Image description

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চমান সহকারী পদে ১৩ জনকে নিয়োগ দিতে ২০১১ সালের ২ নভেম্বর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ পদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা হিসেবে স্নাতক পাস এবং সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা আছে। কিন্তু মো. শরিফুল আলম ও রাশেল আহমেদ নামে দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়, যাদের এ কাজের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ফলে নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রদান করে বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৩ লাখ ৬২ হাজার ১৪৪ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

আবার রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০ সালে এক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগের শর্তে প্রশাসনিক কাজে ৫ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। এ পদে নিয়োগ পান দিলীপ কুমার ঘোষ নামে এক কর্মকর্তা। নিয়োগের সময় তিনি বেসরকারি কলেজে শিক্ষক হিসেবে ৮ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা দেখিয়েছেন, যেখানে তার নাম এবং জন্মতারিখ ভুল। নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রদান করে বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ কোটি ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬০ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

একইভাবে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও অন্তত ৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছে। তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে গিয়ে সরকারের ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৪ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অনিয়মের এ চিত্র।

আবার টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ছুটিতে থাকা বিভিন্ন শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে ইনক্রিমেন্ট। অথচ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাফ নির্দেশনা রয়েছে, শিক্ষা ছুটিকালে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বন্ধ থাকবে। সরকারের এ নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইনক্রিমেন্ট দিয়ে অতিরিক্ত বেতন দেওয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ ১১ হাজার ৩৮৬ টাকা। একইভাবে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাপ্য না হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদোন্নতি, অতিরিক্ত ইনক্রিমেন্ট দেওয়ায় সরকারের ক্ষতি হয়েছে আরও ১ কোটি ৯০ লাখ ১১ হাজার ৩৮৬ টাকা।

শুধু তা-ই নয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মাসিক বেতন বিলে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা হারে গবেষণা ভাতা এবং ৭ হাজার টাকা হারে ডিন ভাতা বাবদ মোট ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৮৯ হাজার ১৮৭ টাকা প্রদান করা হয়েছে। অথচ চাকরি [স্বশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানসমূহ] (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০১৫-এর ভাতাসংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ১৩-২৪ মোতাবেক স্বশাসিত এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারী গবেষণা ভাতা নামে কোনো ভাতা প্রাপ্য নয়। তাই আপত্তিকৃত অর্থ আদায়পূর্বক বিশ্ববিদ্যালয় তহবিলে জমা করা এবং ওই অনিয়মের পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মন্তব্য করেছে অধিদপ্তর।

এ তিন খাতের মতো বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও দেশের ২৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাব পর্যালোচনা করে ১৩২টি খাতে ২ হাজার ৩৯৬ কোটি ৯৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৯৮ টাকার অনিয়ম হয়েছে বলে আপত্তি এনেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর। আপত্তিকৃত টাকার বিষয়ে সুস্পষ্ট জবাব না দিতে পারলে আপত্তিকৃত টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফান্ডে ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিরীক্ষা পরিদর্শন প্রতিবেদনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৩২টি খাতের মধ্যে ৪০টি খাতে গুরুতর আর্থিক অনিয়ম (এসএফআই) হয়েছে। এ খাতগুলোতে অনিয়ম হওয়া টাকার পরিমাণ ৩৬৫ কোটি ১ লাখ ২১ হাজার ৮৬৮ টাকা। ৭৮টি খাতকে সাধারণ অনুচ্ছেদ (নন-এসএফআই) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ খাতে ২ হাজার ৩১ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার ৩০ টাকার অডিট আপত্তি এনেছে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তর। এর মধ্যে এসএফআই খাতে অনিয়মের জবাব মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এবং নন-এসএফআই খাতের অডিট আপত্তির জবাব সরাসরি তিন সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের কার্যালয়ে প্রেরণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউজিসিসহ অনিয়মে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। তবে কোন বিশ্ববিদ্যালয় কত টাকার অনিয়ম করেছে, তা তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।

অডিট অধিদপ্তরের ‘কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্টে’ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিধিবহির্ভূতভাবে অবসর গ্রহণের বয়স ৫৯ বছরের অধিক গণনা করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত বেতন-ভাতা ও ছুটি নগদায়ন সুবিধা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২১ কোটি ৯২ লাখ ৩৭ হাজার ১৪ টাকা, পেনশনযোগ্য চাকরির পূর্ণ মেয়াদ না হওয়া সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণকারী শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি নগদায়ন, আনুতোষিক ও মাসিক পেনশন সুবিধা পরিশোধ করায় ১ কোটি ৫২ লাখ ১ হাজার ৫৯৫ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টারে বসবাস করা সত্ত্বেও শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বেতন-বিল থেকে নির্ধারিত হারের অপেক্ষা কম হারে বাড়ি ভাড়া ভাতার টাকা কর্তন করায় ২০ কোটি ৪২ লাখ ১৭ হাজার ২৯১ টাকা, প্রাপ্য হারের অপেক্ষা অধিক হারে বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রদান করায় ১৪ কোটি ৬২ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৬ টাকা, সরবরাহকারী, ঠিকাদার ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিল থেকে নির্ধারিত হারে উৎসে আয়কর কর্তন না করা এবং কম কর্তন করায় ১ কোটি ২১ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৪ টাকা, দোকান ও স্থাপনা ভাড়া এবং বিভিন্ন সরবরাহকারীর বিল থেকে নির্ধারিত হারে ভ্যাট কর্তন না করায় ৮২ লাখ ১৯ হাজার ৫৫৪ টাকা, প্রকল্পের ঠিকাদারি বিল থেকে কর্তনকৃত জামানতের ওপর অর্জিত সুদ সরকারি কোষাগারে জমা না করায় ৬ কোটি ৮১ লাখ ৯২ হাজার ৩২৫ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

অডিটে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি শেষ হওয়ার পরও ‘সেশন বেনিফিট’ নামে অতিরিক্ত সময়ের চাকরির বেতন ও ভাতা পরিশোধ করায় ১ কোটি ২ হাজার ৩৪৭ টাকা, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তানুযায়ী যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ প্রদানপূর্বক বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় ৩ কোটি ৪৩ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬৪ টাকা, বিধিবহির্ভূতভাবে উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতি এবং আপগ্রেডেশন প্রদানপূর্বক অতিরিক্ত বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় ৩ কোটি ৩১ লাখ ৫৪ হাজার ৮১৯ টাকা, বিধিবহির্ভূতভাবে অর্গানোগ্রাম বহির্ভূত/অতিরিক্ত পদে নিয়োগ দিয়ে বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ৪৪৭ টাকা, বিধিবহির্ভূতভাবে অর্গানোগ্রাম বহির্ভূত পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ৪৭ কোটি ৩৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৩৮ টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।

অডিট অধিদপ্তরের তথ্যমতে, প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বিধিবহির্ভূতভাবে বকেয়া বেতন-ভাতা দেওয়ায় ৪ কোটি ৭০ লাখ ৪৪ হাজার ৫০ টাকা, ইউজিসির নির্দেশনা লঙ্ঘন করে আবাসিক কোয়ার্টারে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল ভর্তুকি দেওয়ায় ১ কোটি ৭৬ লাখ ৫৭ হাজার ৫৭৫, প্রাপ্য না হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষক ও কর্মচারীদের মোবাইল ভাতা দেওয়ায় ১ কোটি ৫৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৮৮ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রাপ্যতার অতিরিক্ত টেলিফোন নগদায়ন ভাতা দেওয়ায় ১ কোটি ৮৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬৫৮ টাকা, শিক্ষকদের বিধিবহির্ভূতভাবে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত দায়িত্ব ভাতা দেওয়ায় ১০ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৪ টাকা, শিক্ষকদের বিধিবহির্ভূতভাবে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত বই ভাতা দেওয়ায় ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৭৭ টাকা, প্রাপ্য না হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা দেওয়ায় ৩২ কোটি ৭৪ লাখ ৬ হাজার ৩৪৮ টাকা, নিরীক্ষাযোগ্য রেকর্ডপত্র নিরীক্ষায় উপস্থাপন না করায় ৪৩ কোটি ৮২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৬৬ টাকা, বিধিবহির্ভূতভাবে অন-ক্যাম্পাস শিক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষক নিয়োগ করে বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় ২১ কোটি ২০ লাখ ৪ হাজার ৭৯২ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে ভর্তি ফরম বিক্রি ও ভর্তি ফি বাবদ অর্জিত অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে প্রদর্শন না করায় ১২ কোটি ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার ১৪৬ টাকা, ক্যাম্পাসে গেস্ট হাউস থাকা সত্ত্বেও ঢাকায় নিয়োগ অফিস ভাড়া করে লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করায় ২ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ৯৫০ টাকা, বীমা প্রিমিয়ামের ওপর ভ্যাট প্রদান না করায় সরকারের আরও ১১ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ২২১ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

এর বাইরেও প্রাপ্য না হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অধিকাল ভাতা প্রদান করায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ৩৩ কোটি ৭৮ লাখ ৩ হাজার ৫৩৪ টাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত আয় বাজেটে প্রদর্শন না করায় ৪৪ কোটি ৯১ লাখ ৩৮ হাজার ১৬৫ টাকা, বিধিবহির্ভূতভাবে প্রাপ্যতার অতিরিক্ত ও প্রাপ্যতাবিহীন সম্মানি প্রদান করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৪ লাখ ৩ হাজার ৫৫৫ টাকা, সম্মানি বাবদ উৎসে আয়কর কর্তন না করায় সরকারের ৩ কোটি ১২ লাখ ৩ হাজার ৫৬৭ টাকা, প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও উচ্চতর গ্রেডে বেতন নির্ধারণপূর্বক পেনশন ও আনুতোষিক প্রদান করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬০ টাকা, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না করা সত্ত্বেও পারফরম্যান্স সিকিউরিটি বাজেয়াপ্ত না করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতির পরিমাণ ৫৭ কোটি ৯১ লাখ ৩ হাজার ৮২৩ টাকা, চুক্তিমূল্যের চেয়ে ঠিকাদারকে অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করায় ৩০ কোটি ৯৫ লাখ ৬২০ টাকা, বিধিবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের নব-প্র্যাকটিসিং ভাতা প্রদান করায় ১৩ লাখ, শিক্ষা ছুটিতে থাকা শিক্ষকদের বিপরীতে অস্থায়ী শিক্ষক নিয়োগ করায় ১ কোটি ৩৪ লাখ ৭ হাজার ৮৪৪ টাকা, শূন্য পদ না থাকা সত্ত্বেও অস্থায়ীভাবে শিক্ষক নিয়োগ করে বেতন-ভাতা পরিশোধ করায় ১৯ লাখ ৭ হাজার ৪০ টাকা, সিটি করপোরেশন এলাকার বাইরে হওয়া সত্ত্বেও কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতা প্রদান করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৪ লাখ ৪৭ হাজার, চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কাজ সম্পন্ন না করা সত্ত্বেও বিলম্ব জরিমানা আদায় না করায় ৫ কোটি ৮৪ লাখ ৫২ হাজার ১৯৭ টাকা এবং বিধিবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রাপ্য বেতনের অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করায় ১৫ লাখ ৩৭ হাজার ৯২০ টাকা সরকারকে গচ্চা দিতে হয়েছে।

এ ছাড়া নন-এসএফআই খাতে ২ হাজার ৩১ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার ৩০ টাকার অডিট আপত্তির মধ্যে মধ্যে দোকান বাড়া বকেয়া, অগ্রিম দেওয়া টাকা সমন্বয় না করা করা, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কোর্সের রেজিস্ট্রেশন ফি, বাজেট না থাকা সত্ত্বেও ফার্নিচার কেনা, গবেষণা প্রকল্পের মেয়াদ শেষে গবেষণা প্রতিবেদন জমা না দেওয়া, সিন্ডিকেটে অনুমোদন ছাড়া এফডিআর করা, বাজেটের অতিরিক্ত ব্যয়, প্রকল্পের অব্যয়িত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দেওয়া, প্রাপ্য না হওয়া সত্ত্বেও উৎসব ভাতা দেওয়া, আউট সোর্সিং নীতিমালা না মেনে নিয়োগ, যথাযথ ব্যাংক হিসেব সংরক্ষণ না করাসহ আরও ১১৮টি খাত রয়েছে।

ইউজিসির অনিয়ম প্রসঙ্গে ইউজিসির অডিট বিভাগে পরিচালক নাহিদ সুলতানা বলেন, ‘এ নিরীক্ষা প্রতিবেদন এখনো আমাদের কাছে আসেনি। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না।’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, বেশকিছু বিষয়ে বিধিনিষেধ দেখেছি। তবে আপত্তিগুলো আমার সময়ের নয়। তারপরও যে বিষয়ে আপত্তি আছে তা সংশোধন করার চেষ্টা করছি। বিধিনিষেধ মানার জন্য নির্দেশ দেওয়াও হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. সোহেল রানা বলেন, অডিট অধিদপ্তর বেশকিছু বিষয়ে অবজারবেশন দিয়েছে। তার জবাব ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে।

বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কেউ কেউ এখনো রিপোর্ট হাতে পাননি আবার কেউ কেউ জবাবসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।

ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নানা ধরনের অনিয়ম করে থাকে। তবে এই যে, অনিয়মের কথা বলছেন তার থেকেও বেশি অনিয়ম হতে পারে। কারণ অডিটে সবকিছু ধরা পড়ে না। এসব দুর্নীতি প্রতিরোধ করার একটি সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। সেটার জন্য প্রধান কাজ হবে উপযুক্ত দক্ষ লোককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে নিয়োগ দেওয়া। না হলে আমরা যতই যা বিলি কোনো কাজ হবে না।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (নিরীক্ষা অধিশাখা) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে আপত্তি এসেছে, তাদের জবাব দেওয়ার সুযোগ আছে। সুষ্ঠু জবাব দিতে না পারলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’