ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাত নিয়ে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধবিরতির গুঞ্জন চললেও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন— যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে হলে ইরানের পারমাণবিক উপকরণ ও মজুতকৃত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণভাবে সরিয়ে নিতে হবে অথবা ধ্বংস করতে হবে। খবর আল জাজিরার।
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর ‘৬০ মিনিটস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা ইরানের সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছি, কিন্তু এখনো অনেক কিছু অবশিষ্ট আছে। তাই এখনো অনেক কাজ বাকি। ইরান যুদ্ধ তখনই শেষ হবে যখন দেশটি থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া হবে।’
পরমাণু উপকরণ সরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ কী হতে পারে—এমন প্রশ্নে নেতানিয়াহু সরাসরি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান ও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতেও রাজি হননি। তবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁকে জানিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরালে বা ধ্বংস করলে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জিত হতে পারে।
গত এক ঘণ্টায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির খবর পাওয়া গেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত কয়েক দিন ধরে কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। তাদের লক্ষ্য হলো গত এক মাস ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তিতে রূপান্তর করা।
সংঘাত নিরসনে বর্তমানে দুটি বড় বাধা কাজ করছে। প্রথমত, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধ এবং দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের দেওয়া বিধিনিষেধ। ইরান দাবি করেছে, তাদের সব শর্ত না মানা পর্যন্ত তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ উন্মুক্ত করবে না।
মার্কিন কর্মকর্তারা বর্তমানে পাকিস্তান, কাতার, মিশর ও জর্ডানের মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে পরোক্ষ যোগাযোগ রক্ষা করছেন, যাতে পরিস্থিতি আবার সর্বাত্মক যুদ্ধের দিকে না যায়। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন বাহিনী যেকোনো মুহূর্তে আবার সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি মনে করেন কূটনৈতিক উপায়ে অচলাবস্থা কাটছে না, তবে তিনি পুনরায় হামলার নির্দেশ দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।