Image description
ঢাকা মহানগরী

রাজধানী ঢাকার ভেতরে অনুমোদনহীন অস্থায়ী ১২টি আন্ত জেলা বাস টার্মিনালও মহানগরীতে বাড়াচ্ছে যানজট। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় চলাচলকারী বাসগুলো নগরীর ভেতরে এসব টার্মিনালে থামিয়ে যাত্রী ওঠানো ও নামানো হয়।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের প্রায় ২৩ শতাংশই আন্ত জেলা ও শহরতলির। জানা গেছে, মহানগরীর ভেতরে রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ বাসের কাউন্টার।

এসব কাউন্টারের কারণে স্থানগুলো যানজটের ‘হটস্পট’ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, যানজট নিরসনের লক্ষ্যে গত রবিবার রাতে অনুমোদনহীন আন্ত জেলা বাস কাউন্টারগুলো সরাতে সাত কার্যদিবস সময় বেঁধে দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। সংস্থাটির গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ ছাড়া অন্য কোথাও আন্ত জেলা বাসের কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কাউন্টার সরানো না হলে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, রুট পারমিট বাতিল, মালপত্র জব্দসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে ঢাকা মহানগরীর ভেতরে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ—এই তিনটি অনুমোদিত বাস টার্মিনাল থাকলেও বাস্তবে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অনুমোদন ছাড়াই বাস থামানো হচ্ছে কমপক্ষে ১২টি স্থানে। এর মধ্যে কল্যাণপুর, গুলিস্তান, মগবাজার, বাড্ডা, মতিঝিল, কমলাপুর ও যাত্রাবাড়ীতে দিনরাত বাস থামিয়ে যাত্রী তোলা ও নামানো হয়। এ ছাড়া বাসে সন্ধ্যার পর এই কার্যক্রম চালানো হয় শ্যামলী, আসাদগেট, কলাবাগান, নিউমার্কেট ও ঢাকা উদ্যান এলাকায়।

বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, গুলিস্তান, জোয়ারসাহারা, কল্যাণপুর ও কমলাপুর থেকে বাস সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গাবতলী আন্ডারপাস অরক্ষিত এবং টার্মিনালের ব্যবস্থাপনা ঠিক না হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বাস সরানো সম্ভব হবে না।

রামপুরা থেকে গুলিস্তানগামী যাত্রী মাহমুদ হাসান বলেন, গুলিস্তানে বাসগুলো যেভাবে রাস্তার ওপর দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলে, এতে প্রতিদিনই ২০-৩০ মিনিট জ্যামে বসে থাকতে হয়। মিরপুরের বাসিন্দা সুমাইয়া আক্তার বলেন, কল্যাণপুরে সন্ধ্যার পর এমন জ্যাম হয় যে রিকশায় বা হাঁটলেও দ্রুত যাওয়া যায়। যাত্রাবাড়ী হয়ে নারায়ণগঞ্জগামী পথের যাত্রী রুবেল মিয়া বলেন, রাতে বাস কাউন্টারগুলোর সামনে যেভাবে বাস পার্ক করে রাখা হয়, তাতে চলাচল করাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।

ব্যাংক কর্মকর্তা নাজমুল করিম বলেন, মগবাজার ও মতিঝিলে বাস থামানোয় যান চলাচল পুরোপুরি বিঘ্নিত হয়।

কম দূরত্ব যেতেও বেশি সময় লাগে। বাড্ডার বাসিন্দা তানভীর হোসেন বলেন, বাড্ডায় বাসগুলো যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তোলে। চার লেন সড়কের অর্ধেকই এই দূরপাল্লার বাসগুলো দখলে রাখে।

ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) যানজট নিরসনে ২০২০ সালে ঢাকার বাইরে পাঁচটি প্রবেশমুখে আন্ত জেলা বাস টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা করলেও এটির অগ্রগতি নেই। সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অনুযায়ী, কেরানীগঞ্জের বাঘাইর, নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর, তুরাগের ভাটুলিয়া, রূপগঞ্জের ভুলতা এবং সাভারের হেমায়েতপুরে টার্মিনাল নির্মাণ করার কথা ছিল।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম রায়হান খান বলেন, গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, সাভারের হেমায়েতপুরে নতুন বাস টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, বাস মালিকরা নির্দেশনা না মানলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের মধ্যে বাজার কমিটি টোকেনের মাধ্যমে শতাধিক দোকান বরাদ্দ দিয়েছে বলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম। এ বিষয়ে এই সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের বলেন, ‘বিষয়টি দেখে মূলত সিটি করপোরেশনের পরিবহন বিভাগ। সম্পত্তি বিভাগ একসময় দেখলেও এটি এখন আমরা দেখি না।’ সংস্থার পরিবহন বিভাগের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য জানতে বারবার যোগাযোগ করা হলেও বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাছিম আহমেদকে পাওয়া যায়নি।