Image description

রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তি মিললেও আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য থেকে শুরু করে বৈদেশিক লেনদেনের সার্বিক হিসাবে অস্বস্তি কাটেনি। রেকর্ড বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে শেষ হওয়া আগের অর্থবছরের পর নতুন অর্থবছরের শুরুতেও সেই ঘাটতির চাপ কমার বদলে বেড়েছে। জুলাইয়ে রপ্তানি আয় কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে আমদানি ব্যয়। এতে এক মাসেই বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারে। একই সময়ে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত কমেছে, আর্থিক হিসাবে ঘাটতি অটুট রয়েছে এবং সামগ্রিক লেনদেনেও ঘাটতি বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) জুলাইয়ের প্রতিবেদনে বৈদেশিক খাতের প্রায় সব কটি সূচকেই এমন অস্বস্তির চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে ৪৩৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ৪৪২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি আয় কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।

অন্যদিকে জুলাইয়ে আমদানি হয়েছে ৬৪৪ কোটি ডলারের পণ্য। আগের বছরের একই সময়ে আমদানি ছিল ৫৯৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ। রপ্তানি কমা এবং আমদানি বাড়ার এই বিপরীতমুখী প্রবণতায় জুলাইয়ে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৫০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে ঘাটতি বেড়েছে ৩৮ শতাংশ। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে এই ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরও বড় বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে শেষ হয়েছে। ওই অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ২ হাজার ৭২৮ কোটি ডলার, আগের বছরের তুলনায় যা প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি এবং দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাসেও সেই চাপ অব্যাহত রয়েছে।

বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি জুলাইয়ে চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত কমে ৬ কোটি ডলারে নেমেছে। আগের বছরের একই সময়ে এ উদ্বৃত্ত ছিল ১২ কোটি ডলার। আর্থিক হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ৬৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যদিও আগের বছরের ৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের তুলনায় তা কিছুটা কম। এ সময়ে নিট সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ১১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, আগের বছরের ১২ কোটি ২০ লাখ ডলারের চেয়ে যা কম। সব মিলিয়ে জুলাইয়ে সামগ্রিক লেনদেনের ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলারে। আগের বছরের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৫৪ কোটি ২৩ লাখ ডলার।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাণিজ্য ঘাটতির এই বড় বৃদ্ধি বৈদেশিক খাতের দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এর পেছনে অভ্যন্তরীণ নানা সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাবও দায়ী। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পশ্চিমা দেশগুলোতে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, যুদ্ধের প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও নতুন রপ্তানি আদেশ কমেছে। অন্যদিকে এর বিপরীতে বৈশ্বিক জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের আমদানি ব্যয় বেড়েছে। ফলে রপ্তানি আয় সেভাবে না বাড়লেও আমদানি বাড়ায় বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্যে চাপ আরও প্রকট হয়েছে।