Image description

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর)। তবে তদন্তকাজ শেষ না হওয়ায় আরও তিন কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়েছে।

বিষয়টি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দীন খান।

তিনি বলেন, আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তদন্ত শেষ হয়নি জানিয়ে কমিটি আরও তিন কার্যদিবস সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। আবেদন মঞ্জুর করে আরও তিন কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আগামী সোমবার বিকেলের মধ্যে তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদনে সুপারিশের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টার দিকে হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলায় লিফল কন্ট্রোল রুম অতিরিক্ত গরম হয়ে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে ধারণা করে ফায়ার সার্ভিস। ঘটনার সময় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচণ্ড ধোঁয়া বের হতে থাকে। পরে ফায়ার সার্ভিসের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন ও ধোঁয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় পুলিশের তথ্যে ছয়জন মারা যাওয়া খবর সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। পরে চারজনের মৃত্যুর তথ্য সামনে এলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন দুজন আগুনের আতঙ্কে মৃত্যু হওয়ার কথা স্বীকার করে।

এদিকে হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার দিন সোমবার রাতেই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে কমিটির প্রধান করা হয় হাসপাতালের ইউনিট প্রধান (মেডিসিন) অধ্যাপক ডা. গোলাম রহমানকে। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন— হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান, ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অর্ণব বিশ্বাস, গণপূর্ত বিভাগের আওতাধীন নেত্রকোনার কেন্দুয়ার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) মো. মাজেদুর রহমান ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী।

হাসপাতালের লিফটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরের। হাসপাতালের লিফট কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটিতে ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তাকে রাখায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। সঠিক তদন্ত হবে কিনা এ নিয়ে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন। এরইমধ্যে সমালোচনার মুখে পাঁচ সদস্যের কমিটি বাতিল করে মঙ্গলবার নতুন ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগের কমিটিতে থাকা ময়মনসিংহ গণপূর্ত বিভাগের দুই কর্মকর্তার নাম বাদ দেওয়া হয়।

নতুন কমিটিতে হাসপাতালের ইউনিট প্রধান (মেডিসিন) অধ‍্যাপক ডা গোলাম রহমানকে সভাপতি ও হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ময়মনসিংহের বিক্রি ও বিতরণ বিভাগ-২ দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী, হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জন ডা. মোহাম্মদ খন্দকার মো. আনোয়ার হোসেন ও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী।

অগ্নিকাণ্ডের পরদিন মঙ্গলবার পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। কমিটিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামানকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি এবং ঘটনার সার্বিক বিষয় তদন্ত করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

এরই মধ্যে গত ১৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে নাগরিক সংগঠন ‘ময়মনসিংহ মঞ্চ’। হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা দূর করা এবং অগ্নিকাণ্ডে হতাহত নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসময় হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হতাহত নিয়ে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ তুলে বিভাগীয় কমিশনার, হাসপাতালের পরিচালক ও উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণের দাবি জানায় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি বাতিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানায় সংগঠনটি।

এদিকে হাসপাতাল প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল গত ২০ সেপ্টেম্বর। তবে তদন্তকাজ শেষ না হওয়ায় আরও পাঁচ কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়। সে অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। তবুও তদন্তকাজ শেষ না হওয়ায় আরও তিন কার্যদিবস সময় বাড়ানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. জাকিউল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আমাদের গঠিত ছয় সদস্যের কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির গাফিলতি থাকলে তার কারণ উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটার প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপনসহ সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।