Image description

ঢাকার সড়ক এখন ‘মগের মুল্লুকে’ পরিণত হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শিথিলতায় গোটা রাজধানীর যানবাহন চলাচলে তথা ট্রাফিকব্যবস্থা একপ্রকার ভেঙে পড়েছে। অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত রিকশা অলিগলি পেরিয়ে এখন গুলশান-বনানীর মতো ভিআইপি এলাকার প্রধান সড়কে দাপটের সঙ্গে চলছে। ব্যাটারিচালিত রিকশার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ইজিবাইকও। পুরোনো ভাঙাচোরা বাসগুলো আগের মতোই সড়কে যাত্রী তুলতে যত্রতত্র দাঁড় করাচ্ছে। আছে এক কোম্পানির বাসের সঙ্গে আরেক কোম্পানির বাসের  ওভারটেকিং। প্রাইভেট কারের উচ্চ গতি, যত্রতত্র পার্কিং আর হর্ন বাজানোও থামানো যাচ্ছে না। মোটরসাইকেল চালকদের বেপরোয়া চালনায় অতিষ্ঠ নগরীর মানুষ। এ অবস্থায় সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আজ ১৪ মে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ডিএমপি ও ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে বসার কথা রয়েছে বলে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।    

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ঢাকার ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো নিয়ন্ত্রণ করার কোনো চেষ্টাই করা হচ্ছে না। এগুলো অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ঢাকায় সড়কের পরিমাণ অনেক কম। শহরের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ২৫ শতাংশ সড়ক থাকার কথা থাকলেও আছে ৬ শতাংশের মতো। আর এমন সড়ক ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের খুচরা যানবাহনকে কোনোভাবেই চলাচলে ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দেওয়া ঠিক হয়নি। এসব অবৈধ যান কিনে অনেকে একে জীবিকার সহজ বাহন হিসেবে দেখছে। এগুলো কিনতে কোনো কাগজপত্র লাগছে না। ফলে যাদের কাছে কালোটাকা আছে তারা এগুলোতে বিনিয়োগ করছে। এসব ঘিরে অনেকগুলো শক্তি বলয় দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। একটি দুষ্টচক্র এ খাত থেকে চাঁদাবাজিও করছে।

ঢাকার অলিগলিতে আগে চললেও এখন এমন কোনো প্রধান সড়ক নেই যেখানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলছে না। গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকার প্রধান সড়কগুলোও এখন ব্যাটারিচালিত রিকশা আর ইজিবাইকে ছেয়ে গেছে। গতকাল গুলশান-২ নম্বর গোলচত্বরে শয়ে শয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করতে দেখা যায়।

নতুন উৎপাত হিসেবে যোগ হয়েছে রিকশাসদৃশ তিন চাকার আরেক ব্যাটারিচালিত যান। এর পেছনের অংশ রিকশার মতো কিন্তু সামনে অংশ যান্ত্রিক। আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে- দ্রুতগতির এই যানে মানুষের পরিবহনের সঙ্গে চালকরা ভারী মালামালও বহন করছে। ভ্যান ও পিকআপের মতো এ যানগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে এই চালকদের কোনো লাইসেন্স নেই, নেই ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ, এমনকি এসব গাড়ির কোনো নিবন্ধনও নেই। এত কিছুর পরও এ যানগুলো সব ট্রাফিক আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হচ্ছে ঢাকা এখন ১০ লাখ ব্যাটাারিচালিত রিকশার দখলে। স্থানীয় প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ঢাকার সড়কে এই যান নামাচ্ছে। এতে সড়কে এখন তীব্র বিশৃঙ্খলা ও যানজট তৈরি হচ্ছে। আবার মাত্রাতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালকদের যান চালানোর সঙ্গে নতুন সমস্যা তৈরি করছেন মোটরসাইকেল রাইড শেয়ার চালকরা।