ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধিভুক্ত সাত কলেজের দীর্ঘদিনের সংকট সমাধান ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ)। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে আশার আলো দেখেছিলেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তাদের সংকট সমাধান তো দূরের কথা, উল্টো বিশ্ববিদ্যালয়টি ঘিরেই তৈরি হয়েছে নানামুখী সংকট। প্রশাসনিক সংকট নিরসন, একাডেমিক অধিকার, মানসম্মত শিক্ষা ও আধুনিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতে গতকাল রোববার ১৩ দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল দুপুরে ঢাকা কলেজের শহীদ মিনারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা।
২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা সাত সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কলেজগুলো হচ্ছে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। ঢাবি অধিভুক্ত করার পর থেকে তৈরি হতে থাকে নানা সংকট। নানা বৈষম্যের শিকার হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে এই সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনের মুখে সরকার গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি সমন্বিত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে আনতে ডিসিইউ স্থাপনের চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করে। এরপর গত ১০ এপ্রিল তা সংসদে পাস করা হয়।
তবে স্বতন্ত্র অধ্যাদেশ প্রতিষ্ঠার পর সংকট কাটেনি। বরং একাডেমিক ক্যালেন্ডার না থাকা ও কলেজগুলোতে প্রস্তাবিত উচ্চশিক্ষা মডারেটর নিয়োগের দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় পুরোনো পদ্ধতিতেই চলছে পাঠদান। এর মধ্যেই নতুন ব্যাচে ভর্তির সময় ঘনিয়ে এলেও শেষ হয়নি আগের ব্যাচের ভর্তি কার্যক্রম। ডিসিইউর অধীনে ভর্তি হওয়া ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা কবে ও কীভাবে হবে, তারও মিলছে না স্পষ্ট উত্তর। ফলে শুরু হয়েছে তীব্র সেশনজটের আশঙ্কা। এর বাইরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও সাত কলেজে কর্মরত বিসিএস শিক্ষকদের মানসিক মতানৈক্য লেগেই আছে। শুধু একাডেমিক কার্যক্রম নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস, টিএসসি ও প্রশাসনিক ভবন কোথায় হবে সেই তা এখনো ঠিক হয়নি। এ ছাড়া বর্তমান ব্যাচগুলোর শিক্ষাজীবনের শেষটা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে হবে এ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ প্রশ্নে শিক্ষার্থীরাও এখন দুই ভাগে বিভক্ত।
মাইগ্রেশন নিয়ে বিভক্ত শিক্ষার্থীরা সাত কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবন ঢাবি না ডিসিইউ থেকে শেষ করবেন এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। শিক্ষার্থীদের একাংশ চাচ্ছেন দেশের ঐতিহ্যবাহী ও সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাবি থেকে শিক্ষাজীবন শেষ হোক। তাদের আশঙ্কা, নবগঠিত ডিসিইউর লোকবল যেখানে মাত্র চারজন, সেখানে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক কাঠামো ও একাডেমিক কার্যক্রম এখনো গড়ে ওঠেনি। ফলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন নিয়ে যেমন অনিশ্চয়তা রয়েছে; তেমনি রয়েছে সেশনজটে পড়ার আশঙ্কাও। এসব অনিশ্চয়তার মধ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যেতে তারা কোনোভাবেই রাজি নন। আর ডিসিইউ থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করলে অধিভুক্ত লেখা ছাড়া সার্টিফিকেট মিলবে, পরীক্ষা ও ফল হবে সঠিক সময়ে। সবচেয়ে বড় বিষয় শিক্ষার্থীদের থাকবে স্বতন্ত্র পরিচয়, যা একজন শিক্ষার্থী জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ অবশ্য গত সোমবার অনলাইনে গণভোটে ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ডিসিইউতে মাইগ্রেশনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
তাদের জোর দাবি, দীর্ঘদিনের সংকট ও সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যেই তারা আন্দোলন করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছিলেন। তাই তাদের সমস্যার সমাধান না করে যদি চলমান ব্যাচগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রেখে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, তাহলে তা তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
ডিসিইউর অধীনে শিক্ষা জীবন শেষ করতে চাওয়া ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী আলিফা আরা মিম কালবেলাকে বলেন, ‘আমি মনে করি রানিং শিক্ষার্থীদের ডিসিইউতে মাইগ্রেশন হলে তারা কিছু সুবিধা পবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—অধিভুক্ত লেখা ছাড়া সার্টিফিকেট মিলবে, সঠিক সময়ে পরীক্ষা হবে, পরীক্ষার ২ মাসের মধ্যে রেজাল্ট হবে, একটি কমন সাবজেক্টে গণহারে ফেল থেকে মুক্তি মিলবে, থাকবে বিদেশে উচ্চশিক্ষার বৃহত্তর সুযোগ। এ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের থাকবে স্বতন্ত্র পরিচয়। এসব বিষয় একজন শিক্ষার্থী জন্য যেগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক আব্দুর রহমান বলেন, যেই পক্ষটি সেন্ট্রালের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পরীক্ষা দিতে চাচ্ছে না তাদের ভয় হচ্ছে যে তাদের সার্টিফিকেটটার ভ্যালু থাকবে কিনা। সেশনজট হবে কি না, ফলাফল কী হবে? এখানে তো ঢাবি পারতেছে না, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে পারবে? এইটা তাদের চিন্তা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সাতটা ক্যাম্পাসের জন্যই ডেডিকেটেড। কিন্তু ঢাবি তো সাত কলেজের জন্য না। ঢাবির রেজিস্টার ভবন তাদের শিক্ষার্থীর জন্য সেখানে তাদের কাজ শেষ করেই আমাদের কাজ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষাজীবন শেষ করতে চাওয়া ইডেন মাহিলা কলেজের শিক্ষার্থী নূরে তামান্না তাসফিয়া বলেন, সম্প্রতি ডিসিইউ থেকে চলমান সেশনগুলোর মাইগ্রেশনসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পাওয়ায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। এর আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাবিতে মাইগ্রেশনের সময় তীব্র সেশনজট ও জটিলতা তৈরি হয়। তিনি আরও বলেন, ঢাবি দেশের ঐতিহ্যবাহী ও সেরা বিদ্যাপীঠ। সাত কলেজে ভর্তি হলে ঢাবির সনদ পাব, এটা জেনেই আমরা কয়েক বছর ধরে নিজেদের মেধা, শ্রম ও অর্থ খরচ করে ঢাকায় থেকে পড়াশোনা করেছি। ঢাবির অধীনে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে, ঢাবির কাঠামোয় পড়াশোনা ও পরীক্ষা দেওয়ার পরও ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সনদ প্রদান করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্পষ্ট প্রতারণার শামিল, যা মোটেও কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষার্থী যদি মাইগ্রেশনে ইচ্ছুক হয় এবং কর্তৃপক্ষ তা মঞ্জুর করে তাতে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু কারও ইচ্ছার বিরুদ্ধে মাইগ্রেশন না করা হোক।
তীব্র সেশনজটের শঙ্কা
সেশনজটসহ নানা সংকট সমাধানের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হলেও উল্টো উঁকি দিচ্ছে সেশনজটের আশঙ্কা। এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। রীতি অনুযায়ী ফল প্রকাশের পর উত্তীর্ণরা ৬০ দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধে নামবেন। অথচ ডিসিইউ এখনো চলতি বছরের স্নাতকে ভর্তি কার্যক্রম শেষ করতে পারেনি। এখনো চলছে সাবজেক্ট নিশ্চায়নের কাজ। আবার ভর্তিকৃত ২৪-২৫ সেশনের প্রায় ১৪-১৫ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলও তাদের পরীক্ষা নিতে পারেনি। কবে পরীক্ষা হবে, তা-ও নিশ্চিত নয়। এ সময়ে এসে বর্তমান শিক্ষার্থীদের ঢাবি থেকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশন শুরু হলে এ সংকট আরও বাড়বে।
সরকারি তিতুমীর কলেজের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী রাশেদ বলেন, এরই মধ্যে আমরা অন্তিম মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি। শুধু চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা বাকি। আশা করি, সেপ্টেম্বরেই ফরম ফিলাপের ডেট দিয়ে দেবে এবং নভেম্বরে আমরা ফাইনাল পরীক্ষায় বসতে পারব। আমাদের সব কাঠামো একটা গোছানো এবং সক্রিয় কাঠামোতে আছি। এই শেষ মুহূর্তে এসে এখন নতুন করে আমাদের (২০২১-২২) সব ডাটাবেইজ ট্রান্সফার করে সদ্য প্রতিষ্ঠিত একটা কাঠামো আমাদের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করবে, তা নিয়ে আমরা বেশ সন্দিহান।
সাত কলেজ স্বাতন্ত্র্য রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও ইডেন মহিলা কলেজের ইতিহাস বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম কালবেলাকে বলেন, আমি প্রথমত আইনগত দিকটাই দেখব। একাডেমিক বা প্রশাসনিক বিষয়ে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভিসি যে জনমত যাচাই করছেন, এটা এলে কতটুকু যুক্তিযুক্ত? আর স্পষ্টই অধ্যাদেশ আইনে বলা আছে যে, ২০২৪-২৫ সেশন শর্তসাপেক্ষে ডিসিইউর স্টুডেন্ট সার্টিফিকেট পাবে। কিন্তু যারা রানিং শিক্ষার্থী তারা হঠাৎ করেই বলছে যে, তারা ডিসিইউর সার্টিফিকেট চায়। কিন্তু যেহেতু একটা আইন আছে, আইন অনুযায়ী বিষয়টা হোক। শিক্ষার্থীরা ওদের আবেগ থেকে অনেক কথাই বলছে। অধিভুক্ত থাকাকালীন ওরা অনেক ব্যাপারে কিছুটা হলেও বঞ্চনার শিকার হয়েছে, সমস্যা হয়েছে। কিন্তু আমাদের এটা দেখতে হবে, যে আইন অনুযায়ী সবকিছু হচ্ছে কি না।
সিদ্ধান্ত হয়নি স্থায়ী ক্যাম্পাসের দীর্ঘ আন্দোলনের পর চলতি বছরের ১০ এপ্রিল সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ বিল পাস হয়। এরপর ভিসি, প্রোভিসি ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ কিছু পদে নিয়োগ হলেও অধিকাংশ পদই ফাঁকা। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস কোথায় হবে, তা-ও চূড়ান্ত হয়নি। বারিধারা ডিওএইচএসে একটি ভাড়া ভবনে অস্থায়ী অফিস থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে কার্যক্রম। এ ছাড়া একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট গঠন হয়নি। নানা সমস্যা থাকায় ভর্তি কার্যক্রম, মাইগ্রেশন, পাঠদান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
অধ্যাপক মাহফিল আরা বেগম সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ওদের নিজস্ব এখনো কিছু নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত ছিল একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট এগুলো গঠন করা। গঠন করে সবাইকে নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কিন্তু এককভাবে যে এ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে যাচ্ছে, সেটা কতটুকু আইনসম্মত হচ্ছে? আবেগের বশবর্তী হয়ে কলেজগুলোতে এখন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে বিভাগ তৈরি হয়েছে এ জিনিসটা কখনোই আমার মতে কর্তৃপক্ষের উচিত হয়নি।
মাইগ্রেশন ও পরীক্ষা নিয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ কে এম ইলিয়াস বলেন, এটা ডিসিইউ আর ঢাবির বিষয়। এদের সক্ষমতা কতটুকু আছে, এরা ভালো জানে। এখন ডিসিইউর পরীক্ষা নিতে কতটা সময় লাগবে, এইটা একটা ফ্যাক্টর। কারণ ঢাবির একটা টাইম শিডিউল দেওয়া ছিল, এইটা তারা (ডিসিইউ) যদি মেইনটেইন করতে পারে, তাহলে একরকম। আর যদি না পারে তাইলে আরেক রকম। আগস্ট মাসে ফার্স্ট ইয়ারের পরীক্ষাটা শুরু করার শিডিউল ছিল। এটা সম্ভবত অক্টোবরের আগে পারবে না। দুই মাস পিছিয়ে গেল। এটার সঙ্গে সঙ্গে অন্য পরীক্ষাগুলো কতটা পেছাবে—এটাও একটা বিষয়।
সার্বিক বিষয়ে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ভিসি মো. নুরুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, বর্তমান শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে থাকতে চায়, তা নিয়ে আমরা মতামত নিচ্ছি। তাদের মতকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আর আমাদের পর্যাপ্ত শিক্ষক আছে। তারা ক্লাস নেবেন, পরীক্ষা নেবেন, পরীক্ষা কমিটিতে থাকবেন—সমস্যাটা কোথায়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করে। সেটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলেও সেইভাবে করবে, সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেও সেভাবে করবে। বাকি সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।
১৩ দফা দাবি শিক্ষার্থীদের ১৩ দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো— ১. ‘শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় উপযোগী’ শিক্ষকের ব্যবস্থা এবং বিদ্যমান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা, ২. শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং গণস্বাক্ষরের ফল প্রজ্ঞাপন আকারে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ করতে হবে, ফল প্রকাশের পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চলমান ব্যাচগুলোর অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, ৩. ডিজিটাল লার্নিং রিসোর্স, ই-জার্নাল, ই-বুক ও ডেটাবেসে সবার জন্য সমান অ্যাক্সেসের ব্যবস্থা করা, ৪. বিষয়ভিত্তিক প্রয়োজনে বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় পাঠদান ও উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ রাখা, ৫. আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা,
৬. বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা চালু ও সম্প্রসারণ করা এবং প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসের জন্য দুটি করে বাস বরাদ্দ দেওয়া, ৭. শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা করতে হবে, ৮. গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, অবকাঠামো ও শিক্ষার্থী-শিক্ষকের গবেষণায় অংশগ্রহণ বাড়ানো, ৯. শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের গবেষণার জন্য নিয়মিত ও পর্যাপ্ত গবেষণা তহবিল চালু করা, ১০. বাস্তবসম্মত একাডেমিক ক্যালেন্ডার মেনে সময়মতো ক্লাস, পরীক্ষা, ফলপ্রকাশ ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা, ১১. ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও মানোন্নয়নে কার্যকর ডুয়াল পরীক্ষা পদ্ধতি চালু ও পরীক্ষার কাঠামো স্পষ্ট করা, ১২. ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই সাতটি ক্যাম্পাসে যুগোপযোগী এবং বিষয় সংযোজন করা এবং ১৩. উপযুক্ত স্থানে দ্রুত একটি টিএসসি (ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা এবং টিএসসিকেন্দ্রিক খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কাজ, ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবাসহ নানা সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের সুযোগ নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে ২০২২-২৩ সেশনের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ বলেন, কয়েকদিন আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ডিসিইউ প্রশাসন রানিং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মাইগ্রেশনের বিষয়ে গণভোট আয়োজন করে। এ গণভোটের বিষয়ে প্রায় ১৭ হাজারের উপরে শিক্ষার্থী ‘হ্যাঁ’-কে জয়ী করেছে। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীরা যে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশন হতে চায়—এই বিষয়ে তারা একমত প্রকাশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার গণভোটের ফল প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোনো প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেয়নি।
শিক্ষার্থীদের দ্রুত পরীক্ষা শেষ করে একাডেমিক জটিলতা থেকে মুক্তির আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অতিদ্রুত সব সেশন, বিশেষ করে ২০২১-২২ সেশন এবং প্রথম বর্ষ ২০২৪-২৫ সেশনের পরীক্ষা যাতে অতি দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা হয় এবং তাদের এই একাডেমিক জটিলতা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি একাডেমিক মাইগ্রেশন ব্যাপারে কোনো ব্যত্যয় ঘটে, তাহলে যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটকে জয়ী করেছে, সেসব শিক্ষার্থীরা যদি ঢাকা শহরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে তাহলে এর দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিতে হবে।