Image description

দুর্নীতি ও ঘুষের মামলায় বেশ বোগাচ্ছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি মামলায় লড়ে যাচ্ছেন ইসরায়েলে এই প্রধানমন্ত্রী। মামলা থেকে রক্ষা পেতে প্রেসিডেন্ট বরাবর আবেদনও করেছেন। তবে, দায়মুক্তির আগে নেতানিয়াহুকে নিজের দোষ স্বীকার করতে হবে। আর সমঝোতা করলেই তাকে ক্ষমা করবেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট। খবর রয়টার্সের।

প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটি জানিয়েছে, নেতানিয়াহু ইস্যুতে রবিবার (২৬ এপ্রিল) কথা বলেছেন ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতির মামলায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর ক্ষমার আবেদন তিনি তখনই বিবেচনা করবেন, যখন দোষ স্বীকারের চুক্তিতে পৌঁছানোর সব প্রচেষ্টা শেষ হয়ে যাবে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, ইস্যুটিতে শিগগিরই কোনও সিদ্ধান্ত আসছে না।

প্রায় এক দশক আগে তদন্ত শুরু হওয়ার মাধ্যমে নেতানিয়াহুর আইনি জটিলতাগুলো শুরু হয়েছিল। এর ফলে ইসরায়েলিদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে। ২০১৯ সালে তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিলের পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাঁচ দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর ২০২৬ সালের অক্টোবরের শেষে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আগে থেকেই ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা এবং আস্থাভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন নেতানিয়াহু।

রবিবার ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বলেন, “নেতানিয়াহুর ক্ষেত্রে একটি সমঝোতাই সবচেয়ে ভালো সমাধান হবে।” এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টর দফতর থেকে বলা হয়, “ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আদালতের বাইরে দু’পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে শেষ করা উচিত, রাষ্ট্রপতি তাই মনে করেন।”

সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস নিজেদের এক প্রতিবেদনে জানায়, প্রেসিডেন্ট একটি দোষ স্বীকার চুক্তির জন্য মধ্যস্থতা শুরু করার পরিকল্পনা করছেন এবং আপাতত কোনও ক্ষমার সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখছেন। এরপরই আইজ্যাকের কার্যালয় থেকে বিবৃতিটি দেওয়া হলো।

বিষয়টি নিয়ে হারজগের একজন মুখপাত্রকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বিবৃতির বাইরে আর কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। নেতানিয়াহুর কার্যালয়েও যোগাযোগ করা হলে তারা কোনও সাড়া দেয়নি।

গত নভেম্বরে প্রেসিডেন্টের দফতরে ক্ষমার আবেদন জমা দেন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষমা করতে পারে। তবে, বিচার চলাকালীন ক্ষমা দেওয়ার কোনও নজির নেই।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য একাধিকবার হারজগকে আহ্বান জানিয়েছেন। সবশেষ গত মার্চে তিনি আহ্বান জানান, ওই সময় ইরান যুদ্ধ চলছিল। যুদ্ধের জেরে তখন বিচার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল।

চলতি সপ্তাহে ফের আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। কারণ, ২০২০ সালে শুরু হওয়া বিচার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হচ্ছে। তিনি ইসরায়েলের প্রথম দায়িত্বে থাকা প্রধানমন্ত্রী যার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।