রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, থানার ভেতরে আটকে জুবায়ের ও মোসাদ্দেককে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতের ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিকসহ অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পরে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১২ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে থেকে পোস্ট ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের বলেন, ‘বেঁচে আছি এখনো।’
তিনি বলেন, ‘একটা ভুয়া স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে আমাদের এক শিক্ষার্থীর ওপরে চড়াও হয় ছাত্রদল। তাকে সহযোগিতা করতে যাওয়া আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সেখানে আটকে রাখা হয়৷ সূর্যসেন হল সংসদের সদস্য ছোটভাই আলভিকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ডাকসুর প্রতিনিধি। শিক্ষার্থীদের বিপদে-আপদে আমাদের একটা রেসপনসেবলিটি আছে৷ মুসাদ্দিক, জুমা, উম্মে সালমাসহ ডাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি সেখানে যাই প্রশাসনের সাথে কথা বলে আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে আসতে৷’
জুবায়ের লিখেছেন, ‘থানায় ঢুকার মুখে গেইট থেকেই আমাদের মারধর শুরু করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। দুই শতাধিক সন্ত্রাসী ঘিরে ধরে বৃষ্টির মতো ঘুসি, কিল, লাত্থি...
বাকিটা দেখলেনই! লাস্ট আপডেট বেঁচে আছি এখনো, নাও থাকতে পারতাম হয়তো। আল্লাহর ইচ্ছা। গা-ভর্তি ব্যথা নিয়ে শুয়ে আছি হাসপাতালের বেডে।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘যাইহোক, এসব করে আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না৷ সন্ত্রাস, সহিংসতা, গণরুম, গেস্টরুমের কালচার যারাই ফিরিয়ে আনতে চাইবে তাদের সামনেই ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে যাব।’
সর্বশেষ তিনি লিখেছেন, ‘কি আর করবেন? মেরেই ফেলবেন নাহয়!! মারেন অসুবিধা নাই। বাট মেরে ফেলার আগ পর্যন্ত এ-লড়াই চলবেই ইনশাআল্লাহ।’
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানার ভেতরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের, ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিম, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সিফাত, লিটন, সাংবাদিক খালিদ, শিক্ষার্থী দেবাশিষ, ও আলভি।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, শাহবাগ এলাকা থেকে আহত অবস্থায় আটজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।