Image description

ভুয়া এলসিতে প্রায় ২৮ কোটি টাকার রপ্তানীকৃত পণ্যের মূল্য না পাওয়া ও চলতি মূলধনের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পাওয়া খুলনার সুপারেক্স লেদার কারখানা। এটি খুলনার ফুলতলার উত্তরডিহিতে অবস্থিত এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারখানা। বর্তমানে কারখানাটিতে দেড় হাজার শ্রমিক কর্মরত থাকলেও চলতি মূলধনের অভাবে কারখানার ২০ শতাংশ উৎপাদন ক্ষমতাও কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ফলে উৎপাদন ব্যয়, কর্মচারীদের বেতন ও ব্যাংক ঋণের চাপ বাড়ছে।

জানা যায়, ২০১৬ সালে ফুলতলার উত্তরডিহিতে ৪০ একর জমিতে সুপারেক্স লেদারের যাত্রা শুরু হয়। প্রায় এক একর জায়গাজুড়ে মানসম্মত বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) থাকায় এলডব্লিউজি সনদ পায় প্রতিষ্ঠানটি। এখানে দৈনিক ১ লাখ বর্গফুট ফিনিশড চামড়া উৎপাদন হয়। কারখানার ১৫ একর জমিতে লেদারের ব্যাগের কারখানা করে প্রতিদিন ১ হাজার ব্যাগ উৎপাদন করা সম্ভব। এতে এ অঞ্চলের আরও প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফিরোজ আহমেদ ভুইয়া জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে লেদারে ব্যাগের চাহিদা রয়েছে। 

কিন্তু মূলধন সংকটে তিনি এটি চালু করতে পারছেন না। তিনি জানান, ২০২০ সালে করোনাকালীন ইতালি থেকে ২৮ কোটি টাকার পণ্য বিক্রির এলসি ব্যাংক সঠিক বললে তিনি পণ্য পাঠান। কিন্তু পরে সেই এলসি ভুয়া ধরা পড়লে তিনি আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর আগে ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত তার আরেকটি প্রতিষ্ঠান সুপার জুট মিল থেকে ২৪টি দেশে সুতা রপ্তানি হতো। সুতা রপ্তানিতে প্রতিদিন তাঁর নিট মুনাফা ছিল ৩০ লাখ টাকা। এ অবস্থায় ব্যাংক থেকে তাঁকে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা চামড়া শিল্পে বিনিয়োগের আশ্বাস দিলে তিনি লেদার কারখানা চালু করেন। 

কিন্তু পরবর্তীতে ব্যাংক লেদার কারখানায় ২৩০ কোটি টাকা ঋণ দিলে তিনি পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারেননি। ফলে বৃহৎ প্রতিষ্ঠানটি চালু রাখতে তুলনামূলক উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কর্মচারীদের বেতন ও ব্যাংকের প্রতিশ্রুত টাকা না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এশিয়ার বৃহত্তম লেদার কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলে কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মসংস্থান হারাবেন। এরই মধ্যে শ্রমিকরা কর্মসংস্থান হারানোর শঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় লেদার কারখানা চালু রেখে সেখানে ব্যাগ তৈরি করে রপ্তানিতে সহায়তা করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।