Image description

হঠাত্ করেই জেগে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি। শুরু হয়েছে অগ্ন্যুত্পাত। কয়েক মাইল দূরের আকাশও ছাইয়ে ঢেকে গেছে। প্রভাব পড়েছে ফ্লাইট চলাচলে। পরিস্থিতির জেরে গতকাল রবিবার রাজধানী জাকার্তাসহ ইন্দোনেশিয়ার আটটি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বাতিল করে দিতে হয়। এর ফলে দেড় লাখের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন।

দীর্ঘ আট বছরের ব্যবধানে আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিতে ফের লাভার উদিগরণ হলো। ব্যাপক বিস্ফোরণ ও অগ্ন্যুত্পাতের জেরে আগ্নেয় ছাই আকাশে প্রায় ৫০ হাজার ফুট পর্যন্ত উঠে যায়। এই ঘটনায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে সেখানকার সরকার।  জানা গেছে, শুক্রবার গভীর রাত থেকে আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিতে পরপর বিস্ফোরণ শুরু হয়। গতকাল রবিবার ভোরেও আগ্নেয়গিরিটি থেকে আরো দুটি অগ্ন্যুত্পাত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে চলে সেই অগ্ন্যুত্পাত।

ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর জেরে ছাই দেখা যায় সুকর্ণ-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আকাশসীমায়। এরপর গতকাল ভোর রাত থেকে ঐ বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিল করা হয়। আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় জাকার্তার পাশাপাশি সতর্কতা জারি করা হয় সুমাত্রার দক্ষিণ প্রান্তের লাম্পুং প্রদেশে। ঐ আগ্নেয়গিরি থেকে অন্তত তিন কিলোমিটার দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বাসিন্দাদের। ব্যাহত হয় আন্তর্জাতিক রুটের ৫৮টিসহ অন্তত ৭১২টি ফ্লাইটের চলাচল।

সিংগাপুর এয়ারলাইন্স দিনের বাকি সময়ের জন্য জাকার্তাগামী ও জাকার্তা থেকে ছেড়ে যাওয়া সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এছাড়া দোহা, সিডনি, কুয়ালালামপুরসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটও এই স্থগিতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন দেড় লাখের বেশি যাত্রী। ঐ ছাইয়ের পরিমাণ না কমা পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এমনটা ঘটবে তার আভাস আগে থেকেই ছিল সরকারের কাছে। এর জেরে গত ২ জুলাই থেকে ঐ অঞ্চলে দ্বিতীয় ইন্দোনেশিয়ায় হঠাত্ সর্বোচ্চ সতর্কতা লেবেল-৩ জারি করা হয়। বিস্ফোরণের পর আগ্নেয়গিরির ছাই পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। 

ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জনগণকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে। স্থানীয় জনগণকে মাস্ক ও গগলস পরার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার আরো চার আগ্নেয়গিরিতে লেবেল-৩ সতর্কতা জারি হয়েছে। এগুলো হচ্ছে—মাউন্ট সেমেরু, মাউন্ট মেরাপি, লেওটোবি লাকি-লাকি এবং সিনাবুং।  উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়ার জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারে অবস্থিত। এই অঞ্চলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাত ও ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি। সেখানে প্রায় দিনই অগ্ন্যুত্পাত ও ভূমিকম্প হয়। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে আনাক ক্রাকাতাউর অগ্ন্যুত্পাতের কারণে মারা গিয়েছিল প্রায় ৪৫০ জন।