রিফাইনারি নির্মাণের সরকারি অনুমোদন নেই। চালুর অনুমতিও মেলেনি।
সরকারি অনুমোদন ছাড়াই কিভাবে এত বড় একটি স্পর্শকাতর শিল্প প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখা সম্ভব হলো এবং তা বন্ধে নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে তীব্র ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি মূল অনুমোদন বা রিফাইনিং লাইসেন্সই যেখানে অনুপস্থিত, সেখানে কিভাবে বিপুল পরিমাণ কৌশলগত কাঁচামাল আমদানির অনুমতি চাওয়া সম্ভব—তা নিয়ে নীতিনির্ধারণী মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি অনুমোদন ছাড়া রিফাইনারি নির্মাণ ও পরিচালনার উদ্যোগ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সরকারি নথিপত্র বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিকে গ্রুপের ‘সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি’র এই চাঞ্চল্যকর ও বিতর্কিত তৎপরতার বিস্তারিত চিত্র।
কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি তেল পরিশোধনাগার নির্মাণে বিপিসি/বাংলাদেশ ব্যাংকের ছাড়পত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানগত ও চূড়ান্ত ছাড়পত্র (ইআইএ), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের অনুমোদন, কলকারখানা অধিদপ্তরের লে-আউট ও নিরাপত্তা অনুমোদন, আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের বিশেষ পারমিট এবং এনবিআরের কাস্টমস বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধনসহ ৩০টির বেশি অনুমোদন লাগে। কিন্তু এসব অনুমোদন ছাড়াই কিভাবে একটি পরিশোধন কারখানার নির্মাণকাজ শুরু হলো, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না খোদ বিপিসির কর্মকর্তারাও। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে এই অসাধ্য সাধন করা হচ্ছে।
যন্ত্রাংশ আমদানির আড়ালে কোনো চোরাচালান হয়েছে কি না, কিংবা অবৈধ কোনো পণ্য আনা হয়েছে কি না, তা-ও যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়নি।
সূত্র জানায়, অনুমোদন না থাকলেও বড় একটি মহলের চাপে প্রভাব খাটিয়ে এই পরিশোধন কারখানার অনুমোদন দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু নির্মাণকাজ অব্যাহত রাখাই নয়, অনুমোদনহীন ও অবৈধভাবে নির্মিত ওই প্ল্যান্টে পরিশোধনের জন্য বছরে ১২ লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানির আবেদনও করেছে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি। দেশের সরকারি একক তেল বিতরণ ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কাছে এই আবেদন করা হয়েছে। এর মধ্যে চার লাখ টন লাইট ক্রুড এবং আট লাখ টন হেভি ক্রুড আমদানির অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, আমদানির অনুমতি পাওয়ার কৌশল হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ‘কনডেনসেট’ ও ‘লাইট ক্রুড’-এর সংজ্ঞাগত ও গুণগত সূক্ষ্ম পার্থক্যকে আড়াল করে দুটিকে সমার্থক হিসেবে উপস্থাপন করেছে। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও নথিপত্র পেশ করে সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
অনুসন্ধানে পাওয়া নথিতে আরো দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি একদিকে কনডেনসেটকে ‘লাইট ক্রুড’ হিসেবে উল্লেখ করে আমদানির আবেদন করেছে, অন্যদিকে কয়েক মাস আগে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে একই প্ল্যান্টে সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড পরিশোধনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। অর্থাৎ একই প্ল্যান্ট ও একই প্রকল্প নিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া চিঠিতে উঠে এসেছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য।
সরকারি নথিপত্র, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলে এবং সরেজমিন অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টিকে গ্রুপের সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসির এই তৎপরতা নিয়ে জ্বালানি খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অনুমোদনহীন প্ল্যান্টে ক্রুড আমদানির আবেদন : সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চট্টগ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি সরকারি কোনো রিফাইনারি লাইসেন্স না থাকার পরও একটি বৃহৎ ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) বা অপরিশোধিত তেল পরিশোধনাগার স্থাপন করছে। গত ২৭ অক্টোবর ২০২৬ বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো চিঠিতে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার ২০২৭ পঞ্জিকা বর্ষের জন্য মোট ১২ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানির অনুমতি চেয়েছেন। এর মধ্যে চার লাখ টন লাইট ক্রুড এবং আট লাখ টন হেভি ক্রুড।
চিঠিতে বলা হয়, আমদানি করা এই কাঁচামাল তাদের নির্মীয়মাণ নতুন প্ল্যান্টে পরিশোধন করে উৎপাদিত পেট্রোলিয়াম পণ্য বিপিসিকে সরবরাহ করা হবে। কিন্তু নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই আবেদন করার সময়ও প্ল্যান্টটির রিফাইনারি লাইসেন্স বা চালুর সরকারি অনুমোদন পাওয়ার তথ্য নেই।
এর আগে গত ১৪ জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, দৈনিক ৩৫ হাজার ব্যারেল পরিশোধনক্ষমতার প্ল্যান্টটি লাইট ক্রুড পরিশোধনের উপযোগী করে নির্মাণ করা হচ্ছে। এ জন্য বছরে ২০ লাখ টন সৌদি আরবের অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অথবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
অর্থাৎ জুলাইয়ের চিঠিতে যে কাঁচামালের কথা বলা হয়েছিল, অক্টোবরের আবেদনে তার সঙ্গে যোগ হয়েছে আট লাখ টন হেভি ক্রুড। অর্থাৎ একই সঙ্গে কনডেনসেট ও লাইট ক্রুডকে একইভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
কনডেনসেটকে লাইট ক্রুড দেখানোর চেষ্টা : গত ২৭ অক্টোবরের চিঠি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে কনডেনসেট ও লাইট ক্রুডকে একইভাবে উপস্থাপনের বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের নজরে এসেছে। চিঠিতে বিপিসির ১০ আগস্টের একটি পত্রের সূত্র উল্লেখ (২৮.০৩.০০০০.০৪১.২৫.৩৩০.২২/(চাহিদা)/৭৫৩) করে বলা হয়, ২০২৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিপিসিকে দুই লাখ ৫৬ হাজার ৫০০ টন অকটেন, এক লাখ ১৯ হাজার টন পেট্রল, চার লাখ ৬৬ হাজার ৫০০ টন ডিজেল এবং তিন লাখ ৬১ হাজার টন হাই সালফার ফার্নেস অয়েল (এইচএফও) সরবরাহের পরিকল্পনা করেছে।
এই পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহের জন্য চার লাখ টন লাইট ক্রুড এবং আট লাখ টন হেভি ক্রুড আমদানি প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কনডেনসেট ও লাইট ক্রুডকে এক পণ্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক এক মহাব্যবস্থাপক বলেন, ‘কনডেনসেটকে সাধারণভাবে লাইট ক্রুড অয়েল হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়। কনডেনসেট মূলত গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া গ্যাসের উপজাত। অন্যদিকে ক্রুড অয়েল আসে তেলক্ষেত্র থেকে। এ দুটি কাঁচামালের বৈশিষ্ট্য ও উৎস আলাদা।’
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের প্রকৌশলী ও ভূতত্ত্ববিদদের মতে, কনডেনসেট ও লাইট ক্রুডের উৎস ও বৈশিষ্ট্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। সরকারি ও বিপিসির পূর্ববর্তী নিয়মাবলিতে কনডেনসেটকে ‘লাইট ক্রুড’ হিসেবে উল্লেখ করার নজির নেই বলে তঁঘারা জানান।
একই প্ল্যান্ট নিয়ে দুই রকম পরিকল্পনা : অনুসন্ধানে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের পাঠানো সাম্প্রতিক চিঠিগুলোতেও পরিকল্পনার স্পষ্ট অসংগতি পাওয়া গেছে। বিপিসির মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহিদ হোসাইন স্বাক্ষরিত গত ১০ আগস্টের চিঠিতে ২০২৭ সালের জন্য সুপার পেট্রোকেমিক্যালের কাছ থেকে সম্ভাব্য জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ জানতে চাওয়া হয়। বিপিসির আমদানি পরিকল্পনা তৈরির স্বার্থে অকটেন, পেট্রল, ডিজেলসহ বিভিন্ন গ্রেডের জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ জানাতে বলা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহা স্বাক্ষরিত চিঠিতে ২০২৭ সালে বিপিসিকে মোট ১২ লাখ তিন হাজার টন পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ছাড়া বছরের বাকি ১১ মাসে প্রতি মাসে ২১ হাজার ৫০০ টন অকটেন ও ১০ হাজার টন পেট্রল সরবরাহের কথা বলা হয়। মে থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৪২ হাজার টন এইচএফও সরবরাহের পরিকল্পনাও জানানো হয়।
চিঠির তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলা হয়, বর্তমানে নির্মীয়মাণ দৈনিক ৩৫ হাজার ব্যারেল ক্ষমতার ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) ২০২৭ সালের মার্চে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে এপ্রিল থেকে জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এর আগেই ১৪ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে প্ল্যান্টটির জন্য বছরে ২০ লাখ টন অ্যারাবিয়ান লাইট ক্রুড অথবা মারবান ক্রুড আমদানির আগ্রহের কথা জানানো হয়েছিল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা হায়দার এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণব কুমার সাহার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সুপার পেট্রোকেমিক্যালের ১২ লাখ টন ক্রুড অয়েল আমদানির প্রস্তাবটি আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছি। বর্তমানে বেসরকারি কিছু প্রতিষ্ঠান কনডেনসেট আমদানি করে অথবা দেশীয় উৎস থেকে কনডেনসেট সংগ্রহ করে তা প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ কার্যক্রম চলে আসছে। এ ক্ষেত্রে ২০২৩ সালের নীতিমালায় আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণের সুযোগ রয়েছে। তাই বিদ্যমান নীতিমালা, অনুমোদন এবং তাদের কার্যক্রমের আইনি ভিত্তি যাচাই করতে হবে। শুধু সাদা চোখে দেখলে হবে না, বিষয়টি গভীরভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।’
বিপিসির একজন দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সুপার পেট্রোকেমিক্যালের প্ল্যান্টেরই অনুমোদন নেই। একই সঙ্গে তারা যে কনডেনসেট পরিশোধন করে তেল উৎপাদন করছে সেটিরও অনুমোদন নেই। আর জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা অনুমোদনহীন প্ল্যান্টের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়টি ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ প্রকল্প ও জাতীয় স্বার্থের ঝুঁকি : বাংলাদেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি পরিশোধনাগার চট্টগ্রামের পতেঙ্গার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)। বর্তমানে এর বার্ষিক পরিশোধনক্ষমতা ১৫ লাখ মেট্রিক টন। দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানির চাহিদা পূরণে ইআরএল-২ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্বিতীয় ইউনিটের পরিশোধনক্ষমতা হবে বার্ষিক ৩০ লাখ টন। এ অবস্থায় অনুমোদনহীন একটি বেসরকারি রিফাইনারিকে বিপুল পরিমাণ ক্রুড আমদানির সুযোগ দেওয়া হলে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ও জ্বালানির বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব কী হবে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে সারা বিশ্বে জ্বালানি একটি স্পর্শকাতর পণ্য। দেশে সরকারি অনুমোদন ছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে রিফাইনারি নির্মিত হলে তা জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলবে। অনুমোদন না নিয়ে রিফাইনারি করা আইনের লঙ্ঘন। এতে তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত।’
জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রভাব : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট রিফাইনিং নীতি অনুসরণ না করে আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বিশাল আকারের কৌশলগত অপরিশোধিত তেল আমদানির অনুমতি দেওয়া আন্তর্জাতিক নীতি ও দেশের আইনের পরিপন্থী।
বিশেষজ্ঞরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, যেখানে ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে কাজ করছে, সেখানে সরকারি অনুমতি ছাড়া একটি বেসরকারি রিফাইনারি কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে প্ল্যান্ট তৈরি করে ফেলছে। কিন্তু বিপিসি বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।