বাচ্চার কান্না থামাতে, মোবাইলে রিচার্জ চেয়ে ও কিছু ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার জন্য মানুষ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করছেন। অথচ এ সেবাটি মানুষকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা যেকোনো সংকটময় অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য চালু করা হয়েছে। পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯-এর দায়িত্বপ্রাপ্তদের দেওয়া তথ্যে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত এই জরুরি সেবা নিতে মোট ৭ কোটি ৪৪ লাখ ১ হাজার ৫৪৯টি ফোনকল আসে। এর মধ্যে ৪ কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার ৪৩১টি কলই (৫৫.১৪%) ছিল অপ্রয়োজনীয়, ফাঁকা কল (ব্ল্যাংক কল), ক্রাংককল (কাউকে বিরক্ত করতে যে কল) ও মিসড কল। যা মোট ফোনকলের অর্ধেকেরও বেশি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এসব অপ্রয়োজনীয় কলের কারণে প্রকৃত সেবাগ্রহীতা যারা বিপদে পড়ে ৯৯৯-এ ফোন করছেন তাদের সেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে। পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ৯৯৯-এ যে ফোনকলগুলো আসে তার বড় একটি অংশই ফাঁকা কল। এই কলদাতারা ফোন দিয়ে ৯৯৯ নম্বরটি অপ্রয়োজনে ব্যস্ত করে রাখে। অনেকেই আছেন ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার ভালো লাগছে না এখন কী করব’! যখন এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় কল দিয়ে কেউ নম্বর ব্যস্ত রাখে তখন প্রকৃত সেবাগ্রহীতাদের সেবা নিতে সমস্যা তৈরি হয়।
জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ এর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৭ হাজার ৮১১৮টি (৪৪.৮৬%) ফোনকলে সেবা দেওয়া হয়। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে জরুরি সেবার চেয়ে মানুষ বেশি অপ্রয়োজনেই ৯৯৯-এ ফোন দিচ্ছে। এর মধ্যে ৩ কোটি ২১ লাখ ১৯ হাজার ৫২৭টি ছিল ফাঁকা কল। মিসড কলের সংখ্যা ছিল ৬১ লাখ ৯২ হাজার ২২৯টি। আর ক্রাংক বা বিরক্তিকর কল ছিল ২৭ লাখ ১১ হাজার ৬৭৫টি। এসব কল মিলে চালু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৯৯৯-এ মোট ভুয়া কল রেকর্ড করা হয়েছে ৪ কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার ৪৩১টি।
এতে এই জরুরি সেবা কার্যক্রমের সময় সেবাগ্রহীতাদের সেবা দিতে সংশ্লিষ্টদের চাপে পড়তে হয়। কিছু ক্ষেত্রে বারবার বিরক্তিকর ফোন নম্বরগুলো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ ফোনকলগুলোর মধ্যে এই সময়ে ২৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০টি ফোনকলে পুলিশসংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয়। ২ লাখ ১৬ হাজার ৩৩৩টি ফোনকলে অগ্নিদুর্ঘটনাসংক্রান্ত সেবা দেওয়া হয়েছে। আর ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯১০টি ফোনকলে অ্যাম্বুলেন্সসংক্রান্ত সেবা দিয়েছে জাতীয় জরুরি এই সেবা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেকেই ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে কথা বলেন না, রিং হওয়ার আগেই লাইন কেটে দেন।
আবার কেউ কেউ নানা অজুহাতে ফোন দিয়ে সেবাদাতাদের বিরক্ত করেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ আজেবাজে কথা বলেন। কেউ কেউ নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির মতো বিষয় নিয়েও ফোন দেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১-এর ৭০ ধারা অনুযায়ী অযৌক্তিক ও বিরক্তিকর কলকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদে র বিধান আছে।