Image description

সিলেটের শামসুদ্দিনে ঠাঁই নেই। রোগীতে ভর্তি। এক সিটে ডাবল রোগী। এতেও সংকুলান হচ্ছে না। পিআইসিইউ ৭টি। সাপোর্ট দিতে আছে এসডিইউ বেডও। কিন্তু রোগী বাড়ায় চাপ বেড়েছে। সিলেটে হামের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল এটি। বিভাগের একমাত্র হাসপাতাল। গত দু’মাস ধরে রোগীর সেবা দেয়া হচ্ছে। এই হাসপাতালে বেড হচ্ছে একশ’ শয্যার। রোববার বিকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ১২২ জন। এক বেডে দুই শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে জেলা সিভিল সার্জন ও ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতদিন চিকিৎসা প্রদানের সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন। অতিরিক্ত ১১ জন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এ হাসপাতালে আনা হয়েছে। আছেন ওসমানীর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মিজানুর রহমান জানিয়েছেন- সাধ্যমতো হামের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। যেহেতু করোনাকালীন সময়ের লড়াই করার অভিজ্ঞতা রয়েছে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। কিছু কিছু সমস্যা ছিল। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সেগুলো চিহ্নিত করে দূর করা হয়েছে। তিনি জানান- যেহেতু বর্তমানে রোগী বেড়েছে এ কারণে এক বেডে ডাবল রোগী রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদিকে বিশেষায়িত হাসপাতাল শামসুদ্দিনে যখন রোগী ভর্তির সুযোগ নেই এই অবস্থায় ওসমানী হাসপাতালে একটি ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।

আজ সোমবার থেকে পুরোদমে এই ওয়ার্ডের কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। হাসপাতালের ৩২নং ওয়ার্ডকে শিশু ইউনিট ৫ বলে এই ওয়ার্ডটি চালু করা হয়েছে। ওয়ার্ডে ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগী রেখে চিকিৎসাসেবা দেয়া যাবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে এই ওয়ার্ডের সঙ্গে আরও ৫টি পিআইসিইউ চালু করা হচ্ছে। সেটি চালু হতে কয়েকদিন লাগতে পারে। ওসমানীতে বর্তমানে ১০টি পিআইসিইউ চালু রয়েছে। সেগুলোতে রোগীর জায়গা হচ্ছে না। এ কারণে অনেক ক্রিটিক্যাল রোগীকে এসডিইউতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আরও ৭টি পিআইসিইউ চালু করা হয়েছে। গুরুতর রোগীকে পিআইসিইউতে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে সিলেটে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২২টি পিআইসিইউ চালু হয়েছে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনীর জানিয়েছেন- হামের চিকিৎসার জন্য আগে থেকেই বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু করা হয়েছিল। বর্তমানে রোগী বাড়ায় ওসমানী হাসপাতালে আরও একটি ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে পিআইসিইউও। তিনি বলেন- বিশেষায়িত হাসপাতাল চালুর পর রোগী বাড়লে কী কী উদ্যোগ নিতে হবে সেটি আগে থেকেই চিন্তাভাবনা রাখা হয়েছিল। সেজন্য রোগী বৃদ্ধির হার বেড়ে যাওয়ার পর পরই ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে- হাসপাতালে ৫টি ওয়ার্ডে আরও ৬ থেকে ৭শ’ রোগী বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

তাদের চিকিৎসা স্বাভাবিক রাখতে চিকিৎসকরা নিরলসভাবে কাজ করছে। হামের রোগী বাড়ায় চিকিৎসকরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ক্রমশ শিশু মৃত্যুর হার বাড়ায় চিকিৎসকসহ চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের মানসিক চাপও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে- গেল ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। গতকাল পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নমুনা পরীক্ষায় হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৪২ জন।

দুপুর পর্যন্ত ১২২ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৫৪ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৪ জন, ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০ জন। বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যে ২৬৮ জন ভর্তি ছিলেন তার মধ্যে সর্বোচ্চ ১১৮ জন আছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৪ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২০ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন রোগী।