Image description

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের জেরে বিপাকে পড়েছেন রাইড শেয়ারের চালকরা। পাম্পে পাম্পে ঘুরে তেল নিতেই দিনের অর্ধেক সময় পার হয়ে যাচ্ছে। বাকি সময়ে যাত্রী পরিবহন করে দিনের আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। সংসারের ভরণপোষণ, বাসাভাড়া, সন্তানদের পড়াশোনাসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন।
রাইডশেয়ারের চালকরা জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় হতো, এখন তা নেমে এসেছে অর্ধেকে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। এই তেল দিয়ে একজন পেশাদার চালকের সারা দিনের আয় তো দূরে থাক, নিজের খরচ চালানোও অসম্ভব।

মো. নাসির আলম। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকায়। ছয় বছর ধরে মোটরসাইকেল রাইডিং করেন তিনি। আয়ের পুরোটাই আসে এ পেশা থেকে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দাঁড়িয়ে ছিলেন কাজিপাড়া এলাকায়। যাত্রীর জন্য অপেক্ষা। নাসির আলম বলেন, মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালাই। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বাইরেই থাকতে হয়। এ সময়ে ৩ থেকে ৪ লিটার তেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রায় এক মাস ধরে তেল পাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে আয় সহ সবকিছুর ওপর। তেল নিতে ৩-৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়। এভাবে প্রতিদিন ১৫-১৬ ঘণ্টা চলে যায়। এতে চাহিদার তুলনায় আয় করতে পারি না। এবার ঈদ গেছে খুবই কষ্টে। তেলের সমস্যার কারণে ঈদের আগে ঠিকমতো রাইডিং করতে পারিনি। আবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়েছে। এমনও হয়েছে, যে সময় যাত্রী পেয়েছি, সে সময় পর্যাপ্ত তেল নেই। এ অবস্থায় কোনোমতে বেঁচে আছি শুধু। তিনি বলেন, এখন আয় অর্ধেক কমে গেছে। জীবন চালানো দুরূহ হয়ে উঠেছে।

উবার চালক সালাম উদ্দিন। লোন নিয়ে কিনেছেন প্রাইভেট কার। রাইডিং করে লোন আর সংসার চালান। কিন্তু জ্বালানি সংকটের কারণে পড়েছেন মহাবিপদে। সালাম বলেন, জ্বালানি নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এমন অবস্থা যে, লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় রাইডের জন্য ফোন দিচ্ছে। জ্বালানি নিতে নিতে যাত্রী গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন। এভাবে রাইডশেয়ারিং কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফার্মগেটে কথা হয় পোস্তগোলা এলাকার বাসিন্দা মো. রাজিবের সঙ্গে। ৮-৯ বছর ধরে নিয়মিত মোটরসাইকেল চালান তিনি। আয়ের প্রধান মাধ্যম এটাই। স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার। হঠাৎ তেল সংকট তার জীবনে অন্ধকার নিয়ে এসেছে। রাজিব বলেন, এবারই প্রথম ঈদে কারও জন্য কেনাকাটা করতে পারিনি। আমার জীবনে এই প্রথম এমন ঈদ গেল। এ কষ্ট ভুলতে পারছি না। তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন ভোর ৪টায় বের হয়ে বেলা ১১টা পর্যন্ত গাড়ি চালাতাম। বাসায় গিয়ে বিশ্রাম-খাওয়াদাওয়া করে বের হতাম। এরপর সন্ধ্যার মধ্যে বাসায় ফিরতাম। এখন ভোর ৪টায় বের হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকি। তবুও আগের তিন ভাগের এক ভাগ আয় করতে পারি না। তেল পেলেও ৪-৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নিতে হবে। রাজিব বলেন, কম দূরের কয়েকটি ভাড়া নিয়ে যেতেই তেল শেষ হয়ে যায়। এরপর আবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে হয়। এজন্য কোথাও গেলে ভেবে যেতে হয়, ওইদিকে তেলের পাম্প আছে কিনা।