Image description

অভিবাসন ইস্যুতে বিশ্বদরবারে ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ। ভিসা বন্ড আরোপের এক সপ্তাহের মাথায় বুধবার বাংলাদেশিদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে অভিবাসনে বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। এ ইস্যুতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপের পাশাপাশি কর্মকৌশল নির্ধারণের চিন্তা করছে সরকার।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ, রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপালসহ ৭৫ দেশের মানুষের ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যুর কার্যক্রম ২১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যাবে। কনস্যুলেট, দূতাবাসসমূহে প্রেরিত নির্দেশনা অনুযায়ী মার্কিন প্রশাসন যদি মনে করে আবেদনকারী ব্যক্তি সরকারি কল্যাণ ভাতা বা অন্যান্য সরকারি (ফুডস্ট্যাম্প, হাউজিং, চিকিৎসাসেবা ইত্যাদি) সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে। এমন পন্থা অবলম্বন করার ফলে উপরোক্ত দেশসমূহের কমপক্ষে ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার স্বপ্ন ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন নির্দেশের নিন্দা ও প্রতিবাদ উঠেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে। মার্কিন রাজনীতিকদের একটি অংশ থেকেও প্রতিবাদ উঠেছে কিছু মানুষের অপকর্মের দায় গণহারে বিবেচনার বিরুদ্ধে।

আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির তৃণমূলের সংগঠক বাংলাদেশি-আমেরিকান অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী ট্রাম্প প্রশাসনের এ নির্দেশনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নৈতিকতা প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের মাধ্যমে। যাদের রক্ত-ঘাম আর মেধার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র আজ বিশ্বে শ্রেষ্ঠ একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে, সে ধরনের মানুষের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করা হচ্ছে। এটা একেবারেই অমানবিক পদক্ষেপ। এ নির্দেশনার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামতে পারে ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কর্মরত সংস্থাগুলো।’পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়ার পর এ বিষয়ে বাংলাদেশের পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কিছু কারণ উল্লেখ করেছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টরা একটা কর্মকৌশল বের করবেন। প্রয়োজনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এঙ্গেজ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে শুধু বাংলাদেশকে টার্গেট করা হয়নি। যেসব দেশ থেকে ইমিগ্র্যান্ট (অভিবাসী) বেশি যায় বা যেসব দেশ থেকে মানুষ গিয়ে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) চায়, যেসব দেশ থেকে মানুষ গিয়ে ওদের সোশ্যাল সার্ভিসের (সামাজিক পরিষেবা) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তাদের টার্গেট করে যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই তাদের সরকার ঠিক করেছে, এসব দেশের ব্যাপারে এ নিষেধাজ্ঞা ও শর্তগুলো তারা আরোপ করবে। অভিবাসী ভিসা স্থগিত যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের সিদ্ধান্ত। সেখানে আমার কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, কী করণীয় এখন আমরা সেগুলো নিয়ে কথা বলব।’