Image description

প্রায় ২০ বছর পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশে ঋণের বোঝা মাথাপিছু প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। ড. ইউনূসের সময় থেকেই বিদেশি বিনিয়োগ নেই। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং ইরানের সঙ্গে ইসরাইল-আমেরিকার যুদ্ধে জ্বালানির বৈশ্বিক সংকট। বৈশ্বিক সংকটের সেই ঢেউ বাংলাদেশে আছড়ে পড়ায় কলকারখানায় উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশে বিনিয়োগে আসি আসি করছে; তখন দিল্লিতে বসে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এর মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ঘোষণা এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নানামুখী কর্মসূচি গৃহীত হচ্ছে। ফ্যাসিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, খাল খনন, অবৈতনিক নারী শিক্ষা সাহসী সিদ্ধান্ত। এখন প্রয়োজন বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে খাদের কিনার থেকে গতিশীল করতে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস। সরকারি দল, বিরোধী দল, সংসদের বাইরের রাজনৈতিক দল, প্রশাসনের সচিবালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আমলা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করে যাওয়া সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগে একাধিকবার সবাইকে দেশ গঠনে কাজ করার আহবানও জানিয়েছেন। এমনি সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য দেখে দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। সোশ্যাল মিডিয়া ফটোকার্ড করে ছড়িয়ে দেয়া ওই বক্তব্যে স্পিকার বলেছেন, ‘আমলারা সবাই চোর’। তার এ বক্তব্য গণমাধ্যমগুলো গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করেছে। টিভির টকশোতে আলোচকরা এ নিয়ে আলোচনা করছেন-বিতর্ক করছেন।

স্পিকারের বক্তব্য নিয়ে আমলাদের মধ্যে যখন অসন্তোষ, কানাঘুষা; তখন ১৫ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর একটি বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাসছে। মন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ হলো চুরি করা’। তার এ বক্তব্য দেশের সব পত্রিকায় গুরুত্ব দিয়ে ছাপানো হয়েছে। এ কেমন বক্তব্য! জাতীয় সংসদের স্পিকার, দায়িত্বশীল মন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের কি ক্ষেপিয়ে তুলছেন? রাজনীতিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দেন আমলারা সেটা বাস্তবায়ন করেন। অফিসের কোথায় কোন কাগজপত্র মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা তার খোঁজও রাখেন না। এটাই বাস্তবতা। ফলে আমলাই হচ্ছেন প্রশাসনের প্রাণ।

আমলাদের বাদ দিয়ে প্রশাসনকে গতিশীল করা কি সম্ভব? এটা ঠিক শেখ হাসিনা ১৫ বছর ৮ মাসের শাসনামলে গোটা প্রশাসনকে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগিকরণ করে গেছেন। ফলে সতর্কতা আবশ্যক। এমন অবস্থায় নানা মত পথের আমলাদের কথার জাদুতে ফেলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়ার দৃঢ় সংকল্প হওয়ার কথা; তখন সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা অযাচিত বক্তব্যের মাধ্যমে আমলাদের মধ্যে বিদ্বেষ সৃষ্টির চেষ্টা কেন? আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা কি বলে? সিভিল প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক নিজেদের স্বার্থে সবাই ঐকবদ্ধ। নিজেরাই নানা নামে সংগঠন গড়ে তুলে নিজেদের একতাবদ্ধতা অটুট রেখেছেন। তাদের একজনের কিছু হলে সবাই তার পক্ষ নেয়। প্রতিটি সেক্টরে একই চিত্র। হাসিনা গংরা যখন আমলাদের ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছেন; তখন আমলাদের নিয়ে স্পিকার ও মন্ত্রীর অযাচিত বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

হৈচৈ দেখে স্পিকার-মন্ত্রী আসলে কি বলেছেন তা দেখার চেষ্টা করলাম। ভোলায় এক অনুষ্ঠানে হাফিজ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘ বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমাদের...অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে’। আবার লক্ষ্মীপুরে মতবিনিময় সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘আমাদের রাজনীতিবিদদের কাজ হলো বক্তৃতা দেয়া। সরকারি চাকরিজীবীদের কাজ হলো কিছু চুরি করা, কিছু কাজ করা। তবে আমরা চাই, বর্তমান প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সমাজটা পরিবর্তন হোক’। সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন ‘বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না’ এমন চক্র তৎপর, সরকারের ‘তিল পরিমাণ ভুল’ হলে সেটাকে ‘তাল বানিয়ে’ প্রচারে মরিয়া একটি চক্র। আমলাদের মধ্যে নানাভাবে বিভক্তি সৃষ্টি করে প্রশাসনকে ‘গতিহীন’ করতে মাঠে ষড়যন্ত্রকারীরা; তখন দায়িত্বশীল মন্ত্রী-এমপিদের কথাবার্তা আরো সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।

মনে পড়ে গেল আব্বাস ভাইর (মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসনের এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা) কথা। বিদেশে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরে গত ৫ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দল ও সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ‘এই দলের (বিএনপি) বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে, আপনার বিরুদ্ধেও অনেক ষড়যন্ত্র হবে। আপনি দয়া করে সাবধান থাকবেন’। তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপির পরীক্ষিত এই নেতার পরামর্শ খুবই তৎপর্যপূর্ণ। বলতে দ্বিধা নেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নানান ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেছেন।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার সময় তিনি নানা দলমতের মানুষের সমাহার ঘটিয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠালগ্নে যারা বিএনপিতে এসেছেন এবং পরবর্তীতে ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল তথা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের মাধ্যমে মূল দলে এসেছেন; বিএনপির প্রতি তাদের দরদ ও কমিটমেন্ট এবং এরশাদের মন্ত্রী-এমপি এবং আওয়ামী লীগের সহযোগী রাজনীতিক-ব্যবসায়ী থেকে যারা বিএনপিতে এসেছেন তাদের দরদ এক হওয়ার কথা নয়। ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের সময় আমরা সেটা দেখেছি। 

যারা যেভাবেই বিএনপির রাজনীতিক হোন না কেন তাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুসরণ-অনুকরণ করা উচিত। তারেক রহমান যখন লন্ডনে থাকতেন তখন ফোনে নিয়মিত আলাপ হতো। কখনো তিনি ফোন করতেন কখনো আমি ফোন করতাম। দেশের রাজনীতি-অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা হতো। তখন থেকেই তাকে সাচ্ছা দেশপ্রেমিক মনে হয়েছে। ক্ষমতায় আসার পরও গত ছয় মাসে তার রাজনৈতিক আচরণ, বাস্তবতার আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যাপক পরিবর্তন চোখে পড়ে। 

তার সাদামাটা পোশাক, খাওয়া-দাওয়া, ব্যক্তিগত জীবনযাপন, লন্ডনি সময়জ্ঞান, দাফতরিক কাজে নিজের নাম ও পদের আগে ‘মাননীয়’ ধরনের সম্মানসূচক শব্দের ব্যবহার পরিহার; তেমনি অপ্রয়োজনীয় প্রটোকল ও কৃচ্ছ্রতাসাধনে আড়ম্বর কমানো, সরকারি প্রচারণায় ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা এড়ানোর সিদ্ধান্তগুলো চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চেয়ারের ক্ষমতায় থেকেও জনগণের সেবক মানসিকতার যে দৃষ্টিভঙ্গির বহিঃপ্রকাশ, দৃশ্যমান চাকচিক্য কমানো, অন্যের সামনে নিজেকে বিনয়ের ভঙ্গিতে উপস্থাপন করার মধ্যে একজন সাধারণ নাগরিক ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব কমে যাওয়ার বার্তা দেয়। 

আগেই বলেছি, তারেক রহমান দেশ গঠনে সকলকে ঐকবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ক্ষমতা গ্রহণের এই কয়েক মাসে তার রাজনৈতিক ভাষায় পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কাদা ছোড়াছুড়ি, আক্রমণ-পালটা আক্রমণ, হুমকি, বিদ্রƒপ এবং প্রতিপক্ষকে প্রায় শত্রু হিসেবে উপস্থাপনের অভ্যস্ততার সংস্কৃতি পরিহার করে তিনি বিরোধী পক্ষের রাজনীতিকদের অমার্জিত কটাক্ষ, সমালোচনা ও উদ্বেগের জবাব তুলনামূলক সংযত, শালীন ও গঠনমূলক শব্দচয়নে দিচ্ছেন। তার রুচি ও ব্যতিক্রমী শিষ্টাচার আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন মানদণ্ড তৈরি হতে পারে। সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপিদের উচিত তারেক রহমানকে অনুসরণ ও অনুকরণ করা।

দেশি-বিদেশি শত্রুরা যখন নানা ফর্মে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত; তখন অযাচিতভাবে আমলাতন্ত্রের সঙ্গে যুদ্ধ বাধিয়ে এবং ‘আমলারা চোর’ অসম্মান করে প্রশাসনকে গতিশীল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এটা অতীতে সম্ভব হয়নি; ভবিষ্যতেও সম্ভব হবে না। বরং কথার মাধ্যমে, আচরণ এবং ব্যবহারের মাধ্যমে আমলাদের ব্যবহার করে প্রত্যাশিত কাজ আদায় করাই হচ্ছে সময়ের যোগ্য নেতৃত্ব। পেছনের দিকে তাকালে আমরা কি দেখি? ২০২০ সালে চীনের কাছ থেকে করোনার টিকা ক্রয়ের চুক্তি করার পরও সেটা বাদ দিয়ে ভারতের কাছ থেকে টিকা কেনার জন্য আগাম প্রায় সাড়ে ৫শ’ কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল।

আগাম টাকা নিয়েও ভারত প্রতারণা করেছে এবং সে টিকা যথাসময়ে দেয়নি। এটা কিন্তু হয়েছিল কিছু আমলার ভারতপ্রীতির কারণেই। কোনো আমলা দলবাজি করলে এবং ভিন্ন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে মনে হলে বা প্রয়োজন নেই মনে হলে তাকে চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত করা এবং ওএসডি করা যেতে পারে। কিন্তু সেটা না করে দায়িত্বশীলদের ‘সকল আমলা চোর, ঘুষখোর’ এমন বক্তব্য সমগ্র আমলাদের অপমান করা এবং সরকারের বিরুদ্ধে তাদের উসকে দেয়ার নামান্তর।

বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনামলের দিকে তাকালে আমরা কি দেখি? ওই সময় আমলাদের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। লাইন ধরে বাকশালে যোগদান করেছিলেন আমলারা। অতঃপর বিসিএসের একটি ক্যাডারের নাম ছিল ‘তোফায়েল ক্যাডার’। অথচ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেতৃত্বের জাদুবলে মেধাবী ও যোগ্য ব্যক্তিদের মন্ত্রী-এমপি করে মুজিবপ্রেমী আমলাদের জাতীয়তাবাদী ধারায় এনে প্রশাসনকে গতিশীল করতে সফল হয়েছিলেন।

১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন এ জেড এম নাছিরুদ্দীন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসনকাল তথা জিয়াউর রহমানের অধীনে শীর্ষ আমলা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন লেখায়। এ জেড এম নাসিরুদ্দীনের মতে, ‘জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন বিরল ও অনুকরণীয় সৎ রাষ্ট্রনায়ক। রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। তার সাধারণ জীবনযাপন এবং সততা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তাদেরও সততার সাথে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করতো। 

নাসিরুদ্দীনের মতে, জিয়াউর রহমান প্রশাসনের ভেতর একটি জবাবদিহিমূলক এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি তৈরি করতে পেরেছিলেন, যা দেশের উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। কৃষি ও অর্থনৈতিক বিপ্লব, বিশেষ করে দেশব্যাপী স্বনির্ভরতা অর্জনে ব্রতী ছিলেন। সাবেক এই সিএসপি কর্মকর্তার চোখে শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক, কঠোর পরিশ্রমী এবং সৎ রাষ্ট্রনায়ক, যিনি বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে একটি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর জন্য আজীবন চেষ্টা করে গেছেন। তার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, এমপিরা তাকে অনুসরণ করে কাজ করায় আমলারা দায়িত্ব পালনের সদাজাগ্রত থাকতেন’। 

আমি তারেক রহমানের মধ্যে পিতার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি। ফলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়তে ক্যাবিনেট সদস্য, স্পিকার-ডিপুটি স্পিকার, সংসদ সদস্যদের তাকে অনুসরণ করে প্রশাসনের সচিব থেকে শুরু করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পর্যায়ে কর্মরত সকল আমলাকে কাজে লাগাতে হবে। মনে রাখতে হবে একদিকে দেশের অর্থনীতি বিপর্যস্ত। বিদেশি বিনিয়োগ নেই। বেকারত্ব বাড়ছে। অন্যদিকে দিল্লিতে বসে ওরা বাংলাদেশকে রক্তাক্ত করতে মুখিয়ে রয়েছে। এমন অবস্থায় নিজেদের মধ্যে বিভেদ নয়, আমলাদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টির অপচেষ্টা নয়, নিজ নিজ অবস্থান থেকে অধীনস্থদের কাজে লাগিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ গড়তে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপিদের ব্রতী হতে হবে।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, এইচ এম এরশাদও তার শাসনামলে আমলাদের মধ্যে বিভেদ বা অসন্তোষ না ছড়িয়ে তাদের প্রশাসন গতিশীলতায় কাজে লাগিয়েছিলেন। এমনকি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছিলেন উলঙ্গভাবে। কিন্তু সরকারি চাকুরে আমলাদের মধ্যে অসন্তোষ এবং বিদ্বেষ না ছড়িয়ে প্রত্যাশিত কাজ করে নিতে সক্ষম হয়েছেন। আমলাদের ক্ষেপিয়ে তুলে প্রশাসনকে গতিশীল করা অসম্ভব। ১৯৯৬ সালে আমলারাই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছিল।