Image description

১৯৬০ সালে যাত্রা করা বরিশাল বিসিক শিল্পনগরী ৬৬ বছরেও প্রত্যাশিত শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি। একসময় যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও উদ্যোক্তার অভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে না উঠলেও বর্তমানে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পায়রা বন্দর চালু হওয়ার পরও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। শিল্পনগরীতে খালি থাকা ১১২টি প্লট বরাদ্দ দিতে গত ১৫ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। নির্ধারিত সময়ে মাত্র ২২টি প্রতিষ্ঠান ফরম সংগ্রহ করায় আবেদন গ্রহণের সময় ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বড় ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি হয়েছে। তবে গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল নয় এমন বিভিন্ন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। বরিশাল বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ১৩১ দশমিক ৬১ একর জমির ওপর ১৯৬০ সালে শিল্পনগরীটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে মোট প্লট ৫৩০টি। এর মধ্যে পুরোনো অংশে ৩৯৭টি এবং নতুন অংশে ১৩৩টি উন্নত প্লট রয়েছে। ১৭৭টি শিল্প ইউনিটের অনুকূলে ৪১৮টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও ১১২টি প্লট এখনো বরাদ্দের অপেক্ষায়। বর্তমানে শিল্পনগরীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৮ হাজার ৩২০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ৫৭৮ নারী এবং ৩ হাজার ৭৪২ পুরুষ।

বরাদ্দ পাওয়া প্লটগুলোর মধ্যে খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্যের ৫৪, বস্ত্র ও বস্ত্রজাত পণ্যের ১৯, প্রকৌশল ২২, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস ৬, কেমিক্যাল ৩৬, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ৬, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং ১২, বন ও বনজ ১১ এবং বিবিধ ১৩টি শিল্প ইউনিট উৎপাদনে রয়েছে। বিসিকের হিসাবে বর্তমানে শিল্পনগরীতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৮৯৭ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

বরিশাল বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা গোলাম রসুল জানান, খালি ১১২টি প্লটের মোট জমির পরিমাণ প্রায় ২০ একর। তিনি জানান, ১১২টি প্লটের জমির মূল্য প্রতি শতাংশ ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভূমি উন্নয়ন কর প্রতি শতাংশে দেড় টাকা এবং সার্ভিস চার্জ আড়াই টাকা। বিসিকের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্যাস একটি বড় সমস্যা। গ্যাস না থাকায় এখানে বড় ও মাঝারি কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি।’ বিদ্যুৎ সরবরাহও একটি সমস্যা বলে জানান তিনি। এ সমস্যা সমাধানে একটি উপকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে এবং শিল্পনগরীর জন্য ডেডিকেটেড ফিডার চালুর আশ্বাস দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্লটগুলো বরাদ্দ হয়ে গেলে নিরাপত্তাজনিত সমস্যাও থাকবে না বলে দাবি করেন তিনি।