Image description
মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়। রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হচ্ছে। এ সময় তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান -পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বহুদিন ধরে মালয়েশিয়ায় আমাদের কর্মীরা আসতে পারছেন না। একটা সমস্যা তৈরি হয়ে আছে। এ সমস্যা কাটাতে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে আমরা কথা বলব। শ্রমবাজার ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে আমরা গুরুত্ব দেব। কুয়ালালামপুরে পৌঁছে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে তিনি দেশটি সফর করছেন। দুই দিনের সরকারি সফরে রোববার তিনি কুয়ালালামপুরে পৌঁছান। তার সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন।

স্থানীয় সময় রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এছাড়া তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর বিমানবন্দর থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। হোটেলে পৌঁছে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আরও বলেন, বহুদিন ধরে যে কারণেই হোক বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় মানুষ আসতে পারছে না কাজ নিয়ে। সমস্যা তৈরি হয়ে আছে। আমরা মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে সমস্যা কাটাতে কথা বলব। একই সঙ্গে অনেক প্রবাসী ভাইয়েরা আছেন, যারা বিভিন্ন কারণে মালয়েশিয়া আটক আছেন, দেশে ফিরতে পারছেন না। তারা কীভাবে মুক্ত হয়, তা নিয়ে মালয়েশিয়ার সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব। তিনি আরও বলেন, এছাড়া অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। মালয়েশিয়ায় সেমিকন্ডাক্টর, আইটি সেক্টর খুব ভালো। আমরা তাদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাতে চাই। মালেশিয়ার ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানাতে চাই।

তারেক রহমান বলেন, পরবর্তী সময়ে যেন অদক্ষ শ্রমিক না আসে। দেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক মালয়েশিয়ায় আসবে। বাংলাদেশ থেকে যারা আসবেন, যে দেশেই হোক তাদের আমরা ট্রেনিং দিতে চাইছি। মতবিনিময়কালে মঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর পাশে তার সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও ছিলেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট কুয়ালালামপুরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্সে এক্সক্লুসিভ ভিভিআইপি টার্মিনালে অবতরণ করে। ভিভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান এবং তার সহধর্মিণী। ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান জুবাইদা রহমানকে। এ সময় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাইকমিশনার সাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রাসহকারে কুয়ালালামপুরের ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরে প্রধানমন্ত্রী, তার সহধর্মিণী ও সফরসঙ্গীরা এ হোটেলে থাকবেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও শাংগ্রি লা হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটে সড়কপথে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদার) রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণবিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) হুমায়ুন কবির, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম প্রমুখ। এছাড়া আছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, সুজন মাহমুদ প্রমুখ।

আজ স্থানীয় সময় সকালে পুত্রাজায়ায় নিজ কার্যালয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা জানাবেন। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম একান্ত বৈঠক হবে। এর পরপরই উভয় দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দুই প্রধানমন্ত্রী পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যোগ দেবেন। এ সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা নিয়েও দুটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সফরসংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উঠে আসবে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে। পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে।

আজ স্থানীয় সময় বিকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর থেকে রওয়ানা হয়ে চীনের বন্দরনগর দালিয়ানে যাবেন। ২৩ থেকে ২৬ জুন চীন সফর করবেন। ২৬ জুন বিকালে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেবেন।