Image description
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সব পেশার মানুষ

রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের টেন্ডার বাক্স গত ৫ মে পুলিশের নিরাপত্তার মধ্যে লুট হয়ে যায়। ৭ মে রাতে নগরীর মতিহার থানার ভিতরে পুলিশের উপস্থিতিতে হাতাহাতিতে জড়ায় দুই পক্ষ। ২৩ এপ্রিল শিরোইল বাস টার্মিনালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শ্রমিকদের সংঘর্ষের সময় সেখানে ছিল পুলিশ। ৪ এপ্রিল পুলিশের উপস্থিতিতে বড়কুঠি এলাকায় যৌন হয়রানির শিকার হন এক তরুণী।

রাজশাহীতে পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটছে এমন সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনা। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সব পেশার মানুষ। আদালত চত্বরে মবের ঘটনা বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনও করেছে আইনজীবী সমিতি। নগরবাসী বলছে, শান্তির নগরী এখন ঐতিহ্য হারানোর পথে, বাড়ছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা।

৫ মে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের-আরডিএ নিলামের টেন্ডার বাক্স লুটের ঘটনা ঘটে। বেলা ১১টার দিকে একদল যুবক পুলিশের উপস্থিতিতে আরডিএ ভবনের ভিতরে ঢুকে বাক্সটি লুট করে নিয়ে যায়। নগরীর ভদ্রা পার্কের মরা গাছ, শিরোইল বাস টার্মিনালের দুটি পরিত্যক্ত সাইনবোর্ড, আরডিএ মার্কেট ও ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের লোহালক্কড় নিলামে বিক্রির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। ওইদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত দরপত্র জমাদানের শেষ সময় ছিল। তার আগেই বাক্সটি লুট করা হয়। নিরাপত্তা শঙ্কায় আগে থেকেই পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছিল আরডিএ।

৭ মে পুলিশের উপস্থিতিতে থানার ভিতরে এক যুবককে মারধরের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইয়ের অভিযোগে পুলিশ এক যুবককে আটক করে। খবর পেয়ে সেখানে আরেক দল যুবক উপস্থিত হয়। এরপর ওসির উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

শিরোইল বাস টার্মিনালে শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের দখল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশকে অসহায় অবস্থায় দেখা যায়। এর আগে ৪ এপ্রিল নগরীর বড়কুঠি এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী পুলিশের সহযোগিতা চাইলেও নিবৃত করা যায়নি হয়রানির সঙ্গে জড়িতদের।

এদিকে আদালত চত্বরের নিরাপত্তা বাড়াতে চিঠি দিয়েছে আইনজীবী সমিতি। রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহিদী জানান, আদালত চত্বর থেকে বিচারপ্রার্থীকে তুলে নিয়ে যাওয়া, মারপিট করে মুক্তিপণ দাবির ঘটনা ঘটছে। এ কারণে পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে নগর পুলিশকে চিঠি দিয়েছেন তারা।

পুলিশের সামনেই বারবার এমন ঘটনা ঘটতে থাকায় নিজেদের             নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন নগরবাসী। সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সভাপতি আহমেদ শফি উদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে আরও কঠোর হওয়ার পরামর্শ তার।

তবে নগর পুলিশের মুখপাত্র গাজীউর রহমান জানান, পুলিশ আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। সবক্ষেত্রে আইনের মধ্যে থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।