Image description
রাজশাহীর চার জেলা । পাম্প অ্যাসোসিয়েশন নেতারা পাচ্ছেন রেকর্ড পরিমাণ * সাধারণ পাম্প মালিকরা চরম বৈষম্যের শিকার।

রাজশাহীর চার জেলায় পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তেল বরাদ্দের ক্ষেত্রে শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করছেন। অ্যাসোসিয়েশনের শীর্ষ পদে যারা রয়েছেন, তিনটি ডিপো থেকে তারা প্রতিদিন রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ পাচ্ছেন। এ সিন্ডিকেটে একাকার বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দলের প্রভাবশালীরা। তাদের মালিকানাধীন পাম্পগুলো বেশি পরিমাণ বরাদ্দ পাচ্ছে। এর ফলে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন সাধারণ পাম্প মালিকরা। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে তেল বরাদ্দের পরিমাণ সবচেয়ে কম। এ কারণে কৃষক চরম সমস্যার মধ্যে পড়েছেন। চাষাবাদের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহণে তৈরি হয়েছে চরম সংকট।

তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার রাজশাহী অঞ্চলের জোন অফিস বগুড়ায়। এখান থেকেই উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেলের বরাদ্দ দেওয়া হয়। বঞ্চিত পাম্প মালিকরা বলছেন, ডিপোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে তেলের বরাদ্দ বেশি নিচ্ছেন প্রভাবশালীরা। পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং তাদের পছন্দের ব্যক্তিরা মাসের ৩০ দিন তেল বরাদ্দ পেলেও বঞ্চিতরা ১০ দিনে একবারও তেল পাচ্ছেন না। গত এক মাসে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা-এ তিনটি ডিপোর প্রতিদিনের অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেলের বরাদ্দপত্র বিশ্লেষণ করে এ ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে।

রাজশাহী পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসংখ্যা ৫৬ জন। আর পরিচালনা কমিটিতে উপদেষ্টাসহ সদস্যসংখ্যা ২৫ জন। রাজশাহী মহানগরীর বড় বনগ্রাম বাস টার্মিনাল এলাকার মেসার্স লতা ফিলিং স্টেশনের মালিক মনিমুল হক রাজশাহী পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তিনি পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিলার। পদ্মা রাজশাহীর চারটি জেলার মধ্যে গত মার্চের শুরু থেকে ২৬ এপ্রিল রোববার পর্যন্ত লতা ফিলিং স্টেশনকে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছে।

লতার গত এক মাসের বরাদ্দপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ ফিলিং স্টেশনটিকে ২৮ মার্চ থেকে পরবর্তী এক মাস প্রতিদিনই ১৩ হাজার ৫০০ লিটার করে অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২ এপ্রিল ১৩ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন ও পেট্রোল বরাদ্দের পাশাপাশি ওইদিন রেকর্ড ভেঙে ১৮ হাজার লিটার ডিজেল বরাদ্দ পেয়েছে লতা। একইভাবে ১৩ এপ্রিল রেকর্ড ভেঙে ৯ হাজার লিটার অকটেন এবং ১৮ হাজার লিটার ডিজেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পাম্পটিকে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ দিয়েছে পদ্মা অয়েল কোম্পানি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজশাহী পাম্প অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনিমুল হক বলেন, বরাদ্দ কেন বেশি পাচ্ছি, তা জানতে ডিপোগুলোকে জিজ্ঞাসা করতে হবে। গত বছরের রেকর্ড অনুযায়ী এ বছর পাম্পগুলোকে তেল বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কিংবা রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাম্পগুলোকে বেশি পরিমাণ তেল বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। মার্চে আমি এক হাজার লিটার অকটেন বরাদ্দ কম পেয়েছি। যেসব পাম্পে বিক্রি ছিল না, তারাই এখন বরাদ্দ বেশি পাচ্ছে।

রাজশাহীতে বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন মেসার্স গুল-গফুর পেট্রোলিয়ামের মালিক মিজানুর আহমেদ। তিনি পাম্প মালিক সমিতির এক নম্বর সহসভাপতি। পাম্পটি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডিলার। মিজানুর আহমেদ দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তেল সরবরাহ করছেন। এ কারণে তার পাম্প তেল বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। গত এক মাসের বরাদ্দপত্রের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৭ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ পেয়েছে পাম্পটি।

বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়েছে রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার মেসার্স রহমান অ্যান্ড কোং ফিলিং স্টেশনও। এ ফিলিং স্টেশনটির মালিক রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি বিএনপি নেতা লুৎফর রহমান। এটি মেঘনা অয়েল কোম্পানির অনুমোদিত ডিলার। দেশ ট্রাভেলস নামে একটি পরিবহণ সংস্থারও মালিক তিনি। সারা দেশে বিভিন্ন রুটে দেশ ট্রাভেলসের ৪৫ থেকে ৫০টি এসি ও নন-এসি বাস চলাচল করে। এক মাসের বরাদ্দপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ প্রতিষ্ঠানটি মাসের ৩০ দিনের মধ্যে ২৬ দিনই ৯ হাজার থেকে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার করে ডিজেল বরাদ্দ পেয়েছে। অকটেন ও পেট্রোল তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার লিটার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে অন্তত ১৫ দিন।

পাম্পটির ম্যানেজার (হিসাব) সাদিকুল ইসলাম প্রতিদিন তেল বরাদ্দ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন ৯ হাজার থেকে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার ডিজেল দেওয়া হয়। এর অর্ধেক নিজেদের গাড়িতেই ব্যবহৃত হয়। আর অকটেন ও পেট্রোলও প্রতিদিন পাওয়া যায় তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার লিটার।’

বরাদ্দের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই জেলার পবা উপজেলার আলিমগঞ্জ এলাকার ন্যাশনাল পেট্রোলপাম্প। এ পাম্পটির স্বত্বাধিকারী রাজশাহী চেম্বারের সাবেক সভাপতি লুৎফর রহমানের ভাই ফজলুর রহমান। তারও ন্যাশনাল ট্রাভেলস নামে একটি পরিবহণ সংস্থা রয়েছে। সংস্থাটির অর্ধশতাধিক এসি ও নন-এসি বাস দেশের বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে চলাচল করে।

ন্যাশনাল পেট্রোলপাম্প যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিলার। এক মাসের বরাদ্দপত্রের বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাম্পটি এক মাসের মধ্যে মাত্র দুই দিন ছাড়া প্রতিদিনই গড়ে ৯ হাজার থেকে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার করে ডিজেল বরাদ্দ পেয়েছে। আর অকটেন ও পেট্রোলের বরাদ্দ ছিল সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার লিটার করে।

এছাড়া রাজশাহী জেলায় বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে রেকর্ড ভঙ্গ করেছে মহানগরীর উপকণ্ঠ শাহ মখদুম বিমানবন্দরসংলগ্ন মেসার্স হাবিব ফিলিং স্টেশন। পাম্পটির মালিক কেএম সাদ্দাম হাবিব। তিনি পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক। পাম্পটি ২৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল প্রতিদিন অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল মিলে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার করে বরাদ্দ পেয়েছে।

বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে মহানগরীর শালবাগান এলাকার মেসার্স আলম ফিলিং স্টেশন। এ পাম্পটির মালিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা আজিজুল আলম। বেশি বরাদ্দ পেয়েছে মহানগরীর নওদাপাড়া এলাকার সরকার ফিলিং স্টেশন। এ পাম্পাটির মালিক জিকো চৌধুরী। এছাড়া অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থক মেসার্স আমিন ফিলিং স্টেশনের মালিক আমিনুল ইসলাম এবং মেসার্স আফরিন ফিলিং স্টেশনের মালিক আজমি সুলতানা। আজমি বিএনপি নেতা আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরীর সহধর্মিণী।

বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার এসআর ফিলিং স্টেশনের মালিক রবিউল ইসলামের ছেলে সজিব বলেন, ‘রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় আমাদের তিনটি পাম্প রয়েছে। আমাদের পাম্প পুরো মার্চে মাত্র ১৩ দিন বরাদ্দ পেয়েছে। ৮৫ শতাংশ পাম্পের মালিক তেলের সুষম বণ্টন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যারা ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী, তারাই ক্ষমতার দাপটে বেশি বরাদ্দ নিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘একটি ট্রাকে তেলের ধারণক্ষমতা সাড়ে ১৩ হাজার লিটার। সংকটের আগে এ পরিমাণ তেল পাম্পগুলোকে সরবরাহ করা হতো। কিন্তু এখন সেটি হচ্ছে না। এখন সাত হাজার থেকে নয় হাজার লিটার তেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর ফলে পরিবহণ ব্যয় বেশি পড়ছে। ১২ এপ্রিল আমাদের একটি ট্রাকে মাত্র সাড়ে চার হাজার লিটার পেট্রোল বরাদ্দ দিয়েছে। অথচ ভাড়া গুনতে হয়েছে ২০ হাজার টাকা। যদিও সবার কমিশন একই পরিমাণ। ট্রাকভর্তি তেল না আসার কারণে বঞ্চিত পাম্প মালিকদের লোকসান হচ্ছে।’

রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ পবা উপজেলার লিমন ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘সর্বশেষ ১৭ এপ্রিল সাড়ে চার হাজার লিটার করে ডিজেল ও পেট্রোল পেয়েছি। চলতি মাসে এ পর্যন্ত ৪০ হাজার লিটার ডিজেল এবং সাড়ে ১৩ হাজার লিটার পেট্রোল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমাদের এলাকাটি কৃষিপ্রধান। প্রতিদিন শত শত কৃষক ডিজেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আমরা পদ্মা অয়েল কোম্পানির অনুমোদিত ডিলার। বরাদ্দের ক্ষেত্রে আমরা চরম বৈষম্যের শিকার।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বরাদ্দের ক্ষেত্রেও ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পদধারী এবং বিভিন্ন দলের প্রভাবশালীরা অগ্রাধিকার পাচ্ছেন। এ জেলায় মোট পেট্রোলপাম্প রয়েছে ৩০টি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পেট্রোলপাম্প অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাশিদুল হাসানের দুটি পাম্প রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ পেয়েছে। পাম্প দুটি যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিলার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের উপকণ্ঠ হরিপুর এলাকার রাশিদুলের মেসার্স সামাদ অ্যান্ড সন্স ২৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ পেয়েছে।

বরাদ্দপত্রে দেখা যায়, এ পাম্পটি গড়ে প্রতিদিনই অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল বরাদ্দ পেয়েছে সাড়ে ১৩ হাজার লিটার। ডিজেলের বরাদ্দ সবচেয়ে বেশি। যেদিন নয় হাজার লিটার ডিজেল বরাদ্দ পেয়েছে, সেইদিন অকটেন বা পেট্রোল সাড়ে চার হাজার লিটার করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাশিদুল হাসানের রাবেয়া ফিলিং স্টেশন নামে আরেকটি পেট্রোলপাম্প রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা এলাকায়। এ পাম্পটিকেও যমুনা অয়েল কোম্পানি বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বরাদ্দের ক্ষেত্রে রেকর্ড ভঙ্গ করেছে যুবলীগ নেতা সামিউল হক লিটনের মেসার্স ইসলাম ফিলিং স্টেশন। তিনি জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। চাঁপাই সদরের এ পাম্পটি পদ্মা অয়েল কোম্পানির ডিলার। রাজশাহী অঞ্চলে গত এক মাসে পদ্মা অয়েল এ পাম্পটিকে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়েছে। ২৯ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বরাদ্দপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিদিনই পাম্পটি বেশি বরাদ্দ পেয়েছে।

তবে বেশি বরাদ্দের অভিযোগ অস্বীকার করে সামিউল হক লিটন বলেন, গতবারের চেয়ে এ বছর আমার পাম্প ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বরাদ্দ কম পেয়েছে। আমার এখানে ডিজেলের চাহিদা বেশি। তেল বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের যে অভিযোগ করা হচ্ছে, সেটি সঠিক না। আর ২০১৮ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে নির্বাচন করায় আমাকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ পেট্রোলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান খানের একে খান ফিলিং স্টেশন, যুগ্মসম্পাদক মো. বাবুর মেসার্স লতিফুর ফিলিং স্টেশন, একই মালিকের মেসার্স বিজলি ফিলিং স্টেশন বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলা সদরের মেসার্স আজিজ ফিলিং স্টেশনের মালিক মাহফুজুর রহমান মিয়া বলেন, ‘আমার পাম্পকে যমুনা অয়েল কোম্পানি সপ্তাহে মাত্র একদিন তেল বরাদ্দ দিচ্ছে। মার্চে মাত্র ৩০ হাজার লিটার ডিজেল এবং সাড়ে আট হাজার লিটার পেট্রোল বরাদ্দ পেয়েছি। অকটেন দেওয়া হয়নি। এখন বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান মাড়াই ও পরিবহণের জন্য ডিজেল প্রয়োজন। তেল না পেয়ে কৃষক প্রতিদিন ফিরে যাচ্ছেন।’

নাটোরে ফিলিং স্টেশন রয়েছে ৩২টি। এ জেলায়ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছেন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃত্বে থাকা পাম্পের মালিকরা। বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়েছে নাটোর সদরের মেসার্স রহিম ফিলিং স্টেশন। এ পাম্পটি যমুনা অয়েল কোম্পানির অনুমোদিত ডিলার। পাম্পটির মালিক আব্দুর রহিম সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা। ২৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল বিরতিহীনভাবে বরাদ্দ পেয়েছে পাম্পটি।

এছাড়া ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হাবিব আহসান বাবুর মেসার্স ফ্রেন্ডস পেট্রোলিয়াম এজেন্সি, যুগ্মসম্পাদক মীর মো. হাবিবুল আলম বখতিয়ারের মেসার্স নাটোর পেট্রোলিয়াম এজেন্সি, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আল আমিন শাওনের মেসার্স আলহাজ গণি ফিলিং স্টেশন বরাদ্দের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়েছে। এছাড়া নওগাঁর মহাদেবপুরের সাফিন ফিলিং স্টেশন, নওগাঁ সদরের মেসার্স রাকিব ফিলিং স্টেশন, মেসার্স মধইল ফিলিং স্টেশন, মেসার্স নুর বানু ফিলিং স্টেশন বরাদ্দে অগ্রাধিকার পেয়েছে।

তবে তেল বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন পদ্মা অয়েল কোম্পানির বগুড়া জোনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম, সেলস) মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমরা আনুপাতিক হারে জ্বালানি তেল সমবণ্টন করছি। ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের তেল বরাদ্দ বেশি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক না। আর অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, সেটির কোনো সুযোগ নেই।’

একই ধরনের কথা বলেছেন যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের বগুড়া ডিভিশনাল অফিসের ম্যানেজার (সেলস) সাইদুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনের তেলের বরাদ্দপত্র সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয়। এটি দৃশ্যমান। গত বছরের রেকর্ড অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কাজেই এক্ষেত্রে কাউকে বেশি বরাদ্দ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’