Image description

সরকারের অপারেশন প্ল্যান বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির তহবিল কাটছাঁট হওয়ায় ঝুঁকিতে পড়েছে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। বেশ কিছু কেন্দ্রে ইতোমধ্যে ফুরিয়ে এসেছে ওষুধ ও কিটের মজুত। হাম আতঙ্কের মধ্যে যক্ষ্মা নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যক্ষ্মা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে গত কয়েক মাসে যক্ষ্মায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘যক্ষ্মা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সরকার বদ্ধপরিকর। কিছু জায়গায় ওষুধ ও কিটের সংকট তৈরি হয়েছিল। আমরা এ সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে ওষুধ ও কিট পৌঁছে যাবে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি ১ লাখ মানুষের মধ্যে ১২১ জনের যক্ষ্মা হয়। বছরে এ রোগে আক্রান্ত হয় প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ। প্রতিদিন গড়ে শনাক্ত হয় ১ হাজার ৩৪ জন রোগী এবং বছরে প্রায় ৪২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় অর্থাৎ প্রতিদিন মারা যায় প্রায় ১২১ জন। স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচির অধীন অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) আওতায় প্রায় তিন দশক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুনে এ কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। গত বছর নতুন করে ডিপিপি জমা দিলেও অনুমোদন হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় বন্ধ রয়েছে ওষুধ ও টিকার কেনাকাটা। এতে মাঠপর্যায়ের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। ২০২১ সালে ইউএসএআইডির সহায়তায় রাজধানীর শ্যামলীতে দেশের প্রথম ওয়ান-স্টপ যক্ষ্মা (টিবি) সেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করা হয়। শ্যামলী ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ টিবি সার্ভিস সেন্টার যক্ষ্মা রোগীদের সেবা চলমান।

বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ৮০ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ১২ জন ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মায় (এমডিআর টিবি) আক্রান্ত। গত বছরের তুলনায় রোগী শনাক্তের হার কম দেখা যাচ্ছে। গত মাসের স্বাস্থ্য বুলেটিনের তথ্য বলছে, সরকারের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনটিপি) ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে জাতীয় কেস নোটিফিকেশন রেট (সিএনআর) নেমে এসেছে ১৬৯-এ, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০২৪ সালের একই সময়ে এ হার ছিল ১৯৬ এবং ২০২৩ সালে ২০১। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শনাক্তকরণ কমে যাওয়া মানে রোগ কমে যাওয়া নয়; বরং এটি সেবা ও নজরদারিতে ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। এ ছাড়া যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে মার্কিন সহায়তা সংস্থা ইউএসএইড ও গ্লোবাল ফান্ডের অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেছে।