রাজধানীর পল্লবীতে সাংবাদিকের বাসায় গুলির ঘটনায় ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের আতিক ওরফে ‘আতিক চোরা’সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এ সময় ৯ রাউন্ড তাজা গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, গুলির ঘটনায় জড়িত ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের অন্যতম সহযোগী ও সক্রিয় সদস্য আতিক চোরা (২২), পলাতক আসামি রবিনের (২২) মা ডলি বেগম (৪৫) এবং কিশোর গ্যাং সদস্য নিলয় সুজন (৩১)।
এসআরবি বলছে, রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবীসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি চালিয়ে আসা ‘ভইরা-দে’ গ্রুপ বা আশিক গ্রুপের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। এর জেরে তার বাসায় গুলি চালানো হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন এসআরবি-৪-এর পদাতিক অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে পল্লবীর সবুজবাংলা এলাকায় একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকের বাসায় হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর দাবি, দুটি মোটরসাইকেলে করে চারজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গভীর রাতে তার বাসায় এসে তাকে খোঁজাখুঁজি করে। একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন।
ঘটনার পরপরই এসআরবি-৪-এর একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি, সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা সূত্রের ভিত্তিতে এ ঘটনায় রবিন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যায়।
পরে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পল্লবীর তালতলা বস্তি এলাকায় রবিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে তার মা মাদক কারবারি ডলি বেগমকে গ্রেফতার করা হয়। তবে টের পেয়ে রবিন পালিয়ে যায়। এ সময় ডলি বেগমের কাছ থেকে ৭৪৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১৫ গ্রাম ইয়াবা ট্যাবলেটের গুঁড়া উদ্ধার করা হয়।
হাফিজুর রহমান বলেন, পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, আসামিরা পল্লবীর মোহাম্মদিয়া মার্কেট এলাকায় অবস্থান করছে। মঙ্গলবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে সেখানে অভিযান চালিয়ে ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের অন্যতম সহযোগী ও সক্রিয় সদস্য মো. আতিক ওরফে চোরা আতিককে গ্রেফতার করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যে গুলির ঘটনায় জড়িত আসামি রবিন (২২), ইব্রাহিম, শুটার শাহিন (২৫) এবং আল আমিনের মাদক সেবন-বিক্রি ও আড্ডার স্থানে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে একটি টিনের ঘরের পেছন থেকে একটি খালি ম্যাগাজিন, ৯ রাউন্ড তাজা গুলিসহ একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া একই রাতে পল্লবী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম সক্রিয় সদস্য মো. নিলয় সুজনকে (৩১) গ্রেফতার করা হয়।