জামায়াতের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সংসদীয় আসন পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নে জেলেদের জন্য সরকারি ভিজিএফের বরাদ্দকৃত জেলেদের প্রায় ৬ মেট্রিকটন চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ের সামনে জেলেদের উপস্থিতিতে বস্তা গণনার সময় বিষয়টি ধরা পড়ে। এ সময় ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান প্রকাশ্যে ভুল স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে ক্ষমা চান।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাউফল সংলগ্ন তেঁতুলিয়া নদীর ধুলিয়া থেকে বগী পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের অভয়াশ্রম হিসেবে ঘোষিত। মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাস নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকায় নিবন্ধিত জেলেদের জীবিকা সহায়তায় সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে মোট ৮০ কেজি চাল প্রদান করে।
কালাইয়া ইউপি সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ৯২১ জন। তাদের জন্য মোট ৭৩ দশমিক ৬৮ মেট্রিকটন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই চাল ৩০ কেজি ওজনের বস্তায় করে বৃহস্পতিবার দুপুরে কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকে ছাড় করা হয়। সে হিসাবে মোট ২ হাজার ৪৫৬ বস্তা চাল পাওয়ার কথা।
কিন্তু বিকেল ৪টার দিকে ইউপি কার্যালয়ের সামনে জেলেদের উপস্থিতিতে বস্তা গণনা করে দেখা যায়, মোট ২ হাজার ২৬৪ বস্তা রয়েছে। অর্থাৎ ১৯২ বস্তা চাল কম, যা পরিমাণে প্রায় ৫ দশমিক ৭৬ মেট্রিকটন। এর বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ ৫৯ হাজার ২০০ টাকা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার, ইউপি কার্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিক এবং তদারকি দায়িত্বে থাকা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন। তাঁদের উপস্থিতিতেই বস্তাগুলো ওয়ার্ডভিত্তিক সাজিয়ে গণনা করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, কালাইয়া খাদ্য গুদাম থেকেই সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে চালের একটি অংশ সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে জেলেদের জন্য নির্ধারিত চালের বস্তা কম পড়ে। এ বিষয়ে কথা বলতে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইকবালুর রহমানের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ইউপি কার্যালয়ের নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ‘গুদাম থেকে নির্ধারিত সব চালই গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ১৯২ বস্তা চাল কোথায় গেল, তা আমরা নিশ্চিত নই।’
তদারকি কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘ওয়ার্ডভিত্তিক বস্তা আলাদা করার পর গণনায় ঘাটতি ধরা পড়ে। নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে ১৯২ বস্তা কম পাওয়া গেছে।’
এ বিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ফিরোজ হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ভুল হয়ে গেছে। ভবিষ্যতে এমন হবে না।’ একই সঙ্গে তিনি বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’