Image description

 খামারে বাদামি ডিমের পাইকারি দাম প্রতিটি ১০ টাকা ৭০ পয়সা। আড়তে ১১ টাকা ১০ পয়সা আর খুচরায় সেটি বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৩ টাকায়। ভাবা যায়! খামারি থেকে ক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছাতে একটি ডিম ২ টাকা ৩০ পয়সা বাড়তি।

খামারির উৎপাদন খরচ প্রতি ডিমে ৯ টাকা ৫০ পয়সা। প্রতি ডিমে লাভ ১ টাকা ২০ পয়সা। আড়তদার লাভ করে প্রতি ডিমে ৪০ পয়সা। খুচরায় লাভ করে ১ টাকা ৯০ পয়সা। এই হিসাব ধরলে উৎপাদন থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত প্রতি ডিমে লাভ ৪ টাকা ৫০ পয়সা। এভাবে প্রতি ডজন ডিম ৫৪ টাকা লাভে বিক্রি হচ্ছে।

চট্টগ্রামে ডিমের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার পাহাড়তলীতে। চট্টগ্রামে ৩০ লাখ পিস ডিমের চাহিদার প্রায় পুরোটাই বিক্রি হয় এখানে। প্রতি পিস ৪ টাকা ৫০ পয়সা বাড়তি হিসেবে ৩০ লাখ ডিমে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা প্রতিদিন ভোক্তার পকেট থেকে নেওয়া হচ্ছে।

সাগরে মাছ ধরা বন্ধ ১৫ এপ্রিল, চলবে ৫৮ দিন অর্থ্যাৎ ১১ জুন পর্যন্ত। এই যুক্তিতে ডিমের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এক সপ্তাহ আগে খুচরা বাজারে বাদামি রঙের মুরগির ডিমের দাম ছিল ১২৫ টাকা, এখন দাম বেড়ে ডজন ১৫৫ টাকা। আর সাদা ডিম খুচরায় ছিল ডজন ১১৫ টাকা। এখন সেই ডিম ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ঢাকায় প্যারাগন, নারিশ, কাজী ফার্মস, নর্থ এগ্রো, রানারের মতো বড় করপোরেট গ্রুপ ডিমের বাজার দখলে নিয়ে একচেটিয়া ব্যবসা করায় দাম বাড়ার এই সংকট তৈরি হয় বলে ধারণা পাইকারী ব্যবসায়ীদের। চাহিদার চার লাখ পিস একা যোগান দেয় চট্টগ্রামের নাহার পোল্ট্রি ফার্ম। বাকি ২৬ লাখের যোগান আসে ঢাকার করপোরেট গ্রুপের কাছ থেকে যাদের খামার দেশের উত্তরাঞ্চলে। চট্টগ্রামের অনেক ছোট খামারি এই চাহিদার কিছুটা জোগান দেয়।

বাজারে যোগানের ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন ডিমের সবচেয়ে বড় আড়তদার পাহাড়তলীর আবদুস শুক্কুর। ‘সাগরে মাছ ধরা বন্ধের প্রভাব প্রথমে পড়ে সবজির বাজারে। দেখবেন বাজারে সবজির দাম হঠাৎ করেই চড়ে গেছে। পরে প্রভাব পড়েছে ডিমে। আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত এই ধারা থাকবে। ঈদ আসার পরই ডিমের দাম কমবে।’

চট্টগ্রামে এককভাব যোগান দিচ্ছে নাহার এগ্রো গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকিবুর রহমান টুটুল জানিয়েছেন, মঙ্গলবার খামারে পাইকারি বাদামি ডিম বিক্রি করেছি প্রতি পিস ১০ টাকা ৭০ পয়সা। একমাস আগে দাম অনেক কম ছিল। তখন আমরা লোকসান গুনেছিলাম। এখন সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছি।

রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদার এনায়েতের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচ বেড়েছে। এর প্রভাব ডিমের বাজারে পড়েছে। এছাড়া প্রচণ্ড বৃষ্টি, রোদের তাপে অনেক ক্ষুদ্র খামারে রোগ-শোক দেখা দিয়েছে। তখন তারা লোকসানে পড়েছিলেন। এখন সেই খামারি কিছুটা হলে স্বস্তি পেলেন।

ভোক্তা পর্যায়ে ডিমের দাম আকাশচুম্বী হলেও খামারিরা বলছেন ভিন্ন কথা। বর্তমানে একটি ডিমের উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ৯.৫০ টাকা। অথচ এপ্রিলের শেষেও প্রান্তিক খামারিরা প্রতি পিস ডিম মাত্র ৬.৫০ থেকে ৭.০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। দীর্ঘদিনের এই লোকসান কাটিয়ে উঠতে না পেরে অনেক খামারি দেউলিয়া হয়েছেন।