Image description

রুশ সেনাবাহিনীতে এখন দুর্নীতির এক মহোৎসব চলছে। ইউক্রেন যুদ্ধে টিকে থাকা এবং মোটা অঙ্কের বেতন পকেটে পোরা—এই দুইয়ের টানাপোড়েনের মধ্যে অপ্রত্যাশিত এক অভিযোগ সামনে এসেছে এই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে।

 

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে বর্তমানে স্বেচ্ছায় সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে এককালীন প্রায় ২৫ লাখ টাকা (২.৩ মিলিয়ন রুবল) পাওয়া যায়। মাসিক বেতন দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি। তবে এই বিপুল অর্থ শেষ পর্যন্ত ভোগ করার জন্য প্রাণ বাঁচানোই এখন রুশ সেনাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই লক্ষ্য অর্জনে তারা বেছে নিচ্ছেন এক ভয়ংকর পথ—ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়া।

 

তবে এই লোভনীয় অর্থ ভোগ করতে হলে আগে বেঁচে থাকতে হবে। আর যুদ্ধক্ষেত্রে বেঁচে থাকা নিশ্চিত করতে একজন সৈন্য কী করেন? উত্তরটা খুব সহজ, কমান্ডারদের ঘুষ দেওয়া।

 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে রুশ সংবাদমাধ্যম ‘কোমারসান্ট’ সামরিক প্রসিকিউটর অফিসের একজন কর্মীকে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ করে, যিনি একজন সৈন্যকে ফ্রন্টলাইন থেকে পালাতে সাহায্য করেছিলেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ২ লাখ রুবল ঘুষের বিনিময়ে একটি জাল আদালতের সমন জারি করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে ওই সৈন্যকে বিচারের সাক্ষী হিসেবে প্রয়োজন।

 

এরপর ওই সৈন্য একাধিক চেকপোস্ট পার হয়ে শেষ পর্যন্ত রোস্তভ-অন-ডন থেকে আত্মীয়দের গাড়িতে উঠে পড়েন। নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রগুলো সংবাদমাধ্যমটিকে জানায়, এ ধরনের আরও ডজনখানেক ঘটনা থাকতে পারে।

 

রুশ সেনাবাহিনীতে ঘুষ এখন রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিখায় মদ বা মাদক আনা, যৌনকর্মী ভাড়া করা, এমনকি যুদ্ধের ডিউটি এড়াতেও সৈন্যরা টাকা দেয়। ডেসার্টার এইড ফাউন্ডেশন ‘গো থ্রু দ্য ফরেস্ট’-এর মুখপাত্র ইভান চুভিলিয়েভ ‘ইম্পর্ট্যান্ট স্টোরিজ’ নামের একটি টকশোতে বলেন, রুশ সেনাবাহিনীতে ঘুষ দিয়ে ছুটি নেওয়া একটি সাধারণ বিষয়।

 

এই সংস্থাটি রুশ পুরুষ ও সামরিক কর্মীদের নিয়োগ এড়াতে, দেশ ছাড়তে এবং আশ্রয় খুঁজে পেতে সাহায্য করে।

 

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাংবাদিকরা কিছু অবৈধ ইন্টারনেট ফোরামের সন্ধান পান, যেখানে টাকার বিনিময়ে সৈন্যদের ফ্রন্টলাইন থেকে পালাতে সাহায্য করার পরিসেবা দেওয়া হয়। এর দাম ভিন্ন ভিন্ন হলেও সাধারণত ৫ লাখ রুবল থেকে শুরু হয়। এই খরচ নির্ভর করে সৈন্যের অবস্থার ওপর—তিনি কি মোবিলাইজড, চুক্তিবদ্ধ নাকি ক্ষমা পাওয়া কয়েদি এবং তিনি কোথায় মোতায়েন আছেন (ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল নাকি রাশিয়ার কারস্ক অঞ্চল)।

 

পালানোর এই তালিকায় বড় সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন সামরিক চিকিৎসকরা। অনেক সৈন্য নিজে নিজের পায়ে বা হাতে গুলি করে আহত হয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছান। চুভিলিয়েভের মতে, সামরিক হাসপাতালগুলোতে দুর্নীতি সবচেয়ে বেশি।

 

তিনি বলেন, যে কোনো ডাক্তার পাউডারের পোড়া দাগ দেখে আত্মঘাতী গুলির ক্ষত শনাক্ত করতে পারেন। ওই সৈন্য বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ৩ হাজার ইউরোর কিছু বেশি অর্থ প্রদান করেছিলেন।

 

সূত্র: দ্য ইকোনোমিস্ট