Image description

ঈদের পর রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম খুব বেশি না বাড়লেও রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে সোনালি ও দেশি মুরগি। এ ছাড়া বোতলজাত ভোজ্য তেলের দাম না বাড়লেও খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম বেড়েছে। এদিকে সরবরাহ কম থাকায় সবজি, মাছ, মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে বেশির ভাগ পণ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ, বিপাকে পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। শুক্রবার কাওরান বাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এই চিত্র দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের পর থেকে জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পণ্য আনতে খরচ বেড়েছে, তাই দামও বাড়ছে। তবে উৎপাদক ও খামারিদের দাবি, উৎপাদনে তেমন ঘাটতি নেই।
বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। মাংসের বাজারের পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো। গরুর মাংস যা এক সপ্তাহ আগেও ৭৫০ টাকায় মিলতো, ঈদের সময় থেকে এখন পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে ৮২০ থেকে ৮৫০ টাকায়। খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা।

এদিকে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে বেড়ে এখন ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অস্বাভাবিক বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম। এখন দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২০ টাকা কেজি, আর দেশি মুরগি ৮০০ টাকা ছুঁয়েছে। ঈদের আগে সোনালি মুরগির কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। আর দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা।

দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মুরগি বিক্রিও কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিক্রেতা এনামুল বলেন, দাম বাড়ার কারণে বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। তারপরও সরবরাহ কম। মূলত গাড়ি ভাড়া বেড়ে এ সমস্যা হয়েছে। আরেক বিক্রেতা রিয়াদ বলেন, পর্যাপ্ত মুরগি বাজারে আসছে না, আবার আগের মতো গাড়িও আসছে না। বিশেষ করে সোনালি ও দেশি মুরগির সরবরাহ অনেক কমে গেছে।

এদিকে বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৯৫ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। অথচ গত সপ্তাহেই খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় কেনা গেছে। সে হিসাবে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। ঈদের আগের সপ্তাহে এ দাম লিটারে আরও প্রায় ১০ টাকা কম ছিল। খোলা পাম তেলের দামও এক সপ্তাহে লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে। এখন বাজারে খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৪-১৮৫ টাকায়। গত সপ্তাহে এ দাম ছিল ১৭৫ টাকার আশপাশে। তবে বোতলজাতে তেলের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য (এমআরপি) প্রতি লিটার ১৯৫ টাকাই রয়েছে। যদিও দীর্ঘদিন বোতলজাত তেলের সরবরাহ সংকট আছে বাজারে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাশ ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশি টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৬০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, শোল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে চিংড়ির দাম তুলনামূলক বেশি। আকার ও জাতভেদে চিংড়ি কিনতে প্রতি কেজিতে ক্রেতাদের খরচ করতে হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা।

মাছ ব্যবসায়ী সৌরভ বলেন, মাছের বাজার আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজি মাছে ২০-৩০ টাকা কমেছে। আজকে এক কেজি পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি করছি, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা। সব মাছ আগের মতোই আছে। আর মাছের বাজার ২০-৩০ টাকা ওঠানামা করেই থাকে।’

অন্যদিকে, সবজির বাজারে কিছু কিছু পণ্যের দাম আগের মতোই থাকলেও বেড়েছে কোনো কোনোটির। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় সবজির দাম কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা বেড়েছে। তবে বাজারে আলু ও পিয়াজের দাম আগের মতো কম রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা ও পিয়াজ ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।