আইফোনে এআই ফিচার নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারের অভিযোগে করা মামলা মেটাতে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আইফোন ১৫ প্রো সিরিজ ও আইফোন ১৬ সিরিজ কেনা কিছু গ্রাহককে মোট ২৫ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেবে প্রযুক্তি জায়ান্টটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।
ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে জমা দেওয়া সমঝোতা প্রস্তাবে অ্যাপল কোনো ভুল স্বীকার করেনি। তবে ২০২৪ সালে করা একটি বড় ক্লাস অ্যাকশন মামলা নিষ্পত্তির জন্য এই অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, অ্যাপল তাদের এআই সুবিধা, বিশেষ করে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ও উন্নত সিরি নিয়ে গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করেছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালের ১০ জুন থেকে ২০২৫ সালের ২৯ মার্চের মধ্যে আইফোন ১৫ প্রো, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স অথবা আইফোন ১৬ সিরিজের যেকোনো মডেল কেনা গ্রাহকেরা ক্ষতিপূরণের আওতায় আসতে পারেন। যোগ্য গ্রাহকেরা প্রতি ডিভাইসের জন্য ২৫ ডলার পাবেন, তবে দাবি জমা দেওয়ার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে অঙ্কটি ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯৫ ডলার প্রায় ১১ হাজার ৬৮৫ টাকা।
মামলাকারী আইনজীবীদের অভিযোগ, অ্যাপল এমন কিছু এআই সুবিধার প্রচার করেছিল, যেগুলো তখন আইফোনে ছিল না। বিশেষ করে সিরিকে আরও ব্যক্তিগত, প্রাসঙ্গিক ও শক্তিশালী এআই সহকারী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, আইফোন ১৬ বাজারে আসার সময় প্রতিশ্রুত উন্নত সিরি সুবিধাগুলো গ্রাহকেরা পাননি।
আইনজীবীদের দাবি, অ্যাপল এমনভাবে প্রচার চালিয়েছিল যেন নতুন আইফোন কেনার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহারকারীরা উন্নত এআই-চালিত সিরির অভিজ্ঞতা পাবেন। তাদের ভাষায়, অ্যাপল এমন এআই সক্ষমতার কথা বলেছিল, যা সে সময় বাস্তবে ছিল না এবং এখনো পুরোপুরি আসেনি।
অ্যাপলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মামলাটি অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের অনেক সুবিধার মধ্যে দুটি অতিরিক্ত ফিচারের প্রাপ্যতা নিয়ে ছিল। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন পণ্য ও সেবা তৈরির কাজেই মনোযোগ রাখতে তারা বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে। তবে অ্যাপল কোনো দায় স্বীকার করেনি।
এ মামলার পেছনে আছে প্রযুক্তি দুনিয়ার চলমান এআই প্রতিযোগিতা। ওপেনএআই, অ্যানথ্রপিকসহ নতুন প্রজন্মের এআই প্রতিষ্ঠানের উত্থানের পর বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো নিজেদের পণ্যেও দ্রুত এআই সুবিধা যুক্ত করার চাপ অনুভব করছে। অ্যাপল ২০২৪ সালে ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ঘোষণা করে সেই প্রতিযোগিতায় বড়ভাবে ঢোকার বার্তা দিয়েছিল।
তবে ঘোষিত কিছু সুবিধা সময়মতো না আসায় গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে সিরির উন্নত সংস্করণ ঘিরে প্রত্যাশা ছিল বেশি। অ্যাপলের প্রচারে সিরিকে সীমিত ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে ব্যক্তিগত এআই সহকারীতে রূপান্তরের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
সমঝোতাটি এখনো আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায়। আদালত অনুমোদন দিলে যোগ্য গ্রাহকেরা দাবি জমা দিয়ে ক্ষতিপূরণ নিতে পারবেন। কতজন দাবি করেন, তার ওপরই নির্ভর করবে প্রত্যেকে শেষ পর্যন্ত কত অর্থ পাবেন।
সূত্র: রয়টার্স