Image description
মতিঝিল-কমলাপুর মেট্রো রেল

মেট্রো রেলের বহুল প্রতীক্ষিত মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের শেষের দিকে এই অংশে ট্রায়াল শুরু হতে পারে। ২০২৭ সালের শুরুতে এটি চালু হতে পারে পুরোদমে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার অন্যতম বড় সমস্যা যানজট। মতিঝিল-কমলাপুর অংশ চালু হলে শুধু যাতায়াতই সহজ হবে না, দেশের প্রধান রেলস্টেশন কমলাপুরের সঙ্গে আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার সরাসরি সংযোগ তৈরি হবে, যা সামগ্রিকভাবে নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

নগর বিশেষজ্ঞ আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন, অপরিকল্পিত পার্কিং ও সংকীর্ণ রাস্তার কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। মেট্রো রেল চালু হওয়ার পর উত্তরা-মতিঝিল রুটে যানজট কিছুটা কমেছে।

এই অংশ চালু হলে সুবিধা আরো বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘মেট্রো রেল একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন গণপরিবহন ব্যবস্থা, যা একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমবে এবং সড়কের ওপর চাপ কমবে।’

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নে ছয়টি মেট্রো রেল লাইনের সমন্বয়ে ডিএমটিসিএলের আওতায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

উত্তরা উত্তর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২১.২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি-৬ লাইনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উত্তরা উত্তর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশের বাস্তব অগ্রগতি ৯৯.৬০ শতাংশ। মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি প্রায় ৭৫ শতাংশ।

এমআরটি-৬ প্রকল্পটি মোট আটটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ (ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন) ও প্যাকেজ-২ (ডিপো এলাকার পূর্ত কাজ) শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

প্যাকেজ-৩ ও ৪ (উত্তরা উত্তর-আগারগাঁও অংশ) সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে।

মতিঝিল-কমলাপুর অংশে ১.১৬ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট ও একটি স্টেশন নির্মাণকাজ চলছে। এ পর্যন্ত সব পাইলক্যাপ, পিয়ার ও স্টেশন কলাম নির্মাণ শেষ হয়েছে। ২৯৮টি প্রিকাস্ট সেগমেন্টের শতভাগ তৈরি সম্পন্ন হয়েছে এবং ২৭টির মধ্যে ২৫টি স্প্যান স্থাপন করা হয়েছে।

স্টেশনের কনকোর্স ছাদ, ট্র্যাক স্ল্যাব ও প্ল্যাটফর্ম স্ল্যাবের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৮২৪টি প্রিকাস্ট প্যারাপেট ওয়াল নির্মাণ শেষ হয়েছে। স্টিল রুফ স্ট্রাকচারের ৫৩৩ টনের মধ্যে ৪৯৯ টন স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। কনকোর্স লেভেলের ২৮০০ বর্গমিটার ব্রিক ও প্লাস্টারের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে আর্কিটেকচারাল ও প্রবেশ-প্রস্থান (এন্ট্রি-এক্সিট) কাজ চলমান রয়েছে। এই অংশে কমলাপুরে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন নির্মিত হচ্ছে, যা দেশের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশনের সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী নির্বিঘ্নে দ্রুত যাতায়াতের সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে টেকসই উন্নয়নের জন্য আধুনিক গণপরিবহন অপরিহার্য। মেট্রো রেল শুধু পরিবহন নয়, এটি মানুষের জীবনধারার পরিবর্তন ঘটায়। মেট্রো রেলের সমপ্রসারণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মতিঝিল দেশের আর্থিক কেন্দ্র এবং কমলাপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগকেন্দ্র। এই দুই এলাকার মধ্যে দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠলে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে।’

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬)-এর প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, ‘মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ সিভিল কাজ শেষ হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে ট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সরঞ্জাম বিদেশ থেকে আনা হচ্ছে, যেগুলো খুব দ্রুত স্থাপন করা যাবে। স্টেশনগুলোর রংসহ কিছু কাজ শেষ করতে আরো দেড় থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে ট্রায়াল রান শুরু করা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হবে।’