজনরা। খবর শুনে কোটালীপাড়া থানা পুলিশ ও গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এসএম জিলানী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি নিহতদের পরিবারের লোকজনকে সমবেদনা জানান। 

নিহত নারীরা পেশায় দিনমজুর ছিলেন। তাদের আয় দিয়েই চলতো সংসার। গতকাল বেলা ১২টা পর্যন্ত তাদের সৎকার হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদা তুলে তাদের সৎকার করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়রা বলেন, দল বেঁধে এই গ্রামের দরিদ্র নারীরা মাদারীপুরের কৃষি জমিতে বর্গা দিতে যেতেন। আবার সন্ধ্যায় ফিরে আসতেন। দিনে প্রত্যেকে ৭০০-৮০০ টাকা মজুরি পেতেন। কিন্তু দুর্ঘটনায় তাদের সব শেষ হয়ে গেল। নিহত পাঁচ নারীর পরিবার খুব দরিদ্র। তাদের মধ্যে কামনার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। সবাই ছোট্ট। ছেলেটা ক্লাস টু-তে পড়ে। তার স্বামী মারা গেছেন। থাকার জায়গাটুকু নেই। দাহ করার মতো খরচটাও এই পরিবারগুলোর নেই। গ্রাম থেকে টাকা তুলে তাদের দাহ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। 

জানা গেছে, নিহত ৫ মহিলা জীবিকার জন্য প্রতিদিন সকালে মাদারীপুরের ঘটকচর নামক স্থানে গিয়ে দিনমজুরের কাজ করে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে আসতেন। রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তারা কাজ শেষে ইজিবাইকে চড়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। এ সময় ঢাকাগামী সার্বিক পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইকটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। এ ব্যাপারে ভাঙ্গারহাট পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সিরাজ বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। ঘটনাস্থল মাদারীপুর হওয়ায় সেখানকার পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মোস্তফাপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশিদ বলেন, রাতেই নিহত নারীদের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করবে। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেছে। তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।