Image description

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্‌দীন হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একই হলের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে হলের দক্ষিণ ভবনের পশ্চিম ব্লকের ১১০নং কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. রাকিবুল হাসান। তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

 

অভিযুক্তরা হলেন—মো. মাহিনুর ইসলাম (২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ, দর্শন বিভাগ) এবং মো. প্লাবন ইসলাম (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ, বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ)। মো. মাহিনুর ইসলাম কবি জসীমউদ্‌দীন হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক।

 

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, হল প্রশাসন কর্তৃক আমাকে ১১০ নম্বর কক্ষে সিট বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমার সিটে একজন বড় ভাই থাকে। তিনি হলে না থাকায় তার সিট বাতিল করে হল প্রশাসন। উনার অনুপস্থিতিতে সে সিটে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের একজন বড় ভাই থাকে। আমি উনার কাছ থেকে ভাইয়ের নম্বর নিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি।

 

তিনি আরও বলেন, কিন্তু তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এজন্য আমি আমাদের ফ্লোরের হাউস টিউটরের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে সিটে উঠে যেতে বলেন। আমি আমার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সিটে উঠে পড়ি। কিন্তু রাতে আমাকে ঘুম থেকে তুলে ভাইয়েরা অকথ্য গালিগালাজ শুরু করে। পরবর্তীতে হলের ভিপি ওসমান ভাই বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করেন।

 

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মো. মাহিনুর ইসলাম হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ব্যক্তিগত কিছু ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিষয়টিকে একটি কৃত্রিম রাজনৈতিক রূপ প্রদান করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি দীর্ঘদিন যাবত এ হলে অবস্থান করছি। আমি জুনিয়রদের স্নেহের চোখে দেখি। আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।

 

অপর শিক্ষার্থী মো. প্লাবন ইসলাম বলেন, আমি হলের বৈধ শিক্ষার্থী। আমার সেশন ২০১৯-২০। আমি পারিবারিক কারণে হলে নিয়মিত থাকতে পারি না। আমাকে কোনো কিছু না জানিয়ে হল প্রশাসন আমার সিট বাতিল করেছে। ছোট ভাইয়ের সঙ্গে আমি ভালো ব্যবহার করেছি। সিট বিষয়ক সমস্যা সমাধানের জন্য আমি তাকে নিয়ে হল অফিসে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলাম। আমাদের তরফ থেকে তার প্রতি কোনো অন্যায় করা হয়নি।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হল সংসদের একজন নেতা জানান, গত বছর ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবুও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অনেক শিক্ষার্থী হলে অবস্থান করছে। ফলে ২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের হলে সিট পেতে সমস্যা হবে। এ ছাড়াও এর ফলে গণরুম-গেস্টরুম তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

 

কবি জসীমউদ্‌দীন হলের সহসভাপতি (ভিপি) মো. ওসমান গণি বলেন, ব্যক্তিগত শত্রুতাকে কেন্দ্র করে বিষয়টিকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। আমি এ বিষয়টি সম্পর্কে হলের প্রভোস্টকে জানিয়েছি। তিনি বিষয়টি খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।

 

কবি জসীমউদ্‌দীন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহীন খান বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাত ১টার দিকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমি সংশ্লিষ্ট হাউস টিউটরকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করি। আমরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। আমাদের হলে এ রকম ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দায়মুক্তি পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আজ সন্ধ্যা ৭টায় আমরা এ বিষয়ে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।