পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের জন্য শত শত মুসল্লি কাতারবন্দি হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ইমাম সাহেবও নামাজ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে পাঁচ যুবকের আকস্মিক বাধা ও হট্টগোলের কারণে পণ্ড হয়ে গেল পুরো ঈদের জামাত। উৎসবের দিনে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা মাঠ ছেড়ে চলে যান এবং পরে নিজ নিজ পাড়ার মসজিদে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের পোশাই গ্রামে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়তে না পারায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এদিকে মাঠে ইমামতিকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের পুরোনো পোশাই জাতীয় ঈদগাহ মাঠে প্রতিবারের মতো এবারও তিন পাড়ার মানুষ একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঈদের নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঈদকে সামনে রেখে ঈদগাহ কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়। এর আগে একাধিক গ্রাম্য বৈঠকে বর্তমান ইমাম রমজান আলীকে বাদ দিয়ে নতুন ইমাম নিয়োগের প্রস্তাব তোলেন গ্রামবাসী। অধিকাংশ মানুষের আপত্তির মুখে একপর্যায়ে ইমাম রমজান আলী নিজেই সম্মতি দিলে কমিটি মাওলানা তৌকির আহমেদকে নতুন ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেয়।
পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আজ সকালে নতুন ইমাম তৌকির আহমেদ ঈদগাহ মাঠে বয়ান ও খুতবা পাঠ শেষ করেন। এরপর নামাজ আদায়ের জন্য মুসল্লিরা যখন কাতারে দাঁড়ান, ঠিক তখনই বিপত্তি ঘটে। মোজাম্মেল, ফরহাদ, মাসুম, সাকিব ও জাহিদ নামের পাঁচ যুবক আচমকা উত্তেজিত হয়ে চিৎকার শুরু করেন। তারা প্রশ্ন তোলেন, 'এই ইমাম কেন? এই মাঠে আগের ইমাম রমজানই নামাজ পড়াবেন।' এ নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে পুরো মাঠে হট্টগোল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে উপস্থিত সাধারণ মুসল্লিরা মাঠ ছেড়ে চলে যান এবং পরে নিজ নিজ পাড়ার জামে মসজিদে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে পোশাই জাতীয় ঈদগাহ কমিটির কোষাধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বললেন, 'কয়েকদিন ধরেই গ্রামবাসী আলোচনা করছিলেন যে, ঈদগাহের জায়গাটি পুরোপুরি ওয়াকফ না হলে সেখানে নামাজ হবে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা কমিটির লোকজন গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে দ্রুত বৈঠকে বসি। তখন অধিকাংশ গ্রামবাসী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আগের ইমাম রমজান আলী ভুল পড়ানোর কারণে তাঁর পেছনে কেউ নামাজ পড়বেন না। একপর্যায়ে ইমাম রমজান নিজেও একটি বৈঠকে উপস্থিত হয়ে স্বাক্ষর করেন এবং নতুন ইমাম নিয়োগের সুপারিশ করেন।'
জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও জানালেন, 'একজন ইমাম ভুল করার পরও কীভাবে কিছু লোকজন নিয়ে আমাদের ঈদের জামাতে বাধা দিতে পারেন? এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা। আমার প্রশ্ন—ইমামতি কি জোর করে বা প্রভাব খাটিয়ে করার বিষয়? আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।'
এ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য অভিযুক্ত ইমাম রমজান আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।