২০০৮ সালের মতো ‘ভারসাম্যহীন’ নির্বাচন জামায়াত মেনে নেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দলটির নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তারা একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছেন। গতকাল বিকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আসন্ন নির্বাচনের নানা বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা করার সময় সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাত করছে। প্রধান উপদেষ্টা এর প্রতিকার না করলে জামায়াত শক্তিশালী পদক্ষেপ নেবে। ২০০৮ এর মতো ‘ইমব্যালান্সড ইলেকশন’ (ভারসাম্যহীন নির্বাচন) জামায়াত মেনে নেবে না।
এক-এগারোর পর ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশ নিয়েছিল জামায়াত। সেই নির্বাচনে জামায়াত দু’টি আসনে জয়ী হয়, বিএনপি পায় ৩০টি আসন।
ওই নির্বাচনে জয়ের পর আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের সূচনা হয়। এরপর প্রহসনের তিনটি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রেখেছিল দলটি। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটির কার্যক্রমেও নিষেধাজ্ঞা দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারছে না।
এদিকে, দীর্ঘদিনের মিত্রতার বন্ধন ছিড়ে বিএনপি ও জামায়াত এবার আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ভোটের আগে পরস্পরকে আক্রমণ করে দুই দলের নেতাদের বক্তব্য রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ তাহের অভিযোগ করেন, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত না হওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জানাচ্ছেন না কয়েকজন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টাকে সব খবর দেয়া হয় না। তিনি বিষয়গুলো না জানলে, দেশ একটি বাজে নির্বাচনের দিকে এগোতে থাকলে জামায়াত সেটি মেনে নেবে না।
ইসলামী আন্দোলনের জোট ছেড়ে যাওয়া কিংবা ইসলামী দলগুলোর ভোট ভাগ হওয়ার প্রভাব নির্বাচনে পড়বে কি না- এমন প্রশ্নে আবদুল্লাহ তাহের বলেন, এটি নির্বাচনে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারবে না। এ দেশের ইসলামপন্থিরা ইসলাম বা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেয়ার জন্য মনস্থির করেছেন। দল হিসেবে কোনো দলের ভিন্ন সিদ্ধান্ত হতে পারে, তবে জনগণের সিদ্ধান্ত এর দ্বারা পরিবর্তন হবে না।