বাংলাদেশের ফুটবল উন্মাদনা আবারও জায়গা পেল ফিফার চোখে। বিশ্বকাপ চলাকালে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের সমর্থকদের ছবি পোস্ট করা হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সমর্থকদের মিছিল, বিশাল আকাশি-সাদা পতাকা, ধোঁয়া-রং আর রাস্তাজুড়ে বিশ্বকাপের উৎসবমুখর পরিবেশ।
ফিফার পোস্টে বাংলাদেশি সমর্থকদের বিশ্বকাপ-আবেগই সামনে এসেছে। ছবিগুলোতে বাংলাদেশের পতাকার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার পতাকাও দেখা যায়। কোথাও সমর্থকেরা ট্রাকে দাঁড়িয়ে পতাকা ওড়াচ্ছেন, কোথাও বিশাল আর্জেন্টিনা পতাকা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। বিশ্বকাপ যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু টেলিভিশনের খেলা নয়, রাস্তায় নেমে উদ্যাপনের উৎসবও, সেই ছবিই ফুটে উঠেছে পোস্টে।
বাংলাদেশে বিশ্বকাপ মানেই বাড়তি আবেগ। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ঘিরে পাড়া-মহল্লায় পতাকা, মিছিল, দেয়ালচিত্র, বড় পর্দায় খেলা দেখা—সব মিলিয়ে প্রতি আসরেই আলাদা এক ফুটবল সংস্কৃতি তৈরি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আর্জেন্টিনার ম্যাচ ঘিরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। সেই উন্মাদনাই এবার তুলে ধরল ফিফা।
বিশেষ করে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের সমর্থকদের আবেগ বহু আগেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছে। কাতার বিশ্বকাপের সময়ও বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-সমর্থন আলোচনায় ছিল। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনও তখন বাংলাদেশি সমর্থকদের ভালোবাসার কথা স্বীকার করেছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপেও সেই আবেগ যেন আরও একবার বিশ্বমঞ্চে দেখা গেল।

বাংলাদেশের জন্য এই পোস্টের গুরুত্ব এখানেই। মাঠে বাংলাদেশ নেই, কিন্তু বিশ্বকাপের আবহে বাংলাদেশের উপস্থিতি আছে সমর্থনের রঙে, পতাকার ঢেউয়ে, রাতজাগা চোখে এবং ফুটবলপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে। ফিফার পেজে সেই ছবি উঠে আসা শুধু একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট নয়, বাংলাদেশের ফুটবল-আবেগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও।
বিশ্বকাপ তাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে শুধু ৯০ মিনিটের ম্যাচ নয়। এটি আবেগ, পরিচয়, উৎসব এবং ভালোবাসার এক বড় মঞ্চ। ফিফার পেজে বাংলাদেশের সেই ছবিই আবারও মনে করিয়ে দিল—এই দেশে ফুটবল এখনো হৃদয়ের খেলা।