Image description

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আরেকটি বিশ্বকাপ, আরেকটি ইতিহাস। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোল করে ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করা প্রথম ফুটবলার হলেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। হিউস্টনে গ্রুপ ‘কে’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৬ মিনিটেই পর্তুগালকে এগিয়ে দেন রোনালদো।

 

ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের চাপ নিয়েই নেমেছিল পর্তুগাল। সেই চাপ কমাতে বেশি সময় নিলেন না রোনালদো। ম্যাচের শুরু থেকেই ডান দিক দিয়ে আক্রমণ সাজাচ্ছিল রবার্তো মার্তিনেজের দল। ৬ মিনিটে সেই দিক থেকেই আসে গোলের সুযোগ।

 

ডান প্রান্তে বল পান জোয়াও কানসেলো। তাঁর ক্রস বক্সে পৌঁছাতেই ডান পায়ের শটে বল জালে পাঠান রোনালদো। গোলের পর হিউস্টন স্টেডিয়ামে দেখা যায় তাঁর চেনা উদ্‌যাপন।

 

এই গোল রোনালদোর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের নবম গোল। তবে সংখ্যার চেয়েও বড় হয়ে থাকল রেকর্ডটি। ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬—টানা ছয় বিশ্বকাপে গোল করলেন তিনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে কোনো ফুটবলার ছয়টি ভিন্ন আসরে গোল করতে পারেননি।

 

রোনালদো ও লিওনেল মেসি এবার ছয়টি বিশ্বকাপে খেলা ফুটবলারদের ছোট তালিকায় আছেন। তবে গোলের রেকর্ডে রোনালদো এখন একা। মেসি ২০১০ বিশ্বকাপে গোল করতে পারেননি। সেই জায়গায় রোনালদো ২০০৬ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপেই গোল করলেন।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই উজবেকিস্তানের ওপর চাপ তৈরি করে পর্তুগাল। ৪ মিনিটে জোয়াও ফেলিক্স ও নুনো মেন্দেসের বোঝাপড়ায় সুযোগ তৈরি হয়েছিল। নুনো মেন্দেসের ক্রসে রোনালদো অল্পের জন্য পৌঁছাতে পারেননি। ৫ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের ক্রস উজবেক রক্ষণ পরিষ্কার করে। কিন্তু পরের মিনিটেই আর রক্ষা হয়নি তাদের।

 

পর্তুগালের জন্য গোলটি শুধু এগিয়ে যাওয়া নয়, আত্মবিশ্বাস ফেরানোর মুহূর্তও। প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে আধিপত্য থাকলেও শেষ তৃতীয়াংশে ধার কম ছিল তাদের। রোনালদোও ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে শুরুতেই গোল করে সেই সমালোচনার জবাব দিলেন ৪১ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড।

 

উজবেকিস্তানের জন্য ম্যাচটি বাঁচা-মরার। বিশ্বকাপে অভিষিক্ত দলটি প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরেছিল। পর্তুগালের বিপক্ষে পয়েন্ট না পেলে শেষ ৩২-এর আশা আরও কঠিন হয়ে যাবে তাদের। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই রোনালদোর গোল ফাবিও ক্যানাভারোর দলের কাজ আরও কঠিন করে দিয়েছে।

 

পর্তুগালের গ্রুপ ‘কে’-তে পরিস্থিতি এখনো খোলা। কলম্বিয়া প্রথম ম্যাচ জিতে এগিয়ে আছে। পর্তুগাল ও ডিআর কঙ্গো এক পয়েন্ট করে পেয়েছে। উজবেকিস্তান এখনো পয়েন্টহীন। তাই এই ম্যাচে জয় পর্তুগালকে শেষ ৩২-এর পথে বড় স্বস্তি দিতে পারে।

 

তবে ম্যাচের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত ইতিমধ্যেই লিখে ফেলেছেন রোনালদো। লিওনেল মেসি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার এক দিন পর নিজের রেকর্ডের রাত পেলেন রোনালদোও। গোলসংখ্যার দৌড়ে তিনি মেসি, কিলিয়ান এমবাপে বা আর্লিং হলান্ডদের পেছনে থাকতে পারেন, কিন্তু দীর্ঘস্থায়িত্বের রেকর্ডে তিনি এখন একা।

 

ছয় বিশ্বকাপে গোল। দুই দশক ধরে বিশ্বকাপের মঞ্চে উপস্থিতি। ৪১ বছর বয়সেও সুযোগ পেলে গোল করার সামর্থ্য। হিউস্টনের শুরুটা তাই শুধু পর্তুগালের নয়, রোনালদোর ইতিহাসেরও।