চট্টগ্রাম নগরে আবার কিশোর গ্যাংয়ের সহিংস তাণ্ডবে প্রাণ গেল এক কলেজছাত্রের। চকবাজার এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের আটতলা থেকে লিফটের খালি গর্তে ফেলে দিয়ে কলেজছাত্র আশফাক কবির সাজিদকে (১৭) হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসহ সাত জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরো পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিহত সাজিদ নগরের বিএফ শাহীন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র। তিনি বাকলিয়ার ডিসি রোড এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ এপ্রিল বিকালে সাজিদ তার বন্ধু ফারদিন হাসানের সঙ্গে মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে দেখা করতে যান। এ সময় অভিযুক্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের কবল থেকে বাঁচতে সাজিদ দৌড়ে কাছের একটি নির্মাণাধীন ভবনে ঢুকে ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে ভবনের আটতলায় উঠে যায়। এজাহারে আরো বলা হয়, হামলাকারীরা ভবনের গেটে ধাক্কা দিলে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে আইমনসহ অন্য অভিযুক্তরা ভবনের ওপরের তলায় গিয়ে সাজিদকে মারধর করে এবং আটতলার লিফটের খালি গর্ত দিয়ে নিচে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল হাশেম সিকদার বাদী হয়ে ১৪ এপ্রিল চকবাজার থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ, মিসকাতুল কায়েস এবং দারোয়ান এনামুল হককে আসামি করা হয়েছে। তাদের অধিকাংশই একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে। চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আজাদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। এসব ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।