যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও পারস্য উপসাগরের বিভিন্ন দেশে সামপ্রতিক সপ্তাহগুলোতে দফায় দফায় হামলার ঘটনা ঘটছে। গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কয়েক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। দেশটিতে গত সপ্তাহে ফুজাইরাহ তেলবন্দরে ড্রোন হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হয়েছে। ফুজাইরাহ আরব আমিরাতের অন্যতম প্রধান তেল সংরক্ষণ ও
গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এসব হামলায় আরব আমিরাতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। দেশটি এসব হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করেছে।
এ ছাড়া শুক্রবার একই সঙ্গে কুয়েত, কাতার ও আরব আমিরাতে হামলা হয়েছে। কাতারের পক্ষ থেকে বলা হয়, শুক্রবার ভোর নাগাদ তাদের জলসীমায় একটি কার্গো জাহাজে হামলা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, কাতার এই হামলাকে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার নীতি ও আন্তর্জাতিক আইনের বিধানাবলীর চরম লঙ্ঘন বলে মনে করে।
দেশটি এই ঘটনার জন্য কারা দায়ী তা বের করতে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
আল জাজিরা জানিয়েছে, জাহাজটি শুক্রবার সকালে আবুধাবি থেকে আসছিল। হামলায় জাহাজটিতে সামান্য আগুন লাগলেও কেউ হতাহত হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে রোববার বলেন, হরমুজ প্রণালিকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে তা আঞ্চলিক সংকটকে আরও গভীর করবে।
এ ছাড়া শুক্রবারও ড্রোন হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করে আরব আমিরাত। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুইটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
সর্বশেষ এই হামলার জন্যও দেশটি ইরানকে দায়ী করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত আমিরাতে অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন এবং এতে আহত হয়েছেন ২৩০ জন।
অন্যদিকে কুয়েত জানিয়েছে, রোববার সকালে কুয়েতের আকাশসীমায় শত্রুপক্ষের ড্রোন প্রবেশ করেছে। এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। তবে এসব ড্রোন কারা ছুড়েছে- তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কুয়েত।
ইরান ইন্টারন্যাশনাল তাদের লাইভ প্রতিবেদনে জানায়, রোববার ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরনগরী চাবাহারে বিকট বিস্ফোরণ হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, কিছু বাড়ির জানালা এবং দেয়াল ধসে গেছে। তবে বিস্ফোরণ নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইরানি কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর মধ্যে রাতভর তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে। মার্কিন হামলায় ইরানের অন্তত একজন নাবিক নিহত হয়েছেন এবং চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় আহত ১০ জন নাবিককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান দাবি করে, তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। সর্বশেষ রোববার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দেশটির সামরিক কমান্ডার আলী আব্দুল্লাহি। তিনি বলেন, সামরিক অভিযান পরিচালনা ও শত্রুদের মোকাবিলা করতে মোজতবা খামেনি নতুন নির্দেশনা দিয়েছেন।
ইরানি মিডিয়ার বরাতে গালফ নিউজ বলছে, মোজতবা খামেনি আব্দুল্লাহিকে অভিযান অব্যাহত রাখতে এবং জোরালোভাবে শত্রুদের মোকাবিলা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, যেভাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে অঞ্চলটিতে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা প্রবল- যদিও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।